সিডনী এসে যখন আমি ভয়াবহ হোমসিক, বাংলা বই পড়তে নিলেই বা বাংলা গান শুনতে নিলেই চোখ ফেটে জল আসে, বুকে টন টনে ব্যাথা, তখন ঠিক করলাম কয়েক দিনের জন্য মন ঘুরাতে হবে। মনকে কাজ দিতে হবে। মোটকা ইংরেজি বইয়ে ডুবতে হবে। যেই পণ সেই কাজ। লাইব্রেরি থেকে আনলাম 'দ্যা রুটস'। ডুবে গিয়েছিলাম ভীষণ ভাবে মনে আছে। আফ্রিকার কালো মানুষগুলোকে আমেরিকা আনার অমানুষিক গল্পে।
লেখক এলেক্স হ্যালি সম্পর্কে পড়াশোনা করতে গিয়েই দেখলাম, তিনি আরেকটা বইয়ের জন্য বিখ্যাত: '!@@!362100 !@@!362101 !@@!362102 !@@!362103 !@@!362104স'।
সেই প্রথম !@@!362109 !@@!362110 নাম শোনা। এরপরে বহু জায়গায় বহু বার ম্যালকম এক্সের নাম শুনেছি। যত শুনেছি, আমার মুগ্ধতা তত বেড়েছে, সময়ের বহু আগে ছুটে চলা আলোর মশাল হাতের মানুষটার প্রতি। একবার... একবার যদি দেখতে পেতাম সাহসী মানুষটাকে...
আমি উইকিপিডিয়ায় গিয়ে পড়ে আসতাম ম্যালকম এক্সের কোটেশন। স্কুলে হিস্ট্রি ক্লাসে আমেরিকার ইতিহাস আলোচনা করার সময় ম্যালকম এক্সের কথা আসলো ঘুরে ঘুরে।
বই আমাকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। আসলে বই না, বইয়ের চরিত্রগুলো। সত্যি জীবনেও আমি দেখি একজন মানুষের মূল্যবোধ তাকে কি করে বদলে দেয়, তাকে কি কাজ করায়, কি ভাবে ভাবায়, সেটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট। মানুষগুলোতে মূল্যবোধের সুন্দর প্রকাশ না দেখলে সেই মূল্যবোধের চেয়ে ফালতু আর কিছু মনে হয় না। যখন দেখি মূল্যবোধের সুন্দর প্রকাশ, তখন আমি বদলে যাই, সুন্দরের আকাঙ্খায়।
আসলে, কুরআন কিন্তু মানুষকে ঠিক এভাবেই বদলে দেয়। কুরআনে দুই হাজার বছর আগে থেকে মানুষের জীবন থেকে উদাহরণ দেয়া। কুরআনের কথা শুনে তাদের প্রতিক্রিয়া কি হয়েছে সেটা বলা। তারা কিভাবে প্রথমে তীব্র ভাবে অবিশ্বাস করেছে, বিদ্রুপ করেছে, হাসাহাসি করেছে এবং অবশেষে বিশ্বাস করেছে। একদম 'আমাদের' চরিত্র, আমরা নতুন কিছু হাতে পেয়ে যা করি তাই। আমরা যখনই মানুষগুলোর সাথে নিজেদের মিল খুঁজে পাই, তখনই কুরআন সফল। চরিত্রগুলোর মাধ্যমে রূপান্তর।
কুরআন প্রসঙ্গ আনলাম, কারণ কুরআন আমাকে প্রতিদিন নতুন করে মুগ্ধ করে। এখনও কুরআনের তেমন কিছুই পড়া হয় নি, কারণ আমি তল খুঁজে পাচ্ছি না। খেয়াল করেছি, কুরআন পড়তে গিয়ে আমার ভাবনা, রূপান্তর কোথাও লিখে রাখলে, বা কুরআনের কোন আয়াত ভালো লাগলে সেটায় স্টিকি নোট দিয়ে রেখে দুই মাস পরে ফিরে এসে দেখলে প্রতিক্রিয়াটা ইন্টারেস্টিং হয়।
এই সিস্টেম ফলো করার চেষ্টা করছি যে কোন সুন্দর বইয়ের ক্ষেত্রে। এখন 'অটোবায়োগ্রাফী অফ ম্যালকম এক্স' পড়া শুরু করেছি। প্রথম দিকে তেমন আগাচ্ছিল না, নানান ভাবে ডিস্ট্রাক্টেড হয়ে যাচ্ছিলাম। আজ এক ধাক্কায় ১০২ পৃষ্ঠা থেকে ১৯৪ পৃষ্ঠায় পৌছলাম। তীব্র ভালো লাগছে। আমাকে প্রতিটা লাইন ঝাঁকি দিচ্ছে, নাড়া দিচ্ছে, প্রশ্ন করছে, ভাবাচ্ছে, মুগ্ধ করছে। ভাবছি, নিয়মিত ভাবনার লগ রাখি, আমি উপকৃত হবো, পাঠকও হবেন। এই তবে শুরু।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


