গান। আমার ভালবাসা। ইসলামকে ভালবাসি, কিন্তু দেশের প্রচলিত ইসলামিক গানগুলো আমাকে টানা বন্ধ করে দিয়েছি টিনেজার হওয়ার সাথে সাথেই। মাঝে মাঝে হাসিই পেতো কিছু কিছু গান শুনে, সত্যি। অাঁতলামি আর কাকে বলে। আসলে গান ব্যপারটাকে একটা শিল্প হিসেবে না নিয়ে যখন শুধুই "প্রয়োজন" আর "জ্ঞান দানের মাধ্যম" হিসেবে নেয়া হয়, তখন নিতান্তই প্রয়োজনের খাতিরে অনেক ফালতু জিনিস গানের সীল সহ বেরিয়ে আসে। এটাই সমস্যা। তখন মনে হতো, সমরেশের বইগুলো এদের সত্যিই পড়া দরকার। কমিউনিজম প্রচারে কাষ্ঠ শুকনো অাঁতলামি দিয়ে করা নাটকগুলো সাধারন মানুষকে টানতো না কখনই। বাহবা দেয়ার জন্য থাকতো শুধু কমিউনিজমের অন্ধ-প্রেমিকগুলো। ইসলামের হামদ নাতের অবস্থা বাংলাদেশে ঠিক তাই।
একই সাথে ছিল বাদ্যযন্ত্র সংক্রান্ত বিরক্তিকর বিভ্রান্তি।
সিডনীতে এসে প্রথম পরিচিত হলাম ইউসুফ ইসলামের সাথে। সত্তরের দশকের জনপ্রিয় পপ সিঙার ক্যাট স্টিভেনস ওরফে ইউসুফ ইসলাম। তাঁর গড ইজ দ্যা লাইট গানটা সুন্দর। কয়েকবার নিজেই গেয়েছি বিভিন্ন জায়গায়। বাকি বেশির ভাগ গানই পিচ্চি পাচ্চিদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত গান। দুয়েকবার শুনতে মজা লাগে, পিচ্চিদের গিফট করতে ভাল লাগে, কিন্তু অতোটুকুই। ইরফান মাক্কীর কিছু ভাল লেগেছে, তবে অনেক গানই একটু বেশি আড়াল করা। অর্থ ধরতে সমস্যা হয়। যাইন বিখা আমাকে একেবারেই কখনই টানেনি। কখনই না। কেমন গতবাঁধা... দেশি ইসলামিক গানগুলোর কথা মনে করিয়ে দিত, বিশুদ্ধ অাঁতলামি। আমার জন্য খোদাভক্তি বা ভালবাসা কোনটাই বাড়ায় না ওঁর গান। অনেকের ভাল লাগে অবশ্য... আর দাউদ ওয়ানসবী আলি। তাঁর গানগুলো একা একা গভীর রাতে গভীর মনযোগের সাথে শোনার জন্য ভাল। সেল্ফ রিফ্লেকশনে সাহায্য করে। যেমন পিপল অফ দ্যা বক্স গানটায় তিনি অসম্ভব সুন্দর করে বদ্ধমনের উপমা দিয়েছেন। এক একটা বাক্য বুকের গভীরে গিয়ে আটকে থাকে।
সেভেন এইট সিক্স পাকিস্তানি ব্যান্ড। ওদের কিছু গান ভালই লেগেছে।
মাঝে কয়েকদিন নেটিভ দ্বীনের র্যাপ শুনেছি। র্যাপের মুশকিল হল, র্যাপ শুনলেই আমার হাসি পায়। কথাগুলো খুব চতুর, ছন্দ মাথায় আটকে থাকে। তাই মাঝে মাঝে শুনি। সোলজারস ্ওফ আল্লাহর র্যাপগুলোর ব্যপারে আমার একটা বড় অভিযোগ আছে। কোমলমতিদের মধ্যে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে ঘৃনা ছড়ানো, তাদের "দে" (তারা) বলে সম্বোধন করে প্রতিটা গানে। এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ঢালা্ও ঘৃনাবোধই চরমপন্থীদের তৈরি করে।
আর একজনের গান খুব ভাল লেগেছে-- আহমেদ বুখাতির। লাস্ট ব্রেথ (শেষ নি:শ্বাস) গানটা মন লাগিয়ে শুনলে শিহরন জাগে। ভদ্রলোকের কন্ঠের কাজও ভাল।
যাদের কথা বললাম, তাদের মধ্যে ইউসুফ ইসলাম, দাঊদ ওয়ানসবী আলি এদের কপি রাইট নেই। বাকিদের আমি যতটুকু জানি নেই।
আর... একই সাথে কোরআন তেল্ওয়াতের কথা্ও বলি।
সত্যি বলতে কি, কোরআন তেল্ওয়াত মন লাগিয়ে শোনা, শুনে ভিতরের কিছু নড়ে যা্ওয়া, আমি কখনই এই টাইপের মেয়ে ছিলাম না। বাংলাদেশের গতানুগতিক ক্বারীদের তেল্ওয়াত শুনে কখনও হৃদয়ে মনে গভীর ভক্তি হয় নি। অথচ এখন একজন ক্বারীর তেল্ওয়াত আমি সময় পেলেই শুনি। হৃদয় মনে শান্তি আসে সত্যি। চোখে পানিও আসে। আমার এম পি 3 প্লেয়ারে আছে ভদ্রলোকের তেল্ওয়াত। অসাধারন। নাম মিশারী রাশিদ-আল-আফসেই। গলার কারুকাজ অদ্ভুত, অদ্ভুত সুন্দর। কেউ শুনতে চাইলে সবার আগে শুনবেন সুরা আসসফ। আমি সেটাই প্রথম শুনেছি। সুরা হুমাজাহের উদাহরন দিয়ে একটা জিনিস বুঝাই। এই ভদ্রলোক, কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী কন্ঠ উঠা নামা করান, থামেন। অর্থ মিলিয়ে দেখেন, এক জায়গায় আছে, "কাল্লা লায়ুম বাযান্না ফীল হুতামা" (কখ্খন্ও না, তারা পতিত হবে হুতামায়)... যদি্ও "কখখন্ও না" এর পরে কোন বিরতি চিহ্ন নেই, মিশারী এই জায়গায় চমতকার একটা পজ নেন, নিবেদনটা দারুন। তাঁর তেল্ওয়াতগুলো পাবেন এখানে:
http://english.islamway.com/bindex.php? section=echapters&recitor_id=175
আমার সবচেয়ে প্রিয় ইসলামিক গানের গায়ক অবশ্যই সামী ইউসুফ... লিখব তাঁকে নিয়ে খুব শীঘ্রই ইনশাল্লাহ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


