somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিষোধ

০৫ ই মে, ২০২১ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
প্রতিষোধ

লেখকঃমোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল

মোহাম্মদ আজাদ

সুধানগর গ্রামের মানুষ অনেক আগে থেকেই পানির জন্য কুয়ো ব্যবহার করত। কিন্তু টিউবওয়েল আসার পর থেকে কুয়োর ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে। আবার কুয়োর পানি অনেকেই ব্যবহার করে। তরকারী রান্নার সময় কুয়োর পানির চাইতে ভালো কিছু আর হতেই পারে না। তেমনি একদিন এক মহিলা সকাল বেলায় কুয়োর পানি নেওয়ার জন্য বালতি ফালালেন। কিন্তু পানি তোলার পর দেখলেন বালতির পানি লাল হয়ে আছে। মহিলাটি প্রথমে কিছু মনে করলেন না। বালতির সবটুকো পানি ফেলে দিয়ে আবার কুয়োতে বালতি ফালালেন। কিন্তু একই অবস্থা। বালতির পানি লাল। মহিলাটি মনে মনে ভাবলেন, কেউ মনে হয় পানিতে রঙ ফেলেছে। এমনকি যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে তিনি গালি দিতে লাগলেন। মহিলাটি চলে গেল।

অনেকেই কুয়োতে পানি নিতে এসেছিল কিন্তু কেউ পানি নিতে পারে নি।

৪-৫ দিন পর মহিলারা পানি তোলার জন্য গিয়ে কুয়োতে বালতি ফেলে পানি তুলল। কিন্তু এইবার পানির রঙ একটু কালো হয়েছে। আর পানিতে প্রচুর দুরঘন্ধ সবাই মনে করল কোন প্রাণী মরে পচে আছে। যার কারণে দুরঘন্ধ ছড়াচ্ছে। গ্রামের মানুষ তাই কুয়োর পানির ব্যাবহার বন্ধ করে দিতে চাইল।

সবাই টিউবওয়েল থেকে পানি আনা নেওয়া করে। কিন্তু কুয়ো ছাড়া গ্রামের মানুষের পানির অভাব রয়ে গেল। কারণ সব বাড়িতেই তখন টিউবওয়েল ছিল না। তাই কিছু গামের যুবকরা উদ্বেগ নিল যে তারা কুয়োর সবটুকো পানি সেচে ফেলে দিবে। সবাই একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামের কিছু যুবকেরা বাড়ি থেকে বালতি ও দড়ি আনল। তারপর তারা কাগ শুরু করে দিল। ২ জন লোক পানি তোলার কাজ করছে। আর অন্যরা পানি নিয়ে অন্য কোথাও ফেলে দিয়ে আসছে।

সবারই খুব কষ্ট হচ্ছে। কুয়োর পানি সেচ দেওয়া তো সহজ কথা নয়। আবার মারির নিচ থেকে পানি উঠে পরে। বিকাল পর্যন্ত তারা কুয়োর পানি সেচ করল। কিন্তু সারাদিন পানি সেচ করার পরেও যদি কুয়োতে পড়া প্রাণীটা না উঠানো যায় তবে পরিশ্রমের কোন মূল্যই রইল না। তাই তারা আরো কিছুক্ষণ কাজ করতে লাগল।

অনেক্ষন কাজ করার পর তারা খেয়াল করল। মানুষের মতো যেন মাথা দেখা যায়। তারপর বালতি দিয়ে সেটা উঠানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু পারল না। তারা খেয়াল করল আস্তে আস্তে সেটা ভেসে উঠছে। তারপর সেটা মানুষের আকার ধারণ করল। গ্রামের লোকজন সকলেই অবাক হয়ে গেল। কুয়োর ভেতরে একটা বাচ্চা মেয়ের লাশ। তার দেহে কাঁটা দাগ। কেউ যেন তাকে দা দিয়ে কুপিয়েতে। গ্রামের সকল মানুষের কাছে খবর চলে এল। লোকজন সেটা দেখতে এলো। মেয়েটার লাশটা পচে সাদা হয়ে আছে। তখন মানুষ বুঝতে পারল কিসের জন্য কুয়োর পানি লাল হয়ে ছিল।

মেয়েটার ঠিকানাও কেউ জানে না। তবে এটা তারা বুঝতে পারল যে কেউ হয়তো মেয়েটাকে খুন করে এই কুয়োতে ফেলে দিয়ে গেছে। অনেক মানুষ দেখতে এল। মেয়েটার লাশ বেশিক্ষণ রেখে দিলেই পচে যাবে। কেউ থানা পুলিশ করার সাহস পেল না। মেয়েটাকে দাফন করার জন্য টাকা পয়সা দরকার । সবাই কিছু কিছু দিয়ে বাজার থেকে কাফনের কাপড় কিনে

আনল।

কাজ করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেল। অবশেষে প্রায় রাত ১০ টার (অনুমানে, কারণ তখন সবার কাছে ঘড়ি ছিল না) জানাজার নামাজ পড়িয়ে কবর দেওয়া হল। সবাই সবার বাড়ি চলে গেল। রইল শুধু অজানা মেয়ের কবরটা।



৭ দিন আগের ঘটনা............



সুধানগর গ্রাম থেকে ৩ মাইল দূরে রামপুর গ্রাম। গ্রামের মানুষ অতটা ভালো বললেও অনেক লোক আবার খুব খারাপ। তার মধ্যে একজন হল কাদের। কাদের রাতের বেলা বেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। মদ গাঁজা খায়। আবার রাতের বেলায় মাতাল হয়ে আবল তাবল বলতে বলতে বাড়িতে ফিরে আসে। কাদেরের বউ খুব ভাল মানুষ। কিন্তু কাদেরের এই অচালনে কাদেরের বউ এখন পাগল পাগল বেশ ধরেছে। এমনিতে বউটা খুব ভাল। রান্না বান্না থেকে শুরু করে ঘড় দোয়ার পরিষ্কার করা সহ সকর কাজ করে। কিন্তু কাদের তার রান্না মোটেও পছন্দ করে না। সারাদিন মদ খেয়ে একটু সাধারণ খাবার খেলেই ঝালে মরে যায় আর আলুনের মতো লাগে। মাঝে মাঝেই তার বউয়ের সাথে ঝগড়া করে।

কাদেরের ছোট্ট মেয়ের নাম হাফিজা । হাফিজার মতো মেয়েরা হাফিজাকে নিয়ে টিটকারি করে। বলে, হাফিজার বাবা মদ খায়। মাতালের মেয়ে ইত্যাদি বলে ঠাট্টা করে। মাঝে মাঝেই হাফিজা দরজা বন্ধ করে মুখ লুকিয়ে কান্না করে।

একদিন হাফিজা তার বাবাকে বলেছিল, আর মদ খেও না।

কিন্তু তার বাবা তাকে খুব মেরে ছিল। হাফিজা সেই দুঃখ এখনো ভোলেনি। কাদের তার বউকেও মাঝে মাঝে মারে।

সেই রাতের মতো একদিন রাতে কাদেরের বউয়ের খুব জ্বর। পাশে হাফিজা বসা। কাদের বাড়িতে নেই। বাড়িতে টাকা পয়সা নেই। ওষুধ কেনার টাকা নেই। হাফিজার রাতে ঘুম আসছে না। হাফিজার মা জ্বরে কোকাচ্ছে। হাফিজার মা রান্না করতে পারে নি। রাত ১ টা নাগাদ কাদের আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরে। এমনকি আগের দিনের মতোও নেশা করে বাড়ি ফিরে এসেছে। এসেই দেখে কাদেরের বউ শুয়ে আছে।

কিরে শুয়ে আছিস কেন?

বাবা, মার অনেক জ্বর। একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও না!

চুপ... মুখে মুখে কথা।

তোর মাকে বল ভাত বেড়ে দিতে।

মা রান্না করতে পারে নি।

এই কথা শোনার পর যেন হাফিজার মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কাদের। হাফিজার মা নিস্তেজ হয়ে আছে। কাদের তাকে কিল ,ঘুষি, ও লাথি দিতে লাগল। কিন্তু কাদেরের বউ আধামরা হয়ে আছে। হাফিজা ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু তার বাবার শক্তির তুলনায় হাফিজার শক্তি কিছুই না। হাফিজা কাদেরের হাতের মধ্যে একটা জোরে কামর দিল। রাগের মাথায় হাফিজার মাকে ছেড়ে দিয়ে হাফিজাকে ধরে ফেলল। হাফিজা ছাড়াতে চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। কাদেরের মাথায় হুস ছিল না। হাফিজাকে চেপে ধরে কি দিয়ে যেন একটা আঘাত করল। হাফিজা মারা গেল। হাফিজা মারা যাওয়ার পর কাদেরের মাথা থেকে সেই শয়তানটা চলে যায়। তখন কাদেরের হুস ফিরে আসে। কাদের এইবার খেয়াল করল তার হাতে রক্তাত্ব দা। হাফিজার মা অজ্ঞান হয়ে আছে। কাদের এখন কি করবে! ভয়ে এখন তার গা হিম হয়ে আছে। কাদের কখনো মানুষ খুন করে নি। কাদের হাফিজাকে নিয়ে ভাবতে লাগল। কি করবে এখন বুঝতে পারছে না।

রাত ২ টার দিকে কাঁধে করে বাইরে নিয়ে গেল হাফিজাকে। হাফিজাকে গর্ত করে পুতে রাখলে মানুষ দিনের বেলা সন্দেহ করবে। কাদের মত পালটাল। কাদের আরো হাটতে লাগল। সামনে সুধানগর গ্রাম। কাদের লাশ নিয়ে সুধানগর গ্রামে প্রবেশ করল। এখানে এসে কাদের কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। অবশেষে কাদের হাফিজার লাশটাকে সুধানগর গ্রামের কুয়োর মধ্যে ফেলে দিল।

কাদেরের বউয়ের শরীরটা জ্বরে নিথর হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু কাদের কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। কেউ যদি হাফিজাকে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তবে তো কাদেরের জেল হয়ে যাবে। কাদেরের মনে হল মাথার চুল ছিরে ফেলতে। রাগের মাথায় তার মেয়েকে চিরদিনের জন্য হারাল।



প্রায় ২ বছর পর.........



কাদের হাফিজাকে প্রায় ভুলে গেছে। কিন্তু তার অভ্যাসটা তেমনি রয়েছে। কাদেরের বউ সে বছর মারা গিয়েছিল। মারা যাওয়ার সময় কাদেরকে বলেছিল ভাল হয়ে যেতে। কিন্তু কাদের চেষ্টা করেও ভাল হতে পারে নি। এখনো কাদের রাতের বেলায় আড্ডা দেয়। কাদের নতুন বিয়ে করেছে। নতুন বউ জানে না যে কাদের এতো খারাপ লোক।

একদিন কাদের রাতের বেলা আগের দিনের মতো আড্ডা দিচ্ছিল । অনেক মদ খাওয়ার পর একসময় মাথাটা কেমন জানি চক্কর দিল। মাথা চক্কর দেওয়া নতুন কিছু না। অনেক সময়ই তার মাথা ঘুরায়। কিন্তু আজকে কেমন জানি একটু বেশিই খারাপ লাগছে।

কাদের বলল, তোরা থাক ! আমি চলি।

আরে এখনি কোথায় যাবি? আরে বেশি রাতই তো হল না!

আরে! মাথাটা বড্ড ঘুড়াচ্ছে। আমি বরং চলি , তোরা থাক।

এতো দিন কাদের আড্ডা দিতে দিতে সবাই মিলে একসাথে বাড়িতে গেছে। সবার কাছে লাইট থাকে বলে কাদের লাইট আনে না। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মদ্যে কাদের এগোচ্ছে। একটু চাদের আলোও আজকে নেই। সমনেই বিশাল একটা পুকুর। গা ছমছমে ব্যাপার। পুকুর পার থেকে ঠান্ডা বাতাস কাদেরের গায়ে লাগছে। কাদের তাড়াতাড়ি হাটতে লাগল। পুকুর পারে আসার পর কাদের খেয়াল করল একটা ছোট্ট মেয়ে একটা গাছের নিচে বসে আছে। কাদেরের ভয় একটু কমেছে। মেয়েটার পাশে গিয়ে কাদের বলল, এতো রাতে তুমি এখানে কি করছ? তারপর মেয়েটা কাদেরের দিকে তাকায়। কিন্তু যা দেখল তা দেখে কাদেরের গা পাথর হয়ে গেল। এটা-তো কাদেরের মেয়ে হাফিজা। কাদের খেয়াল করল তার গায়ে দা দিয়ে কোপানোর চিহ্ন। কাদের দৌরে পালাতে লাগল। কিন্তু কাদের খেয়াল করল কে জেল তাকে শক্ত করে ধরে আছে। কাদের পিছন দিকে তাকাল। কাদের ২ জন মানুষ দেখতে পেল। একটি হল হাফিজা আর একটি হল তা মা।

কাদের চিৎকার করে বলল, আমাকে ছেরে দাও। আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি। কাদেরের বউ বলল, তোর অবহেলার কাড়নেই আমরা বেচে নেই। এইবার তোর পালা। কাদের বলল, আমাকে মাফ করে দাও। কাদেরের বউ বলল, যেই কাজ তুই করে ফেলেছিস সেই কাজ এর ক্ষমা তুই কোনদিন পাবি না।

কাদের আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে এক্ষণই পরে যাবে। কাদের দৌড়াতে পারছে না। ২ জন কাদেরের দিকে এগিয়ে আসছে। কিন্তু কাদের কিছু করতে পারছে না। এক সময় কাদের মাটিতে পরে যায়। ধপাস করে কাদের পরে গেল। কাদের খেয়াল করল তারা তার পাশে বসল। বসার পর তারা তার হাতটা বুকের উপর ধরে বুকটা চিড়তে লাগল। বুক ফেটে রক্ত বের হতে লাগল। কাদের নিজের হ্রৎস্পন্দন দেখতে পেল। একসময় কাদেরের হ্রৎপৃন্ড চিরদিনের নামে থেমে গেল।

সকাল বেলা পুকুর পারে পাওয়া গেল কাদেরের লাশ। কেন মারা গেল কেউ বুঝতেই পারে নি। কারণ কাদেরের দেহে কোন ক্ষত চিহ্ন ছিল না।

[img|] প্রতিষোধ

লেখকঃমোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল

মোহাম্মদ আজাদ

সুধানগর গ্রামের মানুষ অনেক আগে থেকেই পানির জন্য কুয়ো ব্যবহার করত। কিন্তু টিউবওয়েল আসার পর থেকে কুয়োর ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে। আবার কুয়োর পানি অনেকেই ব্যবহার করে। তরকারী রান্নার সময় কুয়োর পানির চাইতে ভালো কিছু আর হতেই পারে না। তেমনি একদিন এক মহিলা সকাল বেলায় কুয়োর পানি নেওয়ার জন্য বালতি ফালালেন। কিন্তু পানি তোলার পর দেখলেন বালতির পানি লাল হয়ে আছে। মহিলাটি প্রথমে কিছু মনে করলেন না। বালতির সবটুকো পানি ফেলে দিয়ে আবার কুয়োতে বালতি ফালালেন। কিন্তু একই অবস্থা। বালতির পানি লাল। মহিলাটি মনে মনে ভাবলেন, কেউ মনে হয় পানিতে রঙ ফেলেছে। এমনকি যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে তিনি গালি দিতে লাগলেন। মহিলাটি চলে গেল।

অনেকেই কুয়োতে পানি নিতে এসেছিল কিন্তু কেউ পানি নিতে পারে নি।

৪-৫ দিন পর মহিলারা পানি তোলার জন্য গিয়ে কুয়োতে বালতি ফেলে পানি তুলল। কিন্তু এইবার পানির রঙ একটু কালো হয়েছে। আর পানিতে প্রচুর দুরঘন্ধ সবাই মনে করল কোন প্রাণী মরে পচে আছে। যার কারণে দুরঘন্ধ ছড়াচ্ছে। গ্রামের মানুষ তাই কুয়োর পানির ব্যাবহার বন্ধ করে দিতে চাইল।

সবাই টিউবওয়েল থেকে পানি আনা নেওয়া করে। কিন্তু কুয়ো ছাড়া গ্রামের মানুষের পানির অভাব রয়ে গেল। কারণ সব বাড়িতেই তখন টিউবওয়েল ছিল না। তাই কিছু গামের যুবকরা উদ্বেগ নিল যে তারা কুয়োর সবটুকো পানি সেচে ফেলে দিবে। সবাই একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামের কিছু যুবকেরা বাড়ি থেকে বালতি ও দড়ি আনল। তারপর তারা কাগ শুরু করে দিল। ২ জন লোক পানি তোলার কাজ করছে। আর অন্যরা পানি নিয়ে অন্য কোথাও ফেলে দিয়ে আসছে।

সবারই খুব কষ্ট হচ্ছে। কুয়োর পানি সেচ দেওয়া তো সহজ কথা নয়। আবার মারির নিচ থেকে পানি উঠে পরে। বিকাল পর্যন্ত তারা কুয়োর পানি সেচ করল। কিন্তু সারাদিন পানি সেচ করার পরেও যদি কুয়োতে পড়া প্রাণীটা না উঠানো যায় তবে পরিশ্রমের কোন মূল্যই রইল না। তাই তারা আরো কিছুক্ষণ কাজ করতে লাগল।

অনেক্ষন কাজ করার পর তারা খেয়াল করল। মানুষের মতো যেন মাথা দেখা যায়। তারপর বালতি দিয়ে সেটা উঠানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু পারল না। তারা খেয়াল করল আস্তে আস্তে সেটা ভেসে উঠছে। তারপর সেটা মানুষের আকার ধারণ করল। গ্রামের লোকজন সকলেই অবাক হয়ে গেল। কুয়োর ভেতরে একটা বাচ্চা মেয়ের লাশ। তার দেহে কাঁটা দাগ। কেউ যেন তাকে দা দিয়ে কুপিয়েতে। গ্রামের সকল মানুষের কাছে খবর চলে এল। লোকজন সেটা দেখতে এলো। মেয়েটার লাশটা পচে সাদা হয়ে আছে। তখন মানুষ বুঝতে পারল কিসের জন্য কুয়োর পানি লাল হয়ে ছিল।

মেয়েটার ঠিকানাও কেউ জানে না। তবে এটা তারা বুঝতে পারল যে কেউ হয়তো মেয়েটাকে খুন করে এই কুয়োতে ফেলে দিয়ে গেছে। অনেক মানুষ দেখতে এল। মেয়েটার লাশ বেশিক্ষণ রেখে দিলেই পচে যাবে। কেউ থানা পুলিশ করার সাহস পেল না। মেয়েটাকে দাফন করার জন্য টাকা পয়সা দরকার । সবাই কিছু কিছু দিয়ে বাজার থেকে কাফনের কাপড় কিনে

আনল।

কাজ করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেল। অবশেষে প্রায় রাত ১০ টার (অনুমানে, কারণ তখন সবার কাছে ঘড়ি ছিল না) জানাজার নামাজ পড়িয়ে কবর দেওয়া হল। সবাই সবার বাড়ি চলে গেল। রইল শুধু অজানা মেয়ের কবরটা।



৭ দিন আগের ঘটনা............



সুধানগর গ্রাম থেকে ৩ মাইল দূরে রামপুর গ্রাম। গ্রামের মানুষ অতটা ভালো বললেও অনেক লোক আবার খুব খারাপ। তার মধ্যে একজন হল কাদের। কাদের রাতের বেলা বেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। মদ গাঁজা খায়। আবার রাতের বেলায় মাতাল হয়ে আবল তাবল বলতে বলতে বাড়িতে ফিরে আসে। কাদেরের বউ খুব ভাল মানুষ। কিন্তু কাদেরের এই অচালনে কাদেরের বউ এখন পাগল পাগল বেশ ধরেছে। এমনিতে বউটা খুব ভাল। রান্না বান্না থেকে শুরু করে ঘড় দোয়ার পরিষ্কার করা সহ সকর কাজ করে। কিন্তু কাদের তার রান্না মোটেও পছন্দ করে না। সারাদিন মদ খেয়ে একটু সাধারণ খাবার খেলেই ঝালে মরে যায় আর আলুনের মতো লাগে। মাঝে মাঝেই তার বউয়ের সাথে ঝগড়া করে।

কাদেরের ছোট্ট মেয়ের নাম হাফিজা । হাফিজার মতো মেয়েরা হাফিজাকে নিয়ে টিটকারি করে। বলে, হাফিজার বাবা মদ খায়। মাতালের মেয়ে ইত্যাদি বলে ঠাট্টা করে। মাঝে মাঝেই হাফিজা দরজা বন্ধ করে মুখ লুকিয়ে কান্না করে।

একদিন হাফিজা তার বাবাকে বলেছিল, আর মদ খেও না।

কিন্তু তার বাবা তাকে খুব মেরে ছিল। হাফিজা সেই দুঃখ এখনো ভোলেনি। কাদের তার বউকেও মাঝে মাঝে মারে।

সেই রাতের মতো একদিন রাতে কাদেরের বউয়ের খুব জ্বর। পাশে হাফিজা বসা। কাদের বাড়িতে নেই। বাড়িতে টাকা পয়সা নেই। ওষুধ কেনার টাকা নেই। হাফিজার রাতে ঘুম আসছে না। হাফিজার মা জ্বরে কোকাচ্ছে। হাফিজার মা রান্না করতে পারে নি। রাত ১ টা নাগাদ কাদের আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরে। এমনকি আগের দিনের মতোও নেশা করে বাড়ি ফিরে এসেছে। এসেই দেখে কাদেরের বউ শুয়ে আছে।

কিরে শুয়ে আছিস কেন?

বাবা, মার অনেক জ্বর। একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও না!

চুপ... মুখে মুখে কথা।

তোর মাকে বল ভাত বেড়ে দিতে।

মা রান্না করতে পারে নি।

এই কথা শোনার পর যেন হাফিজার মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কাদের। হাফিজার মা নিস্তেজ হয়ে আছে। কাদের তাকে কিল ,ঘুষি, ও লাথি দিতে লাগল। কিন্তু কাদেরের বউ আধামরা হয়ে আছে। হাফিজা ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু তার বাবার শক্তির তুলনায় হাফিজার শক্তি কিছুই না। হাফিজা কাদেরের হাতের মধ্যে একটা জোরে কামর দিল। রাগের মাথায় হাফিজার মাকে ছেড়ে দিয়ে হাফিজাকে ধরে ফেলল। হাফিজা ছাড়াতে চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। কাদেরের মাথায় হুস ছিল না। হাফিজাকে চেপে ধরে কি দিয়ে যেন একটা আঘাত করল। হাফিজা মারা গেল। হাফিজা মারা যাওয়ার পর কাদেরের মাথা থেকে সেই শয়তানটা চলে যায়। তখন কাদেরের হুস ফিরে আসে। কাদের এইবার খেয়াল করল তার হাতে রক্তাত্ব দা। হাফিজার মা অজ্ঞান হয়ে আছে। কাদের এখন কি করবে! ভয়ে এখন তার গা হিম হয়ে আছে। কাদের কখনো মানুষ খুন করে নি। কাদের হাফিজাকে নিয়ে ভাবতে লাগল। কি করবে এখন বুঝতে পারছে না।

রাত ২ টার দিকে কাঁধে করে বাইরে নিয়ে গেল হাফিজাকে। হাফিজাকে গর্ত করে পুতে রাখলে মানুষ দিনের বেলা সন্দেহ করবে। কাদের মত পালটাল। কাদের আরো হাটতে লাগল। সামনে সুধানগর গ্রাম। কাদের লাশ নিয়ে সুধানগর গ্রামে প্রবেশ করল। এখানে এসে কাদের কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। অবশেষে কাদের হাফিজার লাশটাকে সুধানগর গ্রামের কুয়োর মধ্যে ফেলে দিল।

কাদেরের বউয়ের শরীরটা জ্বরে নিথর হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু কাদের কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। কেউ যদি হাফিজাকে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তবে তো কাদেরের জেল হয়ে যাবে। কাদেরের মনে হল মাথার চুল ছিরে ফেলতে। রাগের মাথায় তার মেয়েকে চিরদিনের জন্য হারাল।



প্রায় ২ বছর পর.........



কাদের হাফিজাকে প্রায় ভুলে গেছে। কিন্তু তার অভ্যাসটা তেমনি রয়েছে। কাদেরের বউ সে বছর মারা গিয়েছিল। মারা যাওয়ার সময় কাদেরকে বলেছিল ভাল হয়ে যেতে। কিন্তু কাদের চেষ্টা করেও ভাল হতে পারে নি। এখনো কাদের রাতের বেলায় আড্ডা দেয়। কাদের নতুন বিয়ে করেছে। নতুন বউ জানে না যে কাদের এতো খারাপ লোক।

একদিন কাদের রাতের বেলা আগের দিনের মতো আড্ডা দিচ্ছিল । অনেক মদ খাওয়ার পর একসময় মাথাটা কেমন জানি চক্কর দিল। মাথা চক্কর দেওয়া নতুন কিছু না। অনেক সময়ই তার মাথা ঘুরায়। কিন্তু আজকে কেমন জানি একটু বেশিই খারাপ লাগছে।

কাদের বলল, তোরা থাক ! আমি চলি।

আরে এখনি কোথায় যাবি? আরে বেশি রাতই তো হল না!

আরে! মাথাটা বড্ড ঘুড়াচ্ছে। আমি বরং চলি , তোরা থাক।

এতো দিন কাদের আড্ডা দিতে দিতে সবাই মিলে একসাথে বাড়িতে গেছে। সবার কাছে লাইট থাকে বলে কাদের লাইট আনে না। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মদ্যে কাদের এগোচ্ছে। একটু চাদের আলোও আজকে নেই। সমনেই বিশাল একটা পুকুর। গা ছমছমে ব্যাপার। পুকুর পার থেকে ঠান্ডা বাতাস কাদেরের গায়ে লাগছে। কাদের তাড়াতাড়ি হাটতে লাগল। পুকুর পারে আসার পর কাদের খেয়াল করল একটা ছোট্ট মেয়ে একটা গাছের নিচে বসে আছে। কাদেরের ভয় একটু কমেছে। মেয়েটার পাশে গিয়ে কাদের বলল, এতো রাতে তুমি এখানে কি করছ? তারপর মেয়েটা কাদেরের দিকে তাকায়। কিন্তু যা দেখল তা দেখে কাদেরের গা পাথর হয়ে গেল। এটা-তো কাদেরের মেয়ে হাফিজা। কাদের খেয়াল করল তার গায়ে দা দিয়ে কোপানোর চিহ্ন। কাদের দৌরে পালাতে লাগল। কিন্তু কাদের খেয়াল করল কে জেল তাকে শক্ত করে ধরে আছে। কাদের পিছন দিকে তাকাল। কাদের ২ জন মানুষ দেখতে পেল। একটি হল হাফিজা আর একটি হল তা মা।

কাদের চিৎকার করে বলল, আমাকে ছেরে দাও। আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি। কাদেরের বউ বলল, তোর অবহেলার কাড়নেই আমরা বেচে নেই। এইবার তোর পালা। কাদের বলল, আমাকে মাফ করে দাও। কাদেরের বউ বলল, যেই কাজ তুই করে ফেলেছিস সেই কাজ এর ক্ষমা তুই কোনদিন পাবি না।

কাদের আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে এক্ষণই পরে যাবে। কাদের দৌড়াতে পারছে না। ২ জন কাদেরের দিকে এগিয়ে আসছে। কিন্তু কাদের কিছু করতে পারছে না। এক সময় কাদের মাটিতে পরে যায়। ধপাস করে কাদের পরে গেল। কাদের খেয়াল করল তারা তার পাশে বসল। বসার পর তারা তার হাতটা বুকের উপর ধরে বুকটা চিড়তে লাগল। বুক ফেটে রক্ত বের হতে লাগল। কাদের নিজের হ্রৎস্পন্দন দেখতে পেল। একসময় কাদেরের হ্রৎপৃন্ড চিরদিনের নামে থেমে গেল।

সকাল বেলা পুকুর পারে পাওয়া গেল কাদেরের লাশ। কেন মারা গেল কেউ বুঝতেই পারে নি। কারণ কাদেরের দেহে কোন ক্ষত চিহ্ন ছিল না।

[img|]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২১ রাত ১০:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×