somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধার-কৃষ্ণ-ভ্রমর

২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বড়বোন, আমাদের পরিবারের প্রথম সন্তান, ও যখন পৃথিবীতে এল তখন ওকে প্রথম দেখায় সবাই বলল,"এত সুন্দর বাচ্চা! এতো সাক্ষাত মা দূর্গারে!"। আবার আমার ভাই যখন এল, তখন সবাই ওকে কার্তিক হয়তো বলেনি কিন্তু সবার মুখে কলধ্বনি উঠেছিল, "দেখেছিস বাচ্চাটা একদম পুতুলের মত হয়েছে, কী বড় বড় চোখ, এই ছেলে বড় হলে রমনীমোহন হবে!" আমার জন্মের সময় এতটা উচ্ছ্বাস কোন দূর্গে, কোন মহলেই হয়নি, শুধু আমার বড়বোন প্রথমবারের মতো মা দূর্গতিনাশিনী হয়ে আমাকে সত্যিকার ভালবাসাটুকু দিয়েছিল। আমাদের দেবশিশু পরিবারে আমি যেন অসুর কিংবা মূষিক হয়ে জন্মেছিলাম। কেউ আমার সাথে আমার মা-বাবার চেহারার কোন মিল খুঁজে পায়না।তাতে অবশ্য সমস্যা খুব একটা হয়নি বরং আমি খুব আদরে আদরে মানুষ হয়েছি, কিন্তু আমার ছোট্টবেলার এই জাতীয় অভিজ্ঞতাগুলো মাঝে মাঝেই মনে পড়ে।
ঐদিন ক্লাসে স্যার কি এক কারণে বলছিলেন যাদের শরীরে মেলানিন বেশি থাকে তাদের স্কিন ডিজিজ কম হয়...... আমি তখন দাঁত বের করে পাশের জনকে বলেছিলাম," সে হিসেবে আমার চর্মরোগ সবচেয়ে কম হবার কথা!" আরেকজন, যে কথাটা শুনেছিল, সে চারদিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করে ফেলে যে আমাদের গ্রুপে আমিই হলাম সবচাইতে কালো!
আসলে আজ সাদা-কালো,হলুদ-নীল কিংবা এসবের জন্য পারিবারিক বৈষম্য নিয়ে বকবক করতে বসিনি। আজ আমি নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে বসেছি, আমার প্রেয়সী শশীকে ভালবাসার কিছু কথা বলতে বসেছি।লেখার প্ল্যানটা আসলেই এভাবে ছিলনা.....কীভাবে ছিল, ঠিক সেটাও বলতে পারব না। আমি শুধু বলতে চেয়েছি_

শশী, তুমি জানতো শচীন কর্তা কি বলেছিলেন? বলেছিলেন,
"নিশীথে যাইও ফুলবনে রে ভ্রমরা
নিশীথে যাইও ফুলবনে.....
জ্বালাইয়া চান্দেরও বাতি, জেগে রব সারা রাতি গো,
আমি কব কথা, আমি কব কথা শিশিরেরও সনে রে ভ্রমরা"
বুঝলে তো গানটা? না বোঝার কিছু নেই অবশ্য, তোমার-আমার বহুদিনের দেখা হাজারো স্বপ্নের একটা রূপ এটা।ভালবাসার নন্দন কাননে আমি আমার চন্দ্রসখীর মুখ দেখে দেখে, সারা রাত্রি জেগে আমার শারদ শিশিরের সাথে কথা বলব... আর ভ্রমরা? তোর ভ্রমরাটা যে আমি সেটা বোঝাতেই তো শুরুতে গায়ের রং নিয়ে এত ক্যাচাল!

আমার ধর্ম যেটাই হোক বর্ণ যে ঘোরতর কৃষ্ণ বর্ণ, তা বলতে আমার ঠিকুজি দেখতে হয় না, আমার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তাই আমি যে তোর কৃষ্ণ হব, এটা আর বিচিত্র কি? আমি বাঁশি বাজিয়ে তোকে উতলা করে ঘর থেকে তুলে নিয়ে আসব, আমার সাথে যতক্ষণ থাকবি ততক্ষণ তোকে ভালবাসার আগুনে জ্বালাবো, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে আবার যাবার সময় তোর শরীরে শিরায় শিরায় ঢুকিয়ে দিয়ে যাব বিরহের বিষ! তুই তখন গাইতে বাধ্য হবি:
"ভ্রমর কইও গিয়া.... শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে.... অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে...."
আবার সেই ভ্রমরকেই ডাকতে হবে তোর! আমি ভ্রমর হয়ে তোর হৃদয়ে হুল ফোটাবো,তাই আমার প্রেমে পাগল হতে তোর জন্য লাগবে না আর কোন কিউপিড... ভ্রমর হব আমি, কৃষ্ণ হব আমি; তোর জগৎ হবে আমিময়।

তোমাকে ফোন করেছিলাম, বললে ফোনে চার্জ নেই।চার্জ দিতে বলায় বললে লোডশেডিং। আমি তখন বুঝি তোমার চারদিকে আঁধার ঘিরে আছে। তোমার চোখের পাতায় আঁধার, তোমার চিবুক ছুঁয়ে আঁধার, তোমার চুলের গোড়ায় আঁধার, তোমার পায়ের পাতা,হাতের চুড়ি,হাসির ঠোঁট, গালের তিল সবখানে শুধু আঁধারই আঁধার...... এবারও কি বলে দিতে হবে এই আঁধার কে? মনে হয় না, আমার চেহারার দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়.....

বুঝলে বালিকা, আমি কালো বলেই তোমার কৃষ্ণ হতে পারি, ভোমরা হতে পারি, হতে পারি তোমাকে নিত্য ছুঁয়ে থাকা অথৈ আঁধার! এটাই আমার অহম যে আমি কালো, আমি তাই একত্রে হতে পারি তোমার আঁধার-কৃষ্ণ-ভ্রমর!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×