somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও লজ্জিত এই ক্রান্তি লগ্নে দেশের হর্তা-কর্তাদের বিবৃতিতে

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৃষ্টিকর্তা শোকার্ত পরিবারের ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যোককে এই শোক বহিবার ক্ষমতা দাও

সাভারে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হবে।

এহেন বিপদ সন্কুল মুহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য আমরা মর্মাহত ,
“সাভারের ভবন ধ্বংসের ঘটনায় সরকার সতর্ক হয়ে আগে থেকেই বাসিন্দাদের সরিয়ে এনেছিল। পরে কেউ গিয়ে থাকলে তারা গিয়েছিল মালামাল সরাতে চুরির উদ্দেশ্যে।”
———-প্রধানমন্ত্রী

বিচিত্র এই দেশ!!! দেখুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
“কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে…
ভবনটি ধসে পড়া পেছনে সেটাও একটি সাম্ভাব্য কারণ হতে পারে”–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


প্রতিক্রিয়া: যদি সংখ্যালগু হরতাল সমর্থকরা ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নেড়েচেড়ে ভবনটি ধসাতে পারে, তাহলে অমার্জনীয় ও অমানবিক যেসব কীর্তিকলাপ দলীয় ছত্রছায়ায় ঘটে যাচ্ছে এ্রর বিপরীতে সাধারন জনগনের প্রতিউত্তর দিতে ও সেই সময়টাই লাগবে যে সময়টা লেগেছিল ভবনটির ধ্বসে পড়তে। তখন অন্যায়কারীরা পড়ে থাকবে ধ্বংসযজ্ঞের নীচে, অক্সিজেন নিয়ে তখন কেউ পাশে এসে দাড়াবে না ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন সাত মসজিদ সুপার মার্কেটে ফাটল দেখা গিয়েছে এবং আশুলিয়ায় কয়েকটি গার্মেন্টেসের একই সমস্যার কারনে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেউকি পারবেন ক্ষতিগ্রস্থদের অপূরনীয় ক্ষতিপূরন করতে? আমরাতো এখনো বিশ্বজিতের কথা ভুলে যাইনি, কি বিচার, কি ক্ষতিপুরন পেয়েছে তার পরিবার?
নতুন করে এইসব ঘটনার কি ব্যাখ্যা দিবেন মাননীয় মন্ত্রী…

দয়া করে আপনাদের এ্ই কাদাঁ ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন …… আপনাদের কাদাঁর নীচে পড়ে আমরা সাধারন মানুষ নিঃশ্ব হচ্ছি , এমনকি জীবন বাচানো দায় হয়ে পড়েছে।

ফেইসবুক হতে জনাব রাগীব হাসানের পোষ্টটি সবার সাথে শেয়ার করলাম

একটা লাশে কয়টা পাজেরো? কিংবা একটা পাজেরো, একটা বারিধারার ফ্ল্যাটের দাম কয়টা লাশ?

বাংলাদেশে মানুষের জীবনের, রক্তের দামটা কতো কম, এ বছর যেন বার বার করে সেটা আমাদের স্মরণ করতে হচ্ছে। তাজরিন গার্মেন্ট্সে ১০৮ জন মানুষকে খুন করার পরে লিখেছিলাম, আমাদের কাছে এসব এতই সামান্য ঘটনা যে লাশ প্রতি ক্ষতিপূরণের আনফিশিয়াল লিস্ট পর্যন্ত রেডি থাকে (লাশপ্রতি একটা ছাগল, কিংবা ২০ হাজার টাকা মাত্র, এরকম)।

এবারে এক নিমেষে ৮০ জনের লাশ আর আরো কতো শত শত সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনায় মনে হচ্ছে, বরং উল্টাটা চিন্তা করা যেতে পারে, অনেকটা এরকম -

- গার্মেন্ট্স মালিকের ঝকঝকে পাজেরো - ২০টি লাশ।
- ভবন মালিকের প্রাসাদ - ৪০ টি লাশ।
- গার্মেন্ট্সের এই হতভাগ্য শ্রমিকদের হাতে তৈরী একেকটি শার্ট - ১টি লাশ।
- বিজিএমইএ ভবন - ১৫০০ লাশ।
- মন্ত্রীদের চাঁদা ফান্ড/গদি - ২০০০ লাশ।
- দেশের শনৈ শনৈ উন্নতি, চায়ের কাপে আমাদের ঝড় তোলা, ফেইসবুকে ফাটিয়ে ফেলা - ১০ হাজার লাশ।

প্রতি ২/৩ মাসে এরকম একটা ঘটনা ঘটবে, আমরা দায়সারাভাবে ফেইসবুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে এই শ্রমিকদের নিয়ে আহাজারি করবো, বলবো, "আর কতো?", কিন্তু পরে সুযোগ পেলেই গার্মেন্ট্সের শ্রমিকদের ভুলে যাবো, কিংবা অর্থহীন বিষয়ে তর্কে-বিতর্কে কাটাবো সারাদিন। আর এই লাশের পাহাড়ে তৈরী হবে প্রাসাদ, কেনা হবে নতুন পাজেরো, গদি, কিংবা উন্নত মধ্য আয়ের একটি দেশের সোনার পাথরবাটি ...

কাজেই দোষটা কার সেটা না খুঁজে আসুন নিজেদের দিকেই দেখি, ভেতর থেকে পরিবর্তন আনি। এই ৮০টা পরিবার, কিংবা ৮০০টা পরিবার রাতারাতি পথে বসে গেলো, এদের জন্য পিটিশনে সাইন করি কিংবা এদের বাচ্চাদের জন্য, এদের জীবনযাপনের জন্য একটা ব্যবস্থা করি।

আর এই মুনাফাখোর গার্মেন্ট্স মালিক, ত্রুটিপূর্ণ ভবনের অনুমোদন দেয়া রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী, কিংবা দলীয় নেতাদের বলি, আজ রাতে এই কয়েকশ লাশের মিছিলে পারবেন তো ঘুমাতে? কিংবা কাল, অথবা পরশু?


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×