somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘাতকের অভয়ারণ্য বাংলাদেশ!

০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তবে বাক স্বাধীনতার নামে আমি আমার জ্ঞাতসারে এমন কোন লিখা বা কথা প্রকাশ করি না যেন অন্য একজন নিরীহ এমন কি অভিযুক্ত ব্যাক্তি বা প্রাণী মনে কষ্ট পায়। আর কাউকে হত্যা বা আহত হওয়ার কথা শুনলে আমার গা ছমছম করে ওঠে। আমি সবার মত আমার মৃত্যু যেন স্বাভাবিক ও সুন্দর হয় সেই কামনায় করি। আমি বিভিন্ন ব্লগে মাঝে মধ্যে কিছু লেখা লিখি করি। তবে আমি ব্লগার এই কথা বা বিশেষণ আমার নামের পাশে লিখে কখনও আত্ন গরিমা প্রকাশ করি না। কারণ ব্লগিং ছাড়াও আমার বেশ সুন্দর পেশাগত এবং সামাজিক পরিচিতি আছে। আমি ২০০৭ সালে ব্লগিং শুরু করেছিলাম যখন আমি আই ডি বি'র স্কলারশীপ নিয়ে মাইক্রোসফট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে লেখাপড়া করছিলাম। লেখাপড়া শেষে দেশ বিদেশে কর্ম ব্যস্ততার কারণে মাঝে ব্লগিং করতে পারিনি। আবার যখন শুরু করলাম তখন ব্লগিং নিয়ে চারদিকে বেশ সরব উপস্থিতি। ব্লগিং এর ধারণাটি যেভাবে বিশ্বে পরিচিত আমাদের বাংলাদেশে সেরকম নয়। বাংলাদেশে এখন ব্লগার মানে সে নাস্তিক! কি শিক্ষিত আর কি অশিক্ষিত সবার মাঝে কেন এমন ধারণা হল? সেটা আমার পরিস্কার জানা নেই। তবে কিছুটা আন্দাজ করা যায় যে, ব্লগাররা এখন বাংলাদেশের ঘৃণ্য রাজনৈতিক ঘুঁটি চালের শিকার। এখন আমার বেশ পরিচিতি আছে যে আমি ব্লগার অথচ আমি কোথাও কোন দিন প্রকাশ করিনি এমনটি। কিন্তু আমি না চাইলেও কিছু মানুষ আমাকে ব্লগার বলছে।কিছু বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে বলে এই লিখা লিখি করে কি লাভ, নিরাপদ পথে আসো। ব্লগ বা ব্লগার নিয়ে ভয় ভীতি আর উৎকণ্ঠার মূল কারণ ক্রমাগত ব্লগার হত্যা। বাংলাদেশে এমন একটা প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যে একজন ব্লগার মানে সে নাস্তিক, আর নাস্তিক মানে তাকে হত্যা করা জায়েজ বা বৈধ! এখন একজন মানুষ এমনকি শিশুদের হত্যা করলেও তা আগের মত আর প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায় না। কারণ পূর্বে যারা কড়া প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে হয় তাঁদের মরতে হয়েছে না হয় শারীরিক, মানসিক এমনকি আইনি ঝামেলা ভোগ করতে হচ্ছে। সরকার বৈধ হোক অবৈধ হোক সরকার কে এর দায় নিতেই হবে। সরকারই পারে প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনে দেশ ও দেশের মানুষকে নিরাপদ করা। শেখ হাসিনা বললেন যে, ধর্ম নিয়ে কোন রাজনীতি সহ্য করা হবে না, তিনি প্রায় বলেন দেশে বাক স্বাধীনতা আছে আর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন কিন্তু সব মিথ্যা কারণ মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও ভিন্নমতালম্বীদের রক্ষা নেই, আবার বিচার বিভাগ যদি সম্পূর্ণ স্বাধীন হয় তো বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারী পরয়ানা জারী হল তা আজ ছয় মাসেও তাঁর বাসায় গেল না কি কারণে? তিনি তো মুখে বলেন এক আর কাজে বিপরীত তা কেন? যদি ক্ষমতায় থাকতে চান আপনাকে অবশ্যই এমনকি আমাদের মত স্বাভাবিক মৃত্যু বা জীবন প্রত্যাশী হন তাহলে দেশেকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে হবে। সমস্ত হত্যার সঠিক বিচার করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে এটা আমাদের বাংলাদেশ। মানুষ বিপদে পরে পুলিশের কাছে গেলে যেন নির্ভয়ে থাকতে পারে, যেন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে এটা সবার বাংলাদেশ, এখানে সবার বাঁচার অধিকার আছে, সুবিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা ব্লগাররা বা সাধারণ মানুষ দেশে নিরাপত্তা চাই। জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ বা সরকারের কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য অনিশ্চিত গন্তবে যাওয়ার পরামর্শ চাই না। দেশে আইনের শাসন না থাকায় দেশ পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় পতিত হয়েছে। কিছু মানুষ হীন ক্ষমতার কারণে মনুষ্যত্ব হারিয়ে অপকর্ম করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে বলছি, সাধারণ মানুষ, শিশু এমনকি মায়ের পেটে নিস্পাপ শিশু যেখানে হিংস্রতা থেকে রক্ষা পায়নি, আপনি পীর হন আর যায় হন দোষে গুনেই মানুষ। আপনারও তো কিছু পাপ আছে। এই হিংস্রতা তো আপনাকেও গ্রাস করবে না তার কি গ্যারান্টি আছে? কয়টা নির্মম হত্যার কথা লিখব? একের পর এক অভিনব কায়দায় প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শিশুদের পর্যন্ত হত্যা করা হচ্ছে। সাত খুন নিয়ে দেশ খুব সরব ছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর একের পর এক হিংস্র ও অভিনব কায়দায় মানুষ হত্যা করে বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি নিজে সৎ থাকলে অবশ্যই দেশ ভাল করা সম্ভব। অন্তত পক্ষে এই আগস্ট মাসের নির্মম অভিজ্ঞতা থেকে দেশ কে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনুন। আমারা আপনাকে আমাদের মাঝে সুস্থ ও ধীঘয়ায়ু হিসেবে দেখতে চাই। চাইনা একের পর এক হত্যাকাণ্ডকে ছাপিয়ে অন্য আরেকটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আগেরটি আমাদের ভুলিয়ে দেয়। আমাদের সাধারণের ধারণা আপনি চাইবেন না যে, আপনার নির্মম পরিণতি যেন আগের সব হত্যাকাণ্ড আমাদের ভুলিয়ে দেয়। এখন যে এর চেয়ে নিষ্ঠুর ও নির্মমতা আর আমাদের দিতে পারবেন না!
ঘাতকের অভয়ারণ্য বাংলাদেশ! এই অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×