
বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার প্রচার মাধ্যম বা মিডিয়াকে ব্যবহার করে অতিমাত্রায় মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এতে অবশ্য তাদের জন্য কাজ হচ্ছে বেশ ভাল। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ ভিন্নমতালম্বি প্রচার মাধ্যম ও মিডিয়াকে সরকার অন্যায় ভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া কর্মীদের জেল জুলুম অত্যাচার করছে। অনেক সাংবাদিক ভাইকে নির্মম ভাবে হত্যা হতে হয়েছে। অনেকে বিনা বিচারে জেল জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে। সেখ মুজিব নিজের মতের চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব সংবাদ মাধ্যমগুলো বন্ধ করেছিলেন, বাকশাল করে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিলেন এমন কি তাঁদের নিজের দল আওয়ামীলীগও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আজকে আওয়ামীলীগ যে দল নিয়ে আজ রাজনীতি করছে এর অস্তিত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক, বাংলার গণ মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আওয়ামীলীগের উচিৎ ছিল তাঁদের অস্তিত্বের ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা। সেখ মুজিব মানুষের বাক স্বাধীনতা পুরোপুরি ভাবে নিষিদ্ধ করে দেশ ও দেশের মানুষকে বাকরুদ্ধ করে রেখে ছিল। কিন্তু বেশি দিন টিকতে পারেনি তাঁর সেই স্বৈরাচারী শাসন। তাঁকেও নির্মম ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। যার ডাকে মানুষ নিজের জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে ছিল সেই নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে এতটুকু রক্ত ক্ষরণ করেনি। কারণ যে স্বাধীনতার স্বপ্নের কথা বলে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল স্বাধীন হওয়ার পরে বাংলার মানুষকে নতুন ভাবে, নতুন কায়দায় পরাধীনাস্ত করা হয়েছিল। মুখে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল কালো টেপ আর পায়ে পরানো হয়েছিল পরাধীনতার নতুন শৃঙ্খল। শুধু বইয়ের মলাট বদলে ছিল কিন্তু ভিতরে ছিল সেই একই বিষয়বস্তু। আমারা সাধারণ জনগণ কোন নির্মমতা আর দেখতে চাই না। সময় বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক কটু-কৌশল। তাই তো বর্তমান অনৈতিক আওয়ামীলীগ সরকার কৌশল বদলিয়ে এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম যেমন সংবাদপত্র,টেলিভিশন সংখ্যা বাড়িয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিন্তু নিরপেক্ষ ও ভিন্নমতালম্বি সবগুলোকে অন্যায় ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ত্রিশটির বেশি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছে সরকার দলীয় নেতা ও প্রভাবশালী আওয়ামী সমর্থকদের। প্রায় চার শতাধিক সংবাদপত্র আওয়ামী সরকারী ঘরনায় পরিচালিত হচ্ছে। সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বর্তমানে সোশ্যালমিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যম বেশ জনপ্রিয়। সেখানে মানুষ তাঁদের মুক্তবাক প্রকাশ করতে পারে কিন্তু এই বাংলাদেশে ৫৭ ধারা কালো আইন যোগ করে অনৈতিক সরকার তাদের স্বৈরাচারী মনভাব প্রকাশ করেছে। তাদের দল,নেত্রী এবং নেতাদের কুকর্ম কেউ প্রকাশ করলে তাঁর অত্যাচারিত হওয়ার উদাহরণ বড়ই নির্মম ও বেদনাদায়ক। তাই একদিকে যেমন সৎ সাংবাদিকতা চর্চা সম্ভব হচ্ছে না, অন্যদিকে তাদের চাটুকার সংবাদপত্র সব সময় এই সরকারের গুণগান আর মিথ্যা প্রচারে মানুষকে রীতিমত বিভ্রান্ত করছে। একটি মিথ্যা তথ্য সবসময় গণমাধ্যম এবং সরকার বার বার প্রচার করায় তা অনেকটা সত্য বলে সাধারণের মধ্যে ধারণা জন্মায়। কিন্তু আসলে তা মিথ্যা। এই যেমন সরকার বলতে চাচ্ছে যে দেশে বাক স্বাধীনতা আছে বলেই এই দেশে ত্রিশ এর বেশি টেলিভিশন চ্যানেল আর চার শতাধিক সংবাদপত্র আছে। শুধু সংখ্যায় কি বাক স্বাধীনতা বা মুক্ত চিন্তা পরিমাপের তথ্য উপাত্ত হতে পারে? যেখানে ষড়যন্ত্র করে নিরপেক্ষ ও ভিন্নমতালম্বি সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে। আওয়ামী সরকার নিজস্ব প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্মকে সুকর্মে রূপ দিচ্ছে তার প্রমাণ প্রায় সবাই জানি। এই যেমন প্রোপাগান্ডা হচ্ছে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিদ্যুৎ এর খেত্রেও প্রায় তাই প্রচার করা হচ্ছে।
সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে দেশে বার্ষিক খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে তিন কোটি তেত্রিশ লাখ টন এবং মোট চাহিদা বার্ষিক দুই কোটি ৬৪ লাখ টন। সেই হিসেবে প্রায় ৬৯-৭০ টন উদ্বৃত্ত থাকার কথা। অথচ খাদ্য অধিদপ্তর সরকারী ভাবে ৬ লক্ষ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এই জন্য গত ২ মে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। চাল সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮ লাখ টন করা হয়েছে। এই বোর মৌসুমে অভ্যন্তরীণ ভাবে ৮ লাখ টন সংগ্রহ করার কথা ছিল কিন্তু সরকার সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ২৭০ টন যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। আর এই প্রস্তাব নিয়ে খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে ভিয়েতনাম সহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে চাল আমদানি করার জন্য চুক্তি করতে গেছেন। এর আগে ব্রাজিল থেকে ২ লাখ টন গম আমদানি করে সরকার। এই দুই লাখ টন গম প্রায় সব পচা যা একেবারে খাবার অনুপযোগী। ৪’শ কোটি টাকা দামের ২ লাখ টন গম আমদানি করতে ইমপেক্স এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠান অনুমতি পায়। আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর একান্ত স্বার্থের জন্য এই নিম্নমানের গম গ্রহণ করা হয়। আবার ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে যে পচা ও নিম্নমানের চাল আমদানি করবেনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সরকারের এমপি, মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত মিথ্যা অপপ্রচার করে যাচ্ছে যে, তাদের অধীনে দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। আসলে দেশ খাদ্যে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। রীতিমত খাদ্যে ঘারতি আছে দেশে। সরকার শুধু মিথ্যা অপপ্রচার করে যাচ্ছে তাদের সমস্ত দুর্নীতি আর অদক্ষতা আড়াল করার জন্য।
এবার আসি বিদ্যুৎ উদপাদনের ক্ষেত্রে। ২০১০ সালে সরকার একটি মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। ঘটা করে প্রচার করা হচ্ছিল যে, সরকার বিদ্যুৎ উপাদনে এক ম্যাজিক কৌশল হাতে নিয়েছে যা ২০১২ সালের পর আর কোন বিদ্যুৎ সমস্যা থাকবে না। আর এরই অংশ হিসেবে সরকার কুইক রেন্টাল পদ্ধতি গ্রহণ করে। হ্যাঁ এটা ম্যাজিক কৌশল ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই তবে এটা ছিল দলীয় নেতাদের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার ম্যাজিক কৌশল। ভাড়া ভিত্তিক বা কুইক রেন্টাল কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই আওয়ামীলীগ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা আত্নসাধ করেছে। এই ভাড়া ভিত্তিক কুইক রেন্টাল কেন্দ্র স্থাপন একটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রকল্প হয় আওয়ামীলীগের জন্য। আর এই জন্য সরকারের লোকজন, এমপি, মন্ত্রী এমনকি আমলা অনেকে এই ব্যবসায় নামেন। এই প্রকল্পের বড় জালিয়াতি হল কেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেল, ফার্নেস অয়েল যা লাগবে তার সমস্ত ভর্তুকি সরকার জনগণের টাকা থেকে পরিশোধ করবে আর অন্য দিকে সেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ কয়েকগুণ বেশি দামে তাদের কাছ থেকে কিনবে সরকার। তাতে একদিকে যেমন ভর্তুকি দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে খাচ্ছে অন্যদিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরকার টাকা লোকসান গুনছে। গত বছর ৭ ডিসেম্বর সরকার ঘটা করে “আলোক উৎসব ২০১৬” উদযাপন করেছে। উৎপাদনের সক্ষমতা ১৫০০০ মেগাওয়াট নাকি ছাড়িয়ে গেছে। অনৈতিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই উৎসবের উদ্বোধন করেছিলেন। অথচ গত কয়েক দিন আগেও দেশ অন্ধকারে ছিল লাগাতার কয়েক দিন বিদ্যুৎ এর অভাবে। যদিও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কয়েক দিন সময় চেয়েছিলেন স্বাভাবিক হতে। কোথায় গেল এই আলোক উৎসব? মানুষকে মিথ্যার জালে বন্দি করেছে সরকার। পরিকল্পনায় দেশবাসীকে ঘটা করে বলা হয়েছিল ২০২০ সালের জন্য বিদ্যুৎ এর চাহিদা ১৭ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় তা কমিয়ে ১২ হাজার ৯৪৯ মেগাওয়াট করা হয়েছে। সরকার এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে তবে তাদের আখের গোছিয়ে নিয়েছে। একেই ভাবে আর্থিক খাত ব্যাংক বিমা শেয়ার বাজার সব কিছু এখন ধব্বংসের মুখে। বর্তমানে রাষ্ট্র চালিত সব কয়টি ব্যাংক এখন মূলধন ঘারতিতে বা সংকটে আছে। শুধু মিথ্যা প্রোপাগান্ডা যা হচ্ছে আসলে দেশের সামাজিক, আর্থিক, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা সমস্ত ক্ষেত্রে এই সরকার লালবাতি জ্বালিয়েছে। তাই মিথ্যা প্রচারণা যতই করুক না কেন বাস্তবতা এবং সঠিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে খাদ্য, বিদ্যুৎ নয় সরকার দুর্নীতিতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




