somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুবহু : সিরাজ সিকদারের অদম্য দেশপ্রেম তাঁকে ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সর্বহারা পার্টিকে শুধু জনপ্রিয়ই করেনি, জনভিত্তিও দিয়েছে

২০ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বামপন্থী প্রবীণ রাজনীতিক ও দল থাকার পরও রোমান্টিক বিপ্লবী চরিত্রের কারণেই কি সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা পার্টি কিছুদিনের মধ্যে দেশব্যাপী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়?
না, বিষয়টি একদমই সে রকম নয়। আপনি যদি লক্ষ করেন, তাহলে দেখবেন যে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে সর্বহারা পার্টির যে ভ্রূণ সংগঠন পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন, সেই শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস দেখুন। সেখানে সিরাজ সিকদারের প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত হবেন। সে থিসিসে তিনি সেই ১৯৬৮ সালেই বলে দিয়েছেন পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব বাংলার সম্পর্ক হলো ঔপনিবেশিক।
তাঁকে রোমান্টিক বিপ্লবী হিসেবে চিহ্নিত করে বরং কথিত কমিউনিস্ট ও শাসক শ্রেণী বেঁচে যায়। যদি সিরাজ সিকদারের চিন্তার প্রসার ঘটে, তাহলে ওপরের দুই শক্তিই বিপদে পড়বে। সিরাজ সিকদারের অদম্য দেশপ্রেম তাঁকে ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সর্বহারা পার্টিকে শুধু জনপ্রিয়ই করেনি, জনভিত্তিও দিয়েছে। ওই সময় মাত্র ২৮ বছরের একজন তরুণ বড় বড় কমিউনিস্ট নেতাকে ছাড়িয়ে গিয়ে শেখ মুজিবের বিপরীতে একজন কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রধান কারণ ছিল জাতীয় ও শ্রেণী সংগ্রামের বিষয়টি তিনি ধরতে পেরেছিলেন, যা অন্য কমিউনিস্ট নেতারা পারেননি। এখানে মূলত কাজ করেছে দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টি।

আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে আপনারা ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কি বিপ্লবী তৎপরতা বাড়ানো সম্ভব?
বিপ্লবী রাজনীতি কোনো সুচিকর্ম নয়। এটা উগ্র, বল প্রয়োগের ব্যাপার। সেই বল প্রয়োগের সঙ্গে নানা ধরনের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে। সে প্রয়োজন থেকেই ব্যাংক লুট করা হয়েছে। একটা নিছক ডাকাতি আর বিপ্লবী রাজনীতির প্রয়োজনে ব্যাংক লুটের মধ্যে নিশ্চয় পার্থক্য রয়েছে। ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবীরাও ব্যাংক লুট করেছেন।

আপনারা শ্রেণীশত্রু খতমের নামে প্রতিবিপ্লবের কাজ করেছেন।
আমরা কোনো শ্রেণীশত্রু খতম করিনি। আমরা করেছি জাতীয় শত্রু খতম। জাতীয় মুক্তির সময়, আপনাকে তো জাতীয় শত্রুকে মোকাবিলা করতে হবে। শ্রেণীশত্রু খতম করতেন হক-তোহারা।
ব্যক্তিগত খতমের যে কর্মসূচি তা বিপ্লবী রাজনীতি নয়। তাহলে এটা কি প্রতিবিপ্লবী, প্রতিক্রিয়াশীল? আমি বলব, তাও না। আমরা পাঁচজন খতম হয়েছি, তার বিপরীতে আমরা হয়তো একজনকে খতম করেছি। এটা ছিল রাষ্ট্রের চরম নিপীড়নের বিপরীতে পাল্টা খতম।
আমাদের হাজার হাজার কমরেডকে মুজিব আমলে হত্যা করা হয়েছে। নারী কমরেডদের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সেসব খুনের তথ্য প্রকাশ হলে জাতি শিউরে উঠবে।
এ খতম কিন্তু আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে শুরু করেছে।
সর্বহারা পার্টির পাঁচ সদস্য পার্টির নির্দেশে আগস্ট মাসের দিকে সাভারে যায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে। এ সময় এ পাঁচজনকেই সেখানে বৈঠকের নামে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ পাঁচ নেতার মধ্যে ছিলেন সামিউল আজমি (যিনি পতাকার নকশা করেছিলেন। পার্টিতে যাঁর নাম ছিল কমরেড তাহের) ও পলাশ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছিল সেখানে সর্বহারা পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তাব নিয়ে সাভারে যাওয়ার পর তাঁদের হত্যা করা হয়। সাভারের ঘেষু চেয়ারম্যানের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কমরেড শিখা, ঝালকাঠিতে ভাস্কর পণ্ডিতের হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল লোমহর্ষক।
সর্বহারা পার্টি ১৯৭১ সালের যুদ্ধপরবর্তী সময় যেসব খতম করেছে, তা বাধ্য হয়েই করেছে। কারণ কোনো জায়গায় সর্বহারা পার্টির তিনজনকে হত্যা করলে পার্টি বাধ্য হয়েই সেখানে হয়তো একটা খতম করেছে। এ খুন হলো শাসক শ্রেণীর খুনের পাল্টা-খতম। সর্বহারা পার্টির যত সদস্য নিহত হয়েছেন তার দশ ভাগের এক ভাগও সর্বহারা পার্টি খতম করেনি।

১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কিভাবে পালন করলেন?
শুধু ১৯৭৪ সালে নয়, ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বরও দেশব্যাপী হরতাল পালন করা হয়েছিল। এ হরতাল পালনের চমৎকার রাজনৈতিক তাৎপর্যও ছিল। আমরা একটা ব্রিজ উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, তবে আমাদের ভুলের জন্য ব্রিজটি ওড়ানো যায়নি। তখন মাথায় এল, গাছ কেটে রাস্তা ব্লক করা যায়। সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমরা, পার্টি সদস্যরা, গাছ কাটতে শুরু করলাম। গ্রামের লোকজন এসে আমাদের বলল, এ গাছ আপনারা কেন কাটেন? আমরা বললাম, আগামীকালের হরতালের কারণে রাস্তা ব্লক করি। তখন গ্রামের মানুষজন আমাদের হাত থেকে কুড়াল নিয়ে লেগে গেল গাছ কাটতে। এভাবে শত শত গ্রামবাসী গাছ কাটা শুরু করল। এখন যেটা ফরিদপুর থেকে যশোর রোড, কানাইপুর থেকে কামারখালী। এখানে গ্রামবাসী বড় রেইনট্রি কেটে রাস্তা ব্লক করে দিয়েছিল। সে রাস্তা পরিষ্কার করতে সরকারের ১২ দিন লেগেছিল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : আরিফুজ্জামান তুহি

View this link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×