somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যা দেখি তাই হাওয়াই মিঠাই, আসলের আসল কিছু নাই

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমি যারে ভালবাসি
তারে আবার বাসি না
কেন তারে ভাল লাগে না
আমি যারে ভালবাসি।

মানুষের জীবন অতিবিচিত্র এক বিষয়ের নাম। মূলত গ্রহণ বর্জনের মানসিকতায় বিচিত্রতা থাকার কারণেই এর মধ্য দিয়ে সমূহ বিচিত্রতা প্রকাশ পেয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই প্রতিটি মানুষ বিচিত্রতাবহুল জীবন যাপন করে। আবার একে অন্যের বিচিত্র-বহুলতা দেখে আঁতকে ওঠে চমকে ওঠে। অথচ নিজের বিচিত্রতার বিষয়টি বেশিরভাগ সময়ই স্বাভাবিক মনে হয়। অন্যের বিচিত্রতার বিষয়টি কারো কাছে অপ্রত্যাশিত হলে ব্যক্তি প্রথমে নিজেই চমকে ওঠে, তারপর অভ্যস্ত হয়ে যায়। মানবচরিত্র অনুযায়ী অস্বাভাবিক ঘটে যাওয়ার বিষয়টি অল্প সময়েই মেনে নেওয়ার ক্ষমতা এরা (মানুষ) রাখে। আবার অস্বাভাবিকভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে কিছু পাওয়া হয়ে গেলে মানুষের ঘোর জন্মে বটে তবে তা বেশি সময় স্থায়ী হয় না। সময়ের ব্যবধানে "এক সময়ের অপ্রত্যাশিত" বিষয়টাই মানুষ স্বাভাবিক প্রত্যাশার নিয়মে চাইতে থাকে। এই চাওয়াতে কতকটা থাকে প্রেম কতকটা প্রয়োজন।

পরবর্তী স্টেপ হচ্ছে প্রেম-প্রয়োজনের আধিক্য-অনাধিক্য সংক্রান্ত। এক্ষেত্রে কারো/কিছুর প্রতি যতক্ষণ প্রেম কাজ করে ততক্ষণই কেবল "যারে আমি ভালোবাসি/তারে আমি ভালোবাসি" টাইপ অবস্থা থাকে। তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে/প্রয়োজন মেটাতে- এমন নতুন কিছুর (অথবা কারোর) সংযোজনে কিংবা মহাকালের আবর্তনে নতুন সূর্যের আলোতে মানুষের মনে নতুন এক অবস্থার তৈরি হতে দেখা যায়। সেটা হচ্ছে "তারে আবার বাসি না"। মানব মন কৌতূহলী। ট্রেন বন্ধ করার পরও একটুখানি চলে। এটা চলতি অবস্থা রেশ বা ধাক্বা। ট্রেনের উদ্ভাবক মনুষ্যজাতি'রও এ ক্ষেত্রে ট্রেনের সাথে কিছুটা মিল আছে বৈকি। তাই তারা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও ভালোবাসা হারিয়ে গেলেও নিজেকে শুধায় "কেন তারে ভালো লাগে না?" তারপরও উত্তর মিলে কি? বোধহয় মিলে না।

প্রত্যাশিত অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির ভিড়েও কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা হয়ে ওঠে না। হয়তো কারো কাছে নিজেকেও করে তোলা যায় না সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত। তাই পুরো পৃথিবী ঘুরেও কোথায় তৃপ্তি পাওয়া যায় না, শান্তি পাওয়া যায় না। এই শান্তি না পাওয়ার পেছনে কতটা অবদান নিজের আর কতটা পরিবেশের তার বের করা সময়সাপেক্ষ্য তো বটেই, বিশ্লেষণ ও চিন্তা সাপেক্ষ্যও। ফলাফল হাতে আসলেও যে বিশেষ লাভ হবে তা কিন্তু নয়। প্রত্যাশা প্রাপ্তির হিশাবনিকাশে কাউকে আর বিশ্বাস করা হয়ে ওঠে না, হয়ে ওঠে না পাওয়া। পর্বতের উচ্চতম স্থান পায়ের নিচে রেখে কৃতিত্ব অর্জন করলেও একটা অন্তরে স্থান লাভ করার শক্তি অর্জন করার আগে প্রাণবায়ুর যোগান ফুরিয়ে আসে। পৃথিবীর পথে প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে বহমান বায়ুর ঘর্ষণে চামড়া ক্ষয় হয়ে কুঞ্চিত হয়ে গেলেও অনধিকার অনধিকার-ই থেকে যায়। অধিকার করতে না পারার দুঃখে তখন সবাইকে মনে হয় হাওয়াই মিঠাই। পালাশ কিশোর বলে-

ঘুরলাম কত বৈদেশ বন্দর
পাইলাম না তো একটা অন্তর
যা দেখি তাই হাওয়ায় মিঠাই
আসলের আসল কিছু নাই ।

সারাজীবন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি'র হিশাব কষলেও মানুষ ফলাফল পায় শূন্য। সবই দেখে হাওয়াই মিঠাই। তবুও মানুষ বেঁচে থাকে আশায়। খুঁজে বেড়ায় একটা সঠিক অন্তর। দেশ থেকে দেশান্তরে। বলাই বাহুল্য, এই অন্তর আর পাওয়া হয়ে ওঠে না। তবু মানুষ দেশান্তরি হয়। বৈদেশ ঘুরে বেড়ায়। একই সাথে আবার তার আদিম ভূমি তাকে টেনে আনতে চায়। সে পড়ে যায় দোটানায়। এই দোটানা জীবনের জন্য বড়ই ক্ষতিকর। এ দোটানা কেবলই মায়া বাড়ায়, মোহ তৈরি করে। বাড়ায় শুধু আক্ষেপ আর অপেক্ষা। অপেক্ষাতে রেখে রেখে জীবনের সায়াহ্ন রেখা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। জীবনের অন্তিম রেখা কে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর করে তুলে। ওই পাড়ের ডাক চলে আসে। তখনও পাওয়া হয়ে ওঠে না কিছু। গৃহী বা সন্যাসী কোনটাই আর হওয়া যায় না। এর ফাঁকে রেডি হয়ে যায় কাফনের কাপড় অথবা চিতার আগুন। মায়া কি ছাড়া যায়? পালাশ কিশোর এবার বলে-

ঘরের মায়ায় টানে মোরে
বাহিরেও যে ছাড়ে নারে
রঙ্গিলা দো-টানায় পইড়া
সন্নাসী হইতেও আমি পারলাম ।


(সঙ্গীতশিল্পী পলাশ কিশোরের হাওয়াই মিঠাই গানের পঙক্তি ব্যবহৃত হয়েছে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি বিলাস!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮



বৃষ্টির জন্য খুব বেশি হাহাকার জমেছিল বলেই কিনা,
জমিয়ে বৃষ্টি এসে রীতিমতো আমাদের জমিয়ে রেখেছে-
এখন গৃহ কারাবাস!
বৃষ্টি তুমি কিনা জমিয়ে রেখেছিলে এতটা ক্রোধ!
থামছেই না তোমার চোখ রাঙানি!
অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×