somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাহানি ঘার ঘার কা কাহানি: ১ম এপিসোড।

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ঘুম থেইকা উইঠ্যাই রাহাদ বুঝলো যে আজকের সকাল অন্যরকম, সবকিছু ছন্দোবদ্ধ, সোনারোদে ভইরা গেছে জানালা, আওয়াজগুলা দূরাগত, কোথাও কুনো ছন্দপাত নাই, ভাল। রাহাদ মনে মনে ঘোষণা দিল যে আইজকা পত্রিকা পড়া বন্, অদ্য অন্য দিন, আইজকা ভিন্ন দিবস। পত্রিকা খুললেই খুন-খারাবি, দুর্নীতি ও হাবিজাবি, ভারতও হারতাছে। বরং বাসায় অন্যদিন ঈদসংখ্যা আছে সেইটা পড়া যাইতে পারে।এখন নাশতা চিবাইতে চিবাইতে রাহাদ ভাবতাছে যে কোথায় যাওন যাইতে পারে, আইজকা অফিস পরিত্যাজ্য, রাইমা বাদ, সচীরে কল দেওন যায়... না থাক, আইজকা না, সুতরাং বেলি রোডে যাওয়া যায়। আইজকা নাটক-নুটক কিছু আছে কিনা কে জানে, তাছাড়া ঐখানে জোশ মাইয়ারা আসে, বেশি বু্দ্ধি নাই, ওদেরকে দেখলেই মন-টন সব ভাল হইয়া যায়। সে বাথরুম সাইরা পরিমিত মাঞ্জা মাইরা বাইরাইছে। রাস্তায় আইসা দ্যাখে যে লোকজন কম, রিকশাওয়ালারা মুখ কাল কইরা ঘুরতাছে। রাহাদের মায়া হয়, সে একটা বেনসন কিনা ধরায়। সে ঠিক করে আইজকা খিলগাঁও থিকা হাঁইট্যা যাইবো বেলিরোড। এইসময় দ্যাখে সানগ্লাস পরা একটা লোক, দুইপাশের বাড়িঘরগুলা দেখতে দেখতে হাঁটতেছে, প্রত্যেকটা মানুষরে দেখতে দেখতে আইতেছে। লোকটারে কেমন চিনা চিনা মনে হয় রাহাদের। সে সিগারেটে টান দিয়া ঐটা ফালায় দেয়। ফালায় সিগারেটটা পা দিয়া মাড়ায় লোকটার সামনে গিয়া খাড়ায়, বলে 'ভাই আপনি কিছু খুঁজতাছেন? এই এলাকা আমার চিনা, আপনি কিছু খুঁজতেসেন?' লোকটা বিরক্ত হয় বোধহয়, রাহাদের দিকে একবার তাকায়, তারপর কোন জবাব না দিয়া হাঁইটা চইলা যায়। রাহাদ রাগে না, সে বেলি রোডের পানে অগ্রসর হয়। রোদ উঠতাছে, রিকশাওয়ালারা ঘামতাছে। তাদের জন্য রাহাদের খারাপ লাগে। সে নিজেও এখন ঘামতাছে, ভাবলো, রিকশা নিবো নাকি একটা। বিশ্বরোডে আইসা তার একবার পিছন দিকে তাকাইতে ইচ্ছা হয়, কেন কে জানে। সে তাকায় দ্যাখে নানা সাইজের মানুষ হাঁটতেছে। হাঁটুক, হাঁটাহুঁটি করন ভালা। রাহাদ সম্মুখে মন দেয়। কিছুদূর আইসা হঠাত তার মনে হয় যে, চিনা কাউরে দেখলাম না? সে কিছুদূর গিয়া পিছনে আরেকবার তাকায়। দ্যাখে যে সেই সানগ্লাস পরা লোকটাই, ডানসাইডের বাড়িঘরগুলা দেখতে দেখতে হাঁটতেছে, প্রত্যেকটা মানুষরে দেখতে দেখতে আইতাছে। রাহাদ ভাবে, আবাল কুনহানকার, সে সামনে হাঁটে। কিন্তু, কিছুদূর গিয়া সে খাড়ায় পড়ে, তারপর ডাবল ব্যাক কইরা লোকটার সামনে গিয়া খাড়ায়। রাহাদ মনে মনে ঠিক করছে যে এইবারও যদি হারামির পোলা জবাব না দিয়া চইলা যায় তাইলে তারে প্রয়োজনমত টাইট দেওন হইবো। সে বলে যে 'ভাই আপনি কি কিছু খুঁজতেসেন? তখন এই কথা জিগাইলাম, আপনি জবাব না দিয়া চইলা গেলেন। আপনারে আমি আগেও কোথাও দেখছি মনে হইতাছে। এই এলাকা চিনা আমার, আপনি কিছু খুঁজলে আমারে কইতে পারেন।' লোকটা রাহাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকায় থাকে, তারপর বলে, 'ভাই আমি কিছু চিনতাছি না। এই এলাকায় আমি পঁয়ত্রিশ বছর ধইরা থাকি ভাই, এই এলাকার সবগুলা বিল্ডিং আমার চিনা, কিন্তু এখন কিছু চিনতাছি না ভাই। কারো নাম মনে পড়তেছে না, শুধু রাহাদ নামটা মনে আছে। কিন্তু রাহাদ কে সেইটা আমার মনে নাইরে ভাই। আপনি রাহাদরে চিনেন ভাই?' রাহাদ একটা কথাও বিশ্বাস করে না লোকটার, তার সন্দেহ হয়, সে বলে যে 'না ভাই, রাহাদরে আমি চিনি না, রাহাদের বন্ধুবান্ধব কারো নাম কইবার পারেন? তাগো কাউরে চিনবার পারি। কিন্তু ভাই আপনি পঁয়ত্রিশ বছর ধইরা এই এলাকায় আছেন কিন্তু আজকে কিছু চিনতেছেন না কেন? কিছু হইছে? কোন অ্যাক্সিডেন্ট হইসে?' লোকটা আবার কিছুক্ষণ রাহাদের দিকে তাকায় থাকে, তারপর ভাংগা গলায় বলে, 'ভাই আজকে আমি ছয়তলা থেইকা পইড়া গেছিলাম, তারপর থেইকা কিছু চিনতেছি না ভাই, আমার নিজের নামও মনে আসতেছে না ভাই, আপনি আমারে একটু সাহায্য করেন ভাই।' রাহাদ ভাবে, পাগল। সে বলে, 'আপনি ছয়তলা থেইকা পইড়া গেছিলেন? আপনি বাঁইচা আছেন তো ভাই?' লোকটা রাহাদের দিকে তাকায় থাকে, কিছু বলে না, কিছু ভাবে মনে হয়। রাহাদ ঘুইরা হাঁটা ধরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×