somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃদয়ে জীবন্ত

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিয়ন আলতে হাটতে কেমন যেন অদ্ভুত ভাল লাগে অভির , সবকিছুর রং ভিন্ন রকম সুন্দর মনে হয়। ছোট বেলায় বাবা সাথে বেরুলে যখন সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরত সে কথা বার বার মনে পড়ে ,বড় রাস্তায় ওঠার পর নিজের গায়ের রং পর্যন্ত কতবার মিলিয়ে দেখে অবাক হয়েছে ! এসব ভাবতে ভাবতেই আবার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে , হাটার গতি বাড়িয়ে দেয় । রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আরেকবার দেখে নেয় রাস্তা সঠিক আছে কিনা ? কোন মোহ তাকে এভাবে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তা বোঝা বড্ড কঠিন ।

রাস্তা থেকে একটু ভিতরে গলির রিক্সার গ্যারেজের কাছে আসার পর হট্টগোল শুনে নিজেকে আড়াল করে কিছু সময়ের জন্য । বুকের ভিতরের ধুক ধুক আওয়াজটা বাইরে থেকেও যেন শোনা যাচ্ছে । একটু পরে বুঝতে পারে একদল রিক্সা চালকেরা গাজা খেয়ে এখন গুলি খেলতে বসেছে আর তা নিয়েই হট্টগোলে মেতে উঠেছে কয়েকজন । সুবিধা মত সটকে পড়ে সামনে বাবুদের বাড়ি দেখে কিছুটা স্বস্তি পায় সে , তার রাস্তা ভুল হয়নি তবে। এইবাড়ির কয়েকটা বাড়ি পরে তৃণাদের বাড়ি । মস্ত বাড়ি এ বাড়িতে আগেও একবার এসেছে । তবে সেদিন ছিল অন্য রকম । অঝোর বৃষ্টির রাতে ভিজে কাক হয়ে তৃনার সাথে দেখা করতে এসেছিল , গভীর ঘুটঘুটে অন্ধকার আর বৃষ্টি এর ভিতরে কীভাবে সে এসেছিল কিছুই মনে করতে পারেনা শুধু মনে পড়ে একটা বৃষ্টিস্নাত উষ্ণ রাত । সবকিছু উপেক্ষা করে আজও অভি বাসার পিছনের দেয়াল বেয়ে তৃনার রুমের বারান্দায় গিয়ে উঠে । তৃনার ঘরের দরজা আলতো করে ভেড়ানো , রুমে ঢুকতে খুব বেশি বেগপেতে হয়না । তন্দ্রা বাতির আলোয় আজও তৃনাকে অপ্সরীর মত লাগছে । মায়া জড়ানো মুখ । অভি খুব করে গত পরশুদিনের কথা মনে করতে চায় আর মনে করতে চায় রিশানের নামের ছেলেটিকে । বারবার মনে ঘৃণার সঞ্চার করে রেল কলনির পাশের বস্তি থেকে পাঁচশত টাকায় ভাড়া করা পিস্তলটি বের করে , একটুও হাত কাঁপেনা তার , কিন্তু বুক ফেটে চীৎকার বেরিয়ে আসে অভির, সাথে গুমট কান্না । তৃনাও চীৎকার করে ওঠে ... হাত শক্ত করতে চেয়েও ব্যার্থ হয়ে অভি বুঝতে পারে নিজের শরীরের ওপর তার আর নিয়ন্ত্রন নেই এখন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:০৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×