somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালো বিড়াল

০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাক্রম ১: কয়েকবছর আগে দেশে এক "বড়লোক" আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গেলে আলাপচারিতার মাঝখানা আমার প্রায় সমবয়সী, কিন্তু সম্পর্কে মুরব্বী, আত্মীয় হটাৎ করে সাধলেন, "বিয়ার খাবে অথবা স্কচ?" ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে শুধু এইটুকুই বলতে পারলাম, "সরি মামা, আমার এইসব বদভ্যাস নেই"।

ঘটনাক্রম ২: তারও বছর দুয়েক পর আবার যখন দেশে গিয়েছি তখন আমার আর্কির কিছু বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় একজন জানি দোস্ত রসিয়ে রসিয়ে তার টাকিলা খাবার বর্ণনা দিচ্ছিলো। গল্প শেষ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "কিরে, আসার সময় ডিউটি ফ্রি থেকে আমার জন্য দুই বোতল আনতে পারলি না?" বললাম, "নারে, আমি ড্রিঙ্ক করি না।"। উত্তরে বললো, "কি তাইলে বালের (ভাষার জন্য দুঃখিত) বিদেশে থাকস, হালায়!!!"

ঘটনাক্রম ৩: ২০১০ সালে এমিরেটস এয়ারলাইন্স এ দেশ থেকে ফিরছি। ফিরতি পথে ফ্লাইট দুবাই হয়ে। আমার পাশে বসেছেন আমারই মত এক যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী, সম্ভবত প্রথমবার এর জন্য। যখন লাঞ্চ দেয়া হচ্ছিলো, তখন বেভেরেজ হিসেবে আমি স্প্রাইট চাইতেই পাশে থেকে উনি বলে উঠলেন, "কি ভাই এইসব হাবিজাবি খেতে চান, বিয়ার খান বিয়ার, এইগুলান এইখানে মাগনা"। মুচকি হেসে আমি বললাম, "সরি ভাই, আমি মুসলমান।"

আমাদের প্রবাসীদের সম্বন্ধে কেনো যেনো দেশের মানুষের একটা বিরূপ ধারনা আছে, যেনো বিদেশে থেকে আমরা না জানি সবসময় মদের আসরে ডুবে থাকি। যেহেতু এই পশ্চিমা বিশ্বে এলকোহল মোড়ের দোকানেই কিনতে পাওয়া যায়, তাই আমাদের পক্ষে বিয়ার, স্কচ, হুইস্কি চেখে দেখা কোনো ব্যাপারই নয়।

কিন্তু আসলে তারা জানেন না, বেশীর ভাগ আমাদের মত প্রবাসীরা খুবই রক্ষণশীল হয়। এলকোহল চেখে দেখা তো দূরের কথা, এলকোহল পান করে কেউ আমাদের বাসার ত্রিসীমানায়ও ঢুকতে পারবেনা। আমাদের মাঝে কেউ কেউ হয়তো ঠিকঠাকমত নামাজও পড়ে না, কিন্তু এই ব্যাপারে আমরা খুবই রক্ষণশীল। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রক্ষণশীলতা কিন্তু শুধুমাত্র মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মধ্যেও আমি দেখেছি।

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, গত পরশু বিবিসিকে দেয়া তার সাক্ষাতকারে বলেছে (ওটাকে বলেছেন বলতে রূচিতে বাধছে), "ভেবেছিলাম মুক্ত পরিবেশে এসে মুক্তভাবে কথা বলবো, কিতু এখানেই যে খালি কালো বিড়াল"। ওই বেটা নরাধম জানেও না যে এই "কালো বিড়ালরা" যে কতটা ভয়ঙ্কর। তুই ভেবেছিস যে তুই যেখানে সেখানে মদ-গাজা খেয়ে এসে আজেবাজে বকবি আর আমরা "কালো বিড়ালরা" তোকে বাহাবা বাহাবা দিবো!!!! প্রবাসীদের "কামলা" দেয়ার কথা বলার আগে এইসব নর্দমার কীট রাজনীতিকরা ভুলে যায় যে যখন সরকারের পালাবদলের সময় আসে তখন এরা এই আমাদের মত প্রবাসীদের কাছে এসেই কুকুরের মত আশ্রয় ভিক্ষা করে।

আমরা প্রবাসীরা আর যাই হই, দেশের যে কোনো প্রয়োজনে সবার আগে আমরাই সাড়া দেই। আর তাইতো বাংলাদেশে থাকা মানুষেরা(!!!) যখন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী "প্রভুপ্রতীম রাষ্ট্রের" বিশিষ্ট বাইজীদের এনে আর্মি স্টেডিয়ামে উদাম নর্তন কূর্দন করেন, তখন আমরা এই প্রবাসী কালো বিড়ালরাই শুধু তার প্রতিবাদ করি। এফএম রেডিওতে যখন নির্লজ্জ বেহায়ার মতন হিন্দি গানের সাথে আপনারা থলথলে বিশাল বপু সহকারে পা নাচাতে থাকেন তখন আমরা প্রবাসী কালো বিড়ালরা স্টেশন বদল করে অন্য স্টেশন শোনার চেষ্ঠা করি যেখানে বাংলা অনুষ্ঠান চলছে।

জানি, আমার এই ভেজর ভেজর শুনে অনেকেই হয়তো বলবে, যেমন আগেও বলেছে, এতোই যদি দেশপ্রেম তাহলে দেশে না থেকে বিদেশে কেনো পড়ে আছো কিংবা "আছেন"??? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, ভালো হয়েছে দেশ ছেড়েছি, নাহলে তোমাদের / আপনাদের মতোই পচে গলে যে "নষ্ট" হয়ে যেতাম!!!!

পরিশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, এই জন্য যে এই বেটা জানোয়ারকে তিনি সবকিছু থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি সত্যিই আন্তরিক ধন্যবাদ দিতাম যদি আপনি এটাকে অব্যহতি না দিয়ে সরাসরি "বহিস্কার করতেন!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×