somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ

০৩ রা মে, ২০২৪ সকাল ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাজায় হামাস উচ্ছেদ অতি সন্নিকটে হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক ও লসএঞ্জেলসে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছিল। আস্তে আস্তে নিউ ইয়র্ক ও অন্যান্ন ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভকারীরা রীতিমত তাঁবু টানিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছিল।




এসব আন্দোলন বিক্ষোভ খুব একটা সফল হবে না।
বিক্ষোভে সাধারন আমেরিকানরা খুব একটা সংস্লিষ্ট হয় নি। ৫,৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মাত্র ৪১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হলেও
মুলত বিক্ষোভ জমেছে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ও সিটি ইউনিভার্সিটি আর ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউসিএলএ আর সাউদার্ন। মৌলবাদ সমর্থক মুসলিম কংরেস সদস্য ইলহাম ওমরের মেয়ের নেতৃত্বে ইমিগ্রেন্ট ও স্টুডেন্ট ভিসায় আগতরা বিক্ষোভে ফ্রন্টলাইনে দেখা যাচ্ছে। যে কারনে মেইন্সট্রিম মিডিয়ার দায়সারা কিছু সমর্থন। অনেক সময় নেগেটিভ খবরও প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইসরাইল বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ জমে না উঠার আরো একটা বড় কারণ ভিয়েতনাম যুদ্ধের মত আমেরিকা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িত নয়। তাই আমেরিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন কেন?
এছাড়া আমেরিকায় বিদ্বেষ প্রতিরোধ অ্যান্টি সিমিটিজম আইন আছে। বিদ্যমান ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ইহুদিবিরোধী বৈষম্য ও হয়রানি এমনিতেই নিষিদ্ধ। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো অল্পতেই পুলিশ ডাকতে পেরেছে এবং নির্দ্বিধায় গ্রেফতার করতে পারছে। ইতিমধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের নেতা একটি অতি বিতর্কিত ইহুদী বিরোধী মন্তব্যে সবাই বিব্রত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বক্তব্য ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় চলে সরকারি নয়, দাতাদের অনুদানে। দাতাদের অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত বিক্ষোভ থামানো না হলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেবেন।

যারা এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এজন প্রাক্তন ছাত্র রবার্ট ক্রাফট তিনি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়ট এনএফএল দলের মালিক।

মি. ক্রাফট বলেছেন যে, “সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিবেন।


আমেরিকার রাজনিতিকরাও বসে নেই
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে একটি বিল দ্রুততার সাথে উত্থাপন ও পাস হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার থাকা মানবধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও গতকাল বুধবার বিলটি পাস হয়। এটি এখন অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। দ্রুততার সাথে পাসও হয়ে যাবে। গতকাল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩২০ জন সদস্য। আর বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৯১ জন। গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিলটি পাস করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সোমবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে। তিনি “ইহুদি-বিদ্বেষমূলক প্রতিবাদের” নিন্দা জানিয়েছেন।

কিছুদিন আগে গুগল অফিসেও ২৮ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তকৃত কর্মীরা লাঞ্চ টাইমে ইসরাইল বিরোধী মামুলি প্রতিবাদ করে বসে থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের গুগল অফিসে অবস্থান করেছিল।

গুগল ক্লাউডের সিইও থমাস কুরিয়ানের অফিসেও কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, গুগল শুধু প্রতিবাদকারী কর্মীদেই বরখাস্ত করেনি, নিছক বিক্ষোভ যারা দেখছিল এমন দর্শক কর্মীও চাকরি হারিয়েছে। গুগলের একজন প্রাক্তণ কর্মচারী বলেছেন, তাঁকে শুধু বিক্ষোভ দেখা ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মাত্র ‘চার মিনিট’ কথা বলার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২৪ সকাল ৮:০৭
১৬টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×