ক্যাডেটদের বিনোদনের একটা বড় অংশ জুড়েই আছেন শিক্ষকরা। তাদের যে কোনো আলোচনা, গল্প-গুজবে তাই শিক্ষকদের উপস্থিতি অনিবার্য। এই যে ২৮ বছর আগে কলেজ ছেড়েছি, এখনো বন্ধুদের আড্ডায় শিক্ষকরা ভালোভাবেই উপস্থিত থাকেন। গতকাল রাতেও প্রবাসী বন্ধু কামরুলের সম্মানে আয়োজিত আড্ডায় মি. দেলোয়ারকে নিয়ে সে বেশ মজা করলো।
এরকমই একজন শিক্ষক ক্যাপ্টেন বাচ্চী খান। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে সে সময়ের পশ্চিম পাকিস্তানের খেমকরণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। আমরা কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর বাচ্চী খান আরো কয়েকটি ক্যাডেট কলেজে চাকরি করেছিলেন। তো বাচ্চী খান আমাদের পড়াতেন সামরিক বিজ্ঞান। একমাত্র ক্যাডেট কলেজে সে সময় এই বিষয়টি পড়ানো হতো। ইন্টারমিডিয়েটে আমরা সামরিক বিজ্ঞান চতুর্থ বিষয় হিসাবে নিতাম নম্বর তোলার জন্য।
বাচ্চী খান ক্লাসে পড়ানোর সময় উদাহরণ হিসাবে মানুষের শরীরকে নিয়েআসতে বেশি ভালবাসতেন। সামরিক বাহিনীতে চাকরি করার কারণেই তার এই শরীর প্রীতি বলাবাহুল্য।
যেমন 'উপত্যকা' বিষয়টি আমরা পাহাড়ের মাঝে সমতল ভূমিকে বুঝি। বাচ্চী খান উপত্যকা বোঝাতেন 'ক্লিভেজ' উদাহরণ দিয়ে। কিশোরদের উপত্যকা শেখানোর এরচেয়ে আর ভালো উদাহরণ হয় না।
তো একবার ক্লাসে তিনি আমাদের বিয়ের মাহাত্ম্য বোঝাচ্ছেন। তিনি বলছেন বিয়েটা দারুণ বিষয়। নারী-পুরুষের এই সম্পর্কটা চিরন্তন। এই সম্পর্কে শরীর যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তাও তিনি ব্যাখ্যা করেন। এরকম আলোচনার এক পর্যায়ে আমাদের বন্ধু দারুণ দুষ্টু ইজাজ আহমেদ আলোচনাটা দীর্ঘায়িত করতে চাইলো। নিজেকে বেশ বোকাসোকাভাবে উপস্থাপন করে ইজাজ দাড়িয়ে বললো,
"কিন্তু স্যার আমি তো বিয়ে করবো না।"
হতভম্ব বাচ্চী খান কিছুটা সময় নিলেন, তারপর ইজাজকে কাছে ডাকলেন। বললেন, "তুমি বিয়ে করবে না? কেন? তোমার বাবা-মা আছেন?"
ইজাজ বললো, "জি স্যার, আছেন।"
বাচ্চী খান : তারা কি নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি করেন?
ইজাজ : না, স্যার।
বাচ্চী খান : তাহলে, তোমার বড় ভাই আছেন?
ইজাজ : জি স্যার।
বাচ্চী খান : সে কি বিয়ে করেছে?
ইজাজ : জি স্যার করেছে।
বাচ্চী খান : তোমার ভাই আর ভাবী কি ঝগড়াঝাটি করেন?
ইজাজ : না স্যার। তারা ভালো আছেন।
বাচ্চী খান : তোমার বোন আছে?
ইজাজ : জি স্যার।
বাচ্চী খান : সে কি বিয়ে করেছে?
ইজাজ : জি স্যার করেছে।
বাচ্চী খান : তোমার বোন আর দুলাভাই কি ঝগড়াঝাটি করেন?
ইজাজ : না স্যার। তাদের খুব সুখের সংসার।
বাচ্চী খান এতোসব শুনে রীতিমতো বিষ্মিত। কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারেন না কেন ইজাজ তাহলে বিয়ে করবে না।
ক্ষুব্ধ বাচ্চী খান এবার তার শেষ প্রশ্ন করলেন, "তাহলে কেন বিয়ে করবে না তুমি। তোমার কি 'উইপনে' সমস্যা আছে?"
স্যারের শেষ প্রশ্ন বা মন্তব্য শুনে আমরা পুরো ক্লাস হো হো হাসিতে ফেটে পরেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


