somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে পাপ আযাব ডেকে আনছে : পর্ব-১

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসলিম বিশ্ব যে কতটা দুর্বল ও মেরুদন্ডহীন, কতটা বিবেক ও চেতনাহীন এবং কতটা পঙ্গু ও অসহায় সেটি এখন সুস্পষ্ট। ঘরে দুর্বত্ত সন্ত্রাসী বা ডাকাত ঢুকলে প্রতিবাদের সাহস থাকে না নিরস্ত্র গৃহকর্তার। সন্তানকে খুন বা স্ত্রী-কণ্যাকে ধর্ষিত হতে দেখেও এমন দুর্বল ব্যক্তির কিছূ করার সামর্থ থাকে না। এরুপ নিষ্ঠুর বর্বরতাকেও তখন নীরবে সইতে হয় । যুগে যুগে এভাবেই সমাজের পশুবৎ দুর্বত্তদের হাতে কোটি কোটি মানুষ নিহত হয়েছে। ধর্ষিতাও হয়েছে কোটি কোটি অসহায় নারী। ফিলিস্তিন, কাশ্মির, গুজরাত, চেচনিয়া ও আফগানিস্তানের জনপদে অসংখ্য মানুষ এসব দুর্বত্তদের হাতে এখনও নিহত ও ধর্ষিতা হচ্ছে। ইসলামে তাই নিরস্ত্র বা দূর্বল থাকাটাই মহাপাপ। এমন দুর্বলদের মহান আল্লাহপাকও অপছন্দ করেন। নিছক নামাজ রোযা, হজ্ব-যাকাত বা দোয়াদরুদে এ পাপমুক্তি ঘটে না। আর এ মহাপাপ যে ভয়ানক আযাব ডেকে আনে সে প্রমাণও প্রচুর। আল্লাহর দরবারে নিছক চোখের পানি ফেলে তা থেকে পরিত্রাণ মেলে না। কারণ, পরিত্রাণের পথ এটি নয়। মহান আল্লাহতায়ালা পরিত্রাণের পথ নির্দেশ করেছেন এভাবে-

’ওয়া আয়েদ্দুলাহুম মাস্তাতা’তুম মিন কুওয়া ওয়া মিন রিবাতিল খাইলি তুরহেবুনা বিহি আদুওয়াল্লাহ ওয়া আদুওয়ালাকুম’
অর্থঃ যুদ্ধের জন্য প্রস'ত হও সমগ্র সামর্থ দিয়ে এবং প্রস'ত রাখো তোমাদের ঘোড়া যা ভয় সৃষ্টি করবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের মনে .. সুরা আনফাল -৬০)।

এ নির্দেশ পালন ততটাই ফরয় যতটা ফরয নামাযরোযা পালন। কারণ এ ফরমানও মহান আল্লাহর কোরআনী ফরমান। মুসলামানের কাজই তো হলো আল্লাহর প্রতিটি হুকুমকে সুচারু ভাবে পালন। এমন একটি সুস্পষ্ট কোরআনী ঘোষনার প্রতি তাচ্ছিল্য বা অবাধ্যতাই কি আল্লাহর অবাধ্য বান্দাহ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? শুধু নামায-রোযা পালনে এ ফরজ আদায় হওয়ার নয়। নবী পাক (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদের মধ্যে এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা শত্রুর বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সর্বাত্মক ভাবে প্রস'ত করেননি বা যুদ্ধে অংশ নেননি। এমনকি বৃদ্ধ, যুবক এবং অতিশয় নিঃস্বরাও একাজে স্বতঃস্ফুর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন। অঙ্গিকারহীন নিস্ক্রিয়রা চিত্রিত হয়েছে মোনাফিক রূপে। নবীজীর (সাঃ) পিছনে নামাযপাঠও এমন মোনাফিকদের মোনফিক হওয়া থেকে তাই বাঁচাতে পারিনি। কিন্তু আজকের মুসলমানদের মাঝে ক’জনের মধ্যে রয়েছে কোরআনের এ অমোঘ ফরমান পালনে আগ্রহ? নবীজীর (সাঃ) নফল ইবাদত, নফল নামায ও বহু নফল আমলকে আমরা সূন্নত গণ্য করি। এ সূন্নত পালন না করলে নিজেকে গোনাহগারও ভাবি। অথচ শত্রুর বিরদ্ধে জিহাদে নিজেকে প্রস্তুত রাখা কোন নফল কাজ নয়, এটি ফরজ। এর নির্দেশ এসেছে মহান আল্লাহপাক থেকে। কিন্তু সে ফরজ আমরা ক’জন পালন করি। আমাদের সমগ্র উপার্জন এবং সামর্থের শতকরা ক’ ভাগ এ কাজে খরচ করি? উপরে বর্র্ণীত আয়াতে আল্লাহপাক মুসলমানদেরকে নিজেদের ঘোড়াকে সর্বদা প্রস্তুত রাখার কথা বলেছেন। সে কালে ঘোড়া রণাঙ্গণে ট্যাংকের কাজ দিত। ফলে ঘোড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। দরিদ্র সাহাবীদের সামর্থ ছিল না সুন্দর গৃহ নির্মানের, অনেকের ঘরে এমনকি দু-বেলা খাবারও জুটতো না। কিন্তু জীর্ণঘরে বা জরাজীর্ণ বসনে থেকেও তারা উন্নত মানের ঘোড়া কিনতেন। সে ঘোড়াকে সুস্থ্য-সবল রাখতে অর্থের পাশাপাশি প্রচুর সময়ও ব্যয় করতেন। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ও ইসলামের বিজয়ে এটি ছিল অতিশয় স্ট্রাটেজিক প্রয়োজন। এ সামরিক আয়োজনে রাষ্ট্রীয় তহবিলের যা ব্যয় হতো তার চেয়ে বেশী হতো তাদের নিজেদের ব্যয়। এভাবেই প্রকাশ পেতো মহান আল্লাহর নির্দেশের প্রতি গভীর আনুগত্য। এ পথেই সে কালের দরিদ্র মুসলমানেদের জীবনে এসেছিল উপর্যপরি বিজয়। এবং এ বিজয়ের সবচেয়ে বড় সম্বল ছিল মহান আল্লাহর সাহায্য। তাদের সাহায্যে তিনি বার বার ফেরশতা পাঠিয়েছেন। নিছক দোয়া নয়, এমন সাহায্য লাভে অপরিহার্য হলো ঈমানদারের নিজের বিণিয়োগটা। এমন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বার বার দিয়েছেন। যে দরিদ্র মুসলমান তার জীবনের সমগ্রই সঞ্চয়ই শুধূ নয়, প্রিয় প্রাণটিও যেখানে আল্লাহর পথে খরচ করতে দুপায়ে খাড়া তাকে মহান আল্লাহ সাহায্য করবেন না সেটি কি হয়? কারণ সে তো আল্লাহর দলেরই সৈনিক। তাদের ক্ষুদ্রতা তিনি পুরণ করেন নিজের অসীম কুদরত দিয়ে। যে কৃষক জমিতে কোন শ্রমই বিণিয়োগ করেনি, বপন করেনি একটি বীজও সে কি করে ক্ষেতে ফসল ফলাতে পারে? কি করে পেতে পারে সুখ-স্বাচ্ছন্দময় জীবন? সারা রাতের নফল ইবাদত বা চোখের পানি ফেলা ক্রন্দনে কি সেটি সম্ভব? আর সেটি সম্ভব হলে নবীজী (সাঃ) যুদ্ধের ময়দানে কেন নিজের রক্ত ফেললেন? প্রায় সত্তর ভাগ সাহাবী কেন শহীদ হলেন? বিশ্বে আজ শত কোটিরও বেশী মুসলমান। মুসলিম ভূমি আজ একের পর এক পরাভূত হচ্ছে, মুসলমানেরা লাশ হচ্ছে এবং মাবোনের ধর্ষণও শত্রুর উৎসবে পরিণত হয়েছে, কিন' মুসমানদের মাঝে এর বিরুদ্ধে প্রস'তি কৈ? আমরা ক’জন নিজেদের্‌ জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় এক ফোটা রক্ত বিণিয়োগ করেছি? ক’জন বিণিয়োগ করেছি নিজেদের অর্থ, শ্রম ও মেধা? নিজেদের সামর্থ কি শুধু নিজ জীবনের আরাম আয়াস বাড়াতেই ব্যয় হচ্ছে না? অতএব এমন স্বার্থপরদের আল্লাহপাক কেন বিজয় দিবেন? কেনই বা তাদের জীবনে নিরাপত্তা দিবেন?

(চলবে……………….)
( কৃতজ্ঞতা ডা. ফিরোজ মাহবুব কামাল )
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩৪
১৮টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×