somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের কাছে রোদ্দুরের চিঠি-৯

১৫ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



#মেঘের_কাছে_রোদ্দুরের_চিঠি_০৯
#তুমি_আজ_আমার_আঙিনার_কলাপাতা_হয়ে_যাও

মেরে মেঘ ক্যায়সে হু.......
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমিও ভালো থাকো এই কামনাই করছি। তা দিনকাল কেমন যাচ্ছে। ইদানিং সকালবেলা গুলো খুবই ভালো কাটছে আমার, খুবই মুগ্ধতায়, গেস করোতো কেনো হতে পারে এমন-আমি জানি তুমি পারবে আন্দাজ করতে হাহাহা ..... কারণ এই সময়টাতেই কিছু সময় নিজের করে পাই স্বাধীনতায় উচ্ছ্বাসে।

মেঘ ও মেরে মেঘ এভাবেই চাই কিছু সময়-যে সময়গুলো শুধু আমার হবে। হয়তো সেই সময়ের পরিমাণ খুব কম যেমন ধরো ঘন্টা দেড় হবে-তাই বা কম কিসের। অন্তত এই সময়টাতে মুগ্ধতা যা আছে সব নিয়ে নেই চোখের পাতায় আর মনের অথৈ এ। যা দিয়ে আমি দিনের শুরুটা করতে পারি তৃপ্তিতে।

যদিও ঘুম ঘুম চোখে বের হই- বা উঠে পড়ি -পরে ঠিকই ভালো লাগে। ফ্রেস লাগে। আমি চাই আমার দিনের শুরু এভাবে হোক-ফজরের মধুর আযানের ধ্বনি শুনে আমার ঘুম ভাঙ্গুক-আড়মোড়া দিয়ে ঘুম ভেঙ্গে উঠে অযু করে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখির কিচিরমিচির শুনা প্রহর হোক শুধু আমার। পূর্বাশার আলোয় দেখতে চাই পাতাদের গায়ের ঝকমকানি। কিছুক্ষণ ভোরের হাওয়ায় নিজেকে একান্তে মেলে ধরে... রেস্ট নিয়ে তারপর না হয় দিনের শুরুটা হোক। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব ঘুম পেয়ে যায় কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারিনা। বেশী রাত করে ঘুমানোর জন্য এসব হচ্ছে। রাত দিন মিলিয়ে মনে হয় সময়টা আমার জন্য অল্প হয়ে গেলো।

যেটুক সময় হাতে পেলাম
মুগ্ধতা করব আহরণ
নিজের ভাগ্যে যা-ই আছে
হাসি দিয়ে করব বরণ।

সুখের সকাল উদাস দুপুর
বিকেল হোক-না মিষ্টি তবে
গোধূলিয়ায় আঁধার ডাকলে
মনটা তখন ঘরেই রবে।

জীবন মোদের দু:খ সুখের
এমনতরো আজব ভেলা
ভাসতে ডুবতে বেলা গিয়ে
সাঙ্গ হবে ভব খেলা।

সঙ্গে কি আর যাবে শুনি
নিজের করে যা-ই পেলাম
না হয় তবে ভালোবাসা
অকাতরে দিয়ে গেলাম।

মেঘ তুমি আমার দীর্ঘশ্বাসগুলো নিবে একটু! এত সুখ কুঁড়াই এতটা মুগ্ধতা নিয়ে বাঁচি তবু কিছু দীর্ঘশ্বাস বুকে আটকে থাকে ঢুক গিলতে বা সুখ গিলতে বা মুগ্ধতা গিলতে খুব কষ্ট হয়। সময় অসময় দীর্ঘশ্বাস আমাকে ঝেঁকে ধরে। ভাল্লাগে না তখন কিছুই। তখন তুমি পাশে থাকলে খুব ভালো হতো তাই না। আমার দু:খগুলো ভুলিয়ে দিতে তুমিই পারতে বলে আমার ধারনা। তুমি তো জীবনের ছন্দ জানো। তোমার উপর বয়ে যাওয়া ঝড় ঝাপটা কত গেছে আমার ধারণা তবু তুমি প্রাণ খুলে হাসতে পারো ছন্দ নিয়ে খেলতে পারো জীবনের। কোন একদিন সময় পেলে তুমি চলে এসো কোন এক ভর দুপুরে। যখন আমি উদাস বসে ভাবছিলাম তোমার কথা। আমাকে চমকে দিয়ো প্লিজ কোন একদিন। পুরো দুপুর আর বিকালটা তবে তোমার হবে কথা দিলাম।

মাঝে মাঝে বড্ড ইচ্ছে মাফিক চলতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা বড্ড কঠোর তাই না মেঘ। কঠোর হয়ে ভালোই হয়েছে। কষ্টগুলো মনের ভিতর তুলে রাখতে পারছি আর অল্প সুখেই জীবন কতটা সুন্দর তা বুঝতে পারছি।

শত কষ্টে একটু যদি
সুখের আসে ছোঁয়া
যায়রে যায় এ মন যে আমার
সুখের তরে খোয়া।

দু:খ যদি নাই-বা থাকলো
সুখের মজা নাই তো
কষ্ট বিনে সুখ খেলে যে
পুড়ে অন্তর ছাই তো।

সুখ'রা থাকুক দূরে দূরে
দু:খ থাকুক ঘেঁষে
হঠাৎ উড়ে আসুক সুখ'রা
বরণ করবো হেসে।

সুখের মজা বুঝতে পারব
ছুঁয়ে দেখবো যে সুখ
আঁকড়ে ধরবো বুকে আমি
তা-সে যতই ছোট হোক।

মেঘ তুমি আমার সুখ হবে অল্প? তোমাকে নিয়ে লিখতে চাই হাজার কবিতা। তুমি কি লিখবে আমাকে নিয়ে। একটা কবিতা বা ছড়া । তুমি তো ছন্দ অনেক জানো। যেভাবে ছন্দে ছন্দে আমার মনটা কাঁপিয়ে দিয়ে যাও সেভাবেই একটা কবিতা লিখো আমার জন্য। চিঠির উত্তর দিতে হবে নাকো। শুধু হাজারটা কবিতা লিখো! এই বলোনা লিখবে নাকি?

আজ ছুটির দিন। বাইরে ঝাঁঝাল রোদ্দুর। কচি কলাপাতায় রোদ্দুরের ঝকমকানি বেশ লাগছে, ছবি তুলে রেখেছি, দেখাব নি তোমায়। তুমি ত আমার মতই প্রকৃতি প্রেমি তাই না মেঘ! কলাপাতার রঙ রোদ্দুরের আলোয় যা লাগছে না। অসম্ভব সুন্দর। ভাবছি তোমাকে এই কালারের একটা পোষাক গিফট করব।

কলাপাতার পোষাক দিয়ে
সাজিয়ে যে দিব গো
মাথায় কলাপাতার টোপর
পরিয়ে যে নিব গো।

কলাপাতার থালায় দিব
খেতে তোমায় প্রেম গো
আর খেলোনা আমায় নিয়ে
ভালোবাসার সে গেম গো!

কলাপাতার বিছনা পেতে
দিব তোমায় শুতে গো
মনের মাঝে প্রেমের বীজ যে
দিব আমি পোতে গো!

কলাপাতার রঙটা এনে
দিব তোমায় ছুঁয়ে গো
পড়ো তুমি চোখে আমার
ভালোবেসে নুয়ে গো!

কলাপাতার ছাতা দিব
প্রেমের বৃষ্টি আসলে গো
ভাসব দুজন জলের ঢেউয়ে
এই বুঝি বা ভাসলে গো!

কলাপাতার ছাউনি দিয়ে
হবে মোদের নীড় গো
শান্তি এসে নিত্য ঘরে
বাড়াবে সে ভিড় গো!

হা হা হা হা মেঘ, আজ তুমি কলাপাতাময় হা হা। আসছি কিন্তু। কলাপাতার রঙের মতই থেকো চিরসবুজ, যেমনটি আছি আমি। সুন্দর থেকো, জুমা মোবারক। জুমায় যেয়ো কিন্তু। ফি আমানিল্লাহ। ভাল থেকো- রোদ্দুর।

পুনশ্চঃ উত্তর নয়। কবিতা চাই। ছন্দ চাই। মাত্রা চাই। আর তুমি হয়ে যাও আমার কবিতার শিরোনাম। নিজের দিকে খেয়াল রেখো শুভকামনা শুভেচ্ছা আর অফুরন্ত ভালবাসা রইল!

২৩-০৯-২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:৪৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×