somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যত গভীর সম্পর্কই হোক না কেনো তা শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ডের প্রয়োজন হয়

০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড়লোকের ছেলে বেকার হলেও বিবাহযোগ্য কিন্তু গরীবের বেকার ছেলের বিয়ে তো দূরে থাক সে ডাস্টবিনের সমতূল্য।

এলাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত্ব পরিবারের ছেলে আপন।
ছেলেটি দেখতে এতটাই সুন্দর যে এলাকার বড়লোকের ছেলেরা তার পাশে দাড়ালেও মেয়েরা সব তাকেই পছন্দ করে।
গরীব পরিবারে ছেলেদের প্রেম ভালোবাসা করতে হয়না তা হয়ত আপনকে কেউ কখনো বুঝিয়ে দেইনি তাই সে আজ পরাজিত।

২০০৮সালে একটি মেয়ে আপনের সাথে বন্ধুত্ত্ব গড়ে তোলে কিন্তু আপন তাকে ভালবেসে প্রেমের প্রস্তাব দেই। এরপর মেয়েটি আপনকে সরাসরি বলল, "যদি সে একটা পালসার বাইক কিনে তবেই মেয়েটি তার সাথে প্রেম করবে।"

মেয়েটির কথাই আপন মেয়েটির জন্য অনেক কাদল এবং কষ্টে তার বাইসাইকেল বিক্রি করে পায়ে হেটে এবং রিক্সায় করে যাতায়াত শুরু করলো। এক সময় মেয়েটি আপনকে ছেড়ে চলে গেলো ।
মেয়েটির জন্য আপন দুই বছর খুব কষ্টে ছিলো এবং যে কোন মূল্যে মেয়েটিকে ফিরে পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

আপন ভূলেই গেছে যে সে একজন নিম্নমধ্যবিত্ত্ব পরিবারে ছেলে..

২০১১সালের দিকে আপনকে আবারো একজন ধনীর মেয়ে প্রেমের প্রস্তাব করে বসলো। মেয়েটি আপনকে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাই এবং আপনও মেয়েটিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল।
আপন এখন কিছুটা বুঝতে পারছে যে সে এই মেয়েটিকেও হয়ত ধরে রাখতে পারবে না। তবে মেয়েটি যখন তাকে ভালবাসে তখন সে এই মেয়েটিকে মন প্রান দিয়েই ভালবাসবে। মেয়েটি আপনকে অনেক ভবিষৎ-এর স্বপ্ন দেখালো।

মেয়েটির সাথে আপনের অনেক ঘটিষ্ঠ এবং মধুর সম্পর্কের সৃষ্টি হলো, আপন যেন এখন নতুন একটি পৃথিবী খুজে পেলো।

মেয়েটি আপনকে বিভিন্ন গিফট দেওয়া শুরু করলো তারপর থেকে আপনও মেয়েটিকে বিলাসবহুল শপিংমল থেকে দামী দামী গিফট কিনে দিতে লাগলো।

আপনের সাধ্যমত সবচেয়ে দামী জিনিসগুলো মেয়েটির জন্য কিনতে লাগলো।
পরিবারের কষ্টের টাকা বিভিন্ন মিথ্যা কথা বলে আপন নিতে লাগলো এবং এই মেয়েটির পিছনে ব্যায় করতে শুরু করলো। এক পর্যায়ে মেয়েটির বাসা থেকে এবং তাদের এলাকার লোকজন সবাই তাদের সম্পর্কের কথা জেনে গেলো।

এরপর একদিন গোপনে তারা দেখা করতে গেলে মেয়েটির পরিবারের কাছে আপন চড়মভাবে অপমানিত হয় এবং মার খাই।

তারপর বেশ কিছুদিন তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবারও তাদের গোপনে মধুর সম্পর্কে সৃষ্টি হলো এবং মেয়েটি আপনকে কোরআন শরীফ ছুয়ে কথা দিল যে সে তাকে বিয়ে করবে এবং তাকে ছেড়ে কখনই সে চলে যাবে না।

আপন নিশ্চিত হলো যে, "সে হয়ত মেয়েটিকে বউ হিসেবে পেতে যাচ্ছে।"
এখন থেকে মেয়েটির সব দায়িত্ত্ব আপনের। তাই সে সাধ্যমত মেয়েটির পিছনে টাকা খরচ করতে লাগল।

আপনের পরিবার এখন মেয়েটির ব্যাপারে সবই জানতে পারলো এবং মেয়ের সম্মতির কারনে আপনের পরিবারও তাদের সম্পর্কেরও সম্মতি দিলো।

কিন্তু হঠাৎ করেই কোন কারন ছাড়া যেনো আপনের মাথাই আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মেয়েটা আপনকে বলে দিলো সে তার পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে না এবং তারপর খুব দ্রুত তাদের ব্রেক আপ হলো।

আপন মেয়েটির বান্ধবী ও আত্নীয়দের মাধ্যমে খোজ নিতে লাগলো এবং সবাই তাকে জানালো মেয়েটি আপনের উদ্দেশ্যে বলেছে, "তার যদি দুই কোটি টাকা থাকত তবে সে তার হাত ধরে পালিয়ে যেতো। তার এখন আর কিচ্ছু করার নেই"

আপন মানসিকভাবে খুব কষ্ট পেলো এবং তার সাধ্যমত মেয়েটিকে ফিরে পাবার চেষ্টা করলো। এক পর্যায়ে মেয়েটির পরিবার আপনের বাসায় এসে মেয়ের দেওয়া সকল গিফট, চিঠি ফেরত নিয়ে গেলো এবং আপনের বিরুদ্ধে মেয়েটির বিরক্ত করার অভিযোগ এনে পুলিশের শরনাপর্ন হলো এবং আপনকে পুলিশ ধরেও নিয়ে গেলো।
তার কিছুদিন পর পরই মেয়েটির অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয় গেলো।
!!
একটি বাস্তবধর্মী কাহিনী থেকে এটাই পরীষ্কার যত গভীর সম্পর্কই হোক না কেনো তা শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ডের প্রয়োজন হয়।

পৃথিবীতে পরিবারের ভালবাসার চেয়ে দামী এবং বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক আর কিছুই নেই। আজ আপন নিম্নবিত্ত্ব হলেও সে চেয়েছিল তার ভালবাসা যেন তার কাছে ফিরে আছে কিন্তু কোনভাবেই তা ফেরত আনা সম্ভব হলো না।

আপনের সৌন্দর্যের কারনে আপনের জন্য এখনো অনেক মেয়ে ঠিকই অপেহ্মা করে কিন্তু আপন এখন আর ভালবাসি শব্দটি দ্বিতীয়বার শুনতে পছন্দ করে না।
আপন এখন হাড়ে হাড়ে বুঝে গেছে যে ভালবাসা মানে হলো শুধু অর্থ এবং টাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×