somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৯/১১ হামলা ছিল মার্কিন গোয়েন্দা কারসাজি: আহমাদিনেজাদ

০৮ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর (৯/১১) যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে বড় ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে আফগানিস্তানে আক্রমণ চালাতে এই মিথ্যাকে ব্যবহার করা হয়েছে। গত শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা প্রচার করে।
শনিবার তেহরানে গোয়েন্দা দপ্তরের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘ওই হামলাটি একটি জটিল গোয়েন্দা-কারসাজি ছিল।’ এর আগেও টুইন টাওয়ারে হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। এবার পুরো ঘটনাকে ‘বড় মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করলেন তিনি।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনে যাত্রীবাহী বিমান নিয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে টুইন টাওয়ার এলাকা পরিদর্শন করতে চাইলে আহমাদিনেজাদকে অনুমতি দেয়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গতকাল ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ আজ সোমবার আফগানিস্তান সফর করবেন। সেখানে তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দেখা করবেন।
অবরোধ লঙ্ঘনকারীদের অর্থ সরবরাহ: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ লঙ্ঘনকারী ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোটি কোটি ডলার দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। গত শনিবার প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। পত্রিকাটি জানিয়েছে, অবরোধ লঙ্ঘন করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, এমন মার্কিন ও বিদেশি কোম্পানিগুলোকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের শুধু তেল ও গ্যাস খাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, এমন কেম্পানিগুলোকে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি পর্যালোচনা প্রতিবেদন ও ব্যবসায়িক নথিপত্র থেকে এই হিসাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ওবামা ও তাঁর পূর্বসূরি জর্জ বুশের প্রশাসন এ ব্যাপারে মিশ্র আচরণ করেছে উল্লেখ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ নীতি অবলম্বনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করেছে দুটি সরকারই।
জ্বালানি খাত ছাড়া ইরানে গাড়ি নির্মাণ ও সরবরাহ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোও আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছে। ইরানের গ্যাস খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থল ও সমুদ্রে এক কোটি ৪০ লাখ একর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি পেয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে ক্যানসার গবেষণা ও কৃষি নিয়ে কাজ করছে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন সরকারের কাছ থেকে বিপুল অনুদান ও ঋণ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বেশির ভাগ ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে মার্কিন কোম্পানির ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
চীনের বিরোধিতা: পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করার ব্যাপারে বিরোধিতা করেছে চীন। গতকাল রোববার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জাইচি বলেন, ‘পরমাণু কর্মসূচি থেকে ইরানকে সরিয়ে আনতে অবরোধ বা চাপ কার্যকর পন্থা নয়। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এখন কিছুটা সংকটজনক পরিস্থিতি চলছে, কিন্তু আমরা মনে করি কূটনৈতিক উপায়ে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ এখনো খোলা আছে।’ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতি চীনের অশোধিত তেলের তৃতীয় বৃহত্তম উত্স তেহরান।
ক্ষেপণাস্ত্র উত্পাদন: ইরান গতকাল রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন স্বল্প পাল্লার ‘ক্রুজ মিসাইল’ উত্পাদনের জন্য নতুন ‘প্রোডাকশন লাইন’ চালু করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা জানানো হয়। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আহমাদ ভাহিদির বরাত দিয়ে টেলিভিশনে জানানো হয়, নাসর-১ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার টন ওজনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে। স্থলভাগ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ডুবোজাহাজ ও হেলিকপ্টার থেকে ছোড়ার উপযোগী করেও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এপি, এএফপি, রয়টার্স।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×