somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশরাফুল ও মাশরাফির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত...আইপিএলে উপেক্ষিত ।ভারত কি ইচ্ছে করেই করছে ?

১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইপিএলের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। বিশাল এক আশাকে পুঁজি করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি প্যাভিলিয়নের বারান্দায় বসে থাকা ছাড়া আশরাফুলের যেন আইপিএলের কিছুই করার নেই। মুম্বাইয়ের সহ-যোদ্ধা হয়ে দেশ ছাড়ার আগে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার একটা সুযোগও তার রপ্ত করার প্রয়াস ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতি তো ধুলোয় উড়ে গেছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে অতৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ি প্রতিটি ম্যাচে চারজন বিদেশী খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ রয়েছে প্রতিটি দলের। আশরাফুল মুম্বাই দলে নাম লেখানোর পর থেকে বাঙ্গালী দর্র্শকরা অপেক্ষা করতেন কখন আশরাফুলের মন মাতানো ব্যাটিং দেখবেন। কিন্তু মুম্বাইয়ের অবিবেচক সিদ্ধান্তে প্রতিটি ম্যাচে আশরাফুল উপেক্ষিত। মুম্বাইয়ের ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক যে পজিশনে খেলে থাকেন, মুম্বাইয়ের টিম ম্যানেজম্যান্ট সেখানে ডুমিনিকে পাঠাচ্ছেন। ওপেনিংয়ে জয়সুরিয়া, মিডল অর্ডারে ব্রাভো এবং বোলিংয়ে মালিঙ্গা রয়েছেন। তাদের দলের ব্যাটিং লাইন আপে হয়তো আশরাফুলকে সেট করার উপায় নেই তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের অধিনায়ক

খেলবেন এই আশা করেছিলেন আম-জনতা। কিন্তু উপেক্ষা করার চরম পরিহাস দেখা গেল গত শুক্রবার। মুম্বাইয়ের নবম ম্যাচে জয়সুরিয়াকে বিশ্রাম দিয়েছিলো টিম ম্যানেজম্যান্ট। পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় অখ্যাত এক অস্ট্রেলিায়নকে লুকো রনচি যার নামের পাশে রয়েছে মাত্র ৪টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা! ২২টি টোয়েন্টি টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি, ২টি ফিফটি করতে সক্ষম হয়েছেন এই তরুণ। আর ওপেন করতে গিয়ে ২ বল খেলে শূন্য রানে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। সে ম্যাচটি অবশ্য মুম্বাই হেরেছে। জয়সুরিয়াকে যদি বিশ্রামে পাঠাবেই তবে আশরাফুলকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কারণ কি? তাহলে আশরাফৃল বাংলাদেশী বলে তাকে হেয়ালী করা হচ্ছেজুনে রয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসরবাংলাদেশ খেলবে বি-গ্রুপে, যেখানে রয়েছে শক্তিশালী ভারত এবং আয়ারল্যান্ড। ৬ জুন ভারতের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে অংশ নিবে আশরাফুলের দল।
টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশের গ্লামার খেলোয়াড় আশরাফুল ও মাশরাফি। তাদের পারফর্মেই ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে। কিন্তু পারফর্ম করতে না পারলে পতাকা উড়বেই বা কিভাবে। আইপিএল শুরু হয়েছে গত একমাস হলো। এই একমাসে আশরাফুল ব্যাট হাতে মাঠে নামার ফুরসুতই পাননি। প্রাকটিস ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু মুম্বাই টিম ম্যানেজম্যান্ট তাকে মূল দলে রাখেনি। টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে তাদের প্রাকটিস করার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রামে পিসিএল হওয়ায়। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়কের যদি ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য না হয়, তাহলে প্রাকটিসের অভাবে তিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে পারফর্ম করবেন কিভাবে? আশরাফুলের ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের ব্যাট হাসবে, গত কয়েক বছর ধরে এই সত্যটি প্রমাণ হয়ে আসছে।

গত টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একমাত্র জয় এসেছিলো এই আশরাফুলের হাত ধরে। সে ম্যাচে ৪৩ বলে ৬১ রান করেছিলেন, ৭টি চার ও ৩টি বিশাল ছয় মেরেছিলেন

ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পিছনে তার অবদান অন্য রকম। ১২৭ বলে ৮৭ রানের এক ঝকঝকা ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন এই লিটল মাষ্টার। ১২টি চারও ছিল তার ইনিংসে
বাংলাদেশকে জয় পাইয়ে দেবার পিছনে তার ব্যাটে যখন এত যাদু, অথচ তাকেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময় মুম্বাই দলে নাম লেখানোর পর থেকে মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন বাংলাদেশের এই লিটল মাষ্টার। মূল দলের প্রাকটিসের সময় তাকে দর্শকের ভূমিকায় বসে থাকতে হয়। প্রাকটিসের সুযোগ যে পান না তা নয়, কিন্তু সেটি আশরাফুলকে তৃপ্তি এনে দেয় না।

মাশরাফির অবস্থাও আশরাফুলের মতো। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে প্রতিটি ম্যাচেই উপেক্ষিত করে রেখেছে। আর তার বোলিং তোপেই ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরেছিলো ভারত
৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে যমদূত বোলার হিসেবে খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন মাশরাফি।
ভারতের সেই দুঃসহ স্মৃতি অবশ্য এখনো ভোলার নয়। হয়তো সেই প্রতিহিংসায় বাংলাদেশের এই দুই আইকন পুড়ছেন। এরা আইপিএলে খেলতে না পারায় ক্ষতি হয়েছে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশেরই।

=>> ভারত গত ৩৮ বছর ধরে অনেক ভাবে এই বাংলাদেশের উপর আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ।এখন দেখছি সেই আগ্রাসী ছুবল ক্রিকেট এর উপর ও চলে এসেছে ।বিশ্বকাপে যাতে আবার এই বাংলাদেশের কাছে হারতে না হয় সেজন্যই কি এই ২ প্রতিভাবান কে মাঠে নামাচ্ছে না ?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×