somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না ইহারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যতি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তবে তা’ রদ হবার নয়।আর তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক নেই।

* অদৃশ্য প্রহরীরা আল্লাহর আদেশে মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে।হযরত আলী (রা.) ও তাঁর আহলে বাইতের বেলায় সেটি ঘটেনি। তাঁদের ক্ষেত্রে হত্যাকান্ড একটি চলমান ঘটনা। ইদানিং তাঁদের আলী খামেনীকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তাঁদের শিয়া তাঁদের জন্য লক্ষাধীক সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) অসম্মান করে। আর তাঁরা তাঁদের শিয়াকে উক্ত জঘণ্য কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেন না। পক্ষান্তরে রাসূলের (সা.) চাচা আব্বাস (রা.) ও তাঁর আহলে বাইতের ক্ষেত্রে আয়াতে উল্লেখিত ঘটনা ঘটেছে। হযরত আব্বাস (রা.) ও তাঁর আহলে বাইত কর্তৃক সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অসম্মানের ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা হযরত মুয়াবিয়াকেও (রা.) অসম্মান করেননি। তাঁদের সৃষ্ট হানাফী কোন সাহাবার (সা.) অসম্মান সহ্য করে না। তারা হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) অসম্মানও সহ্য করে না। হযরত আব্বাসকে (সা.) আল্লাহ মানুষ থেকে রক্ষা করেছেন। উম্মতের অভিযোগ থেকে আল্লাহ তাঁকে সম্পূর্ণ পবিত্র রেখেছেন। তাঁরা ও তাঁদের অনুসারী হানাফীকে আল্লাহ একাধারে প্রায় বারশ বছর মুসলিম বিশ্বের শাসন ক্ষমতা প্রদান করেছেন। এখনো মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল, জনসংখ্যা ও দেশ হানাফীদের। তাদের নেতাদের ক্ষেত্রে হত্যাকান্ডের ঘটনা শিয়াদের মত নয়। সুতরাং আহলে বাইত হিসাবে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর আহলে বাইত নয়, বরং হযরত আব্বাস (রা.) ও তাঁর আহলে বাইত মুসলিম জাতির অনুসরনিয়। আর তাঁদের অনুসারী হানাফী মুসলিম জাতির নিরাপদ ঠিকানা। হানাফীতে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম সব সময় ঐক্যবদ্ধ আছে।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আলিফ-লাম- মীম- রা, এ গুলি কোরআনের আয়াত, যা তোমার সত্য রব হতে তোমার প্রতি নাযিল হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।

* কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না, এ জাতীয় কথায় বিভ্রান্ত লোকেরা বলে কম সংখ্যক মুসলিম সঠিক। কিন্তু আয়াতে কম সংখ্যক মুসলিম নয় বরং কম সংখ্যক মানুষের সঠিকতার কথা বলা হয়েছে। আর গণনায় মানুষের মধ্যে হানাফী কম সংখ্যকের মাঝেই আছে।আর মুসলিমের মধ্যে কম সংখ্যক হিসাব করলে একজনে এসে থামতে হয়। তবে কি শুধু একজন মুসলিম? এটি একটি ভুয়া কথা। কম সংখ্যক মুসলিমের সঠিকতার কথা কোরআনের কোথাও নেই।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ১৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩। বজ্রধ্বনি তাঁর হামদ এর তাসবিহ পাঠ করে। ফিরিশতাগণও করে তাঁর ভয়ে।তিনি বজ্রপাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা উহা দ্বারা আঘাত করেন।আর তারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।

* মহাশক্তিশালী আল্লাহ রাসূলের (সা.) আহলে বাইতের মধ্যে আব্বাসীয়গণকে শক্তিশালী করেছেন। হযরত আলী (রা.) থেকে শুরু করে হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইত উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের সাথে কখনো যুদ্ধে জয়ী হয়নি। কিন্তু রাসূলের (সা.) আব্বাসীয় আহলে বাইত উমাইয়াদেরকে যুদ্ধে পরাজিত করে মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে প্রায় আটশত বছর। তাঁদের অনুসারী তুর্কী হানাফী মুসলিম বিশ্ব শাসন করেছে আরো চারশত বছর। তুর্কী হানাফী বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেছেন মাত্র সতের জন সৈন্য নিয়ে। হানাফীরা হিন্দুস্থান শাসন করেছে প্রায় আটশত বছর। এখনো হিন্দুস্থানে হানাফীদের পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামে দু’টি রাষ্ট্র আছে। হানাফী পাকিস্তানের আছে পরমাণু অস্ত্র। সুতরাং মহাশক্তিশালীর শক্তিশালী বান্দা হানাফীরাই। সালাফীরা ইহুদীর তাবেদারী করতে গিয়ে মুখে ফেনা বের করছে।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ১৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫। আল্লাহর প্রতি সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আকাশ মন্ডলি ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়, আর তাদের ছায়াগুলিও সকাল এবং সন্ধায়।

* আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে বেশী সিজদা করে হানাফী।কারণ তারা অন্যদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশী। সুতরাং এটা সত্য যে আল্লাহ তাদের প্রতি খুশী থেকে তাদেরকেই হেদায়াতে পথে রাখবেন।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর যিকিরে যাদের কলব প্রশান্ত হয়। সাবধান! আল্লাহর যিকিরেই কলব প্রশান্ত হয়।

* যিকিরের প্রতিযোগিতায় আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে হানাফীদের সাথে অন্য কোন দল জয়ী হতে সক্ষম হতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহ তাদের প্রতি খুশী হয়ে তাদেরকেই হেদায়াতের নেয়ামতে রাখবেন।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ৩১ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩১। যদি কোন কোরআন এমন হত যা দ্বারা পর্বতকে গতিশীল করা যেত অথবা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেত অথবা মৃতের সাথে কথা বলা যেত তবু তারা তাতে বিশ্বাস করত না।কিন্তু সমস্ত বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারভূক্ত। তবে কি যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রত্যয় হয়নি যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিশ্চয় সকলকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন।যারা কুফুরী করেছে তাদের কর্মফলের জন্য তাদের বিপর্যয় ঘটতেই থাকবে অথবা বিপর্যয় তাদের আশেপাশে আপতিত হতেই থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এসে পড়বে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।

* আল্লাহ সকলকে সৎপথে পরিচালিত করেন না বিধায় হানাফী বিরোধী বিভ্রান্ত বাহাত্তর দল হানাফীদের সাথে মিলে সৎপথে চলে না।

সূরাঃ ১৩ রাদ, ৩৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৭। এভাবে আমি উহা (কোরআন) নাযিল করেছি হুকুমরূপে আরবী ভাষায়।জ্ঞান প্রাপ্তির পর তুমি যদি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরন কর তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমার কোন অভিবাবক ও রক্ষক থাকবে না।

* কোরআন আরবী ভাষায় হওয়ায় রাসূল (সা.) এটা বুঝতে পেরেছেন। হানাফীরা সকল ভাষায় কোরআন মানুষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। এ মিশন নিয়ে তাদের তাবলিগ জামায়াত সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায়। তাদের অভিভাবক হিসাবে আল্লাহ তাদেরকে ভালোই রক্ষা করছেন। হানাফীরা খেয়াল খুশির অনুসরন করে না বিধায় সারা বিশ্বে তারা সম্মানিত। নতুবা বিশ্ব জুড়ে মানুষের মার খাওয়া থেকে কেউ তাদেরকে রক্ষা করতে পারতো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে আয়না আর প্রতিচ্ছবি রাখে না

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমাদের ভালোবাসা ছিল এক গোপন সন্ধ্যার মতো,
জোনাকিরা তখন শব্দহীন কবিতা হয়ে বসত সিঁথির পাশে,
হাত ধরলেই হৃদয় জেগে উঠত,
বুকের ভেতর গুনগুন করত অনন্ত প্রতিশ্রুতির গান।

তুমি তখন আমার দেহে নয়,
আমার সত্তার স্পর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×