somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চোখে হিমু এবং হুমায়ুন

২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্যার আমার নাম হিমু, বয়স ২৮, উচ্চতা ৫'৮", হালকা গড়ন, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?

-হুম

স্যার আপনি নাই তাই আমি ঠিক করেছি- আমি আর হলুদ পাঞ্জাবী পরে ঘুরে বেরাব না। আমার মনটা আজ খুব খারাপ। আমার খালু আমাকে ডান গালে ঠাটিয়ে এক চড় বশিয়ে দিয়েছে। আমার খালাতো ভাইটা আবারও পরীক্ষায় লাড্ডু মেরেছে।প্রচন্ড রাগে আমার খালা তার বাবার বাড়িতে চলে গেছে। আর খালুর ধারনা এসবের জন্য আমি দায়ী।

-হুম

পরীক্ষায় ফেল করার কারনে আমার খালু ঠিক করেছেন ওকে একটা রিক্সা কিনে দিবেন। আর আমি ঠিক করেছি আমার হলুদ পাঞ্জাবিটাও ওকে দিয়ে দিব। আমি হলুদ পাঞ্জাবী পরে খালি পায়ে হাটতাম, আর ও হলুদ পাঞ্জাবী পরে রিক্সা চালাবে। হিমুর রিভাইসড ভার্সন। ও অবশ্য মহা খুশী। স্যার আপনার অনুমুতি চাই।

- ভেবে দেখব। তুমি এখন যাও। আমার ঘুম পাচ্ছে। ওহ ভাল কথা... আমার জন্য সিগারেট এনেছ?

না স্যার। শুনেছি সিগারেটের কারনেই আপনাকে লেখা লেখি ছেড়ে দিয়ে আকাশে ভেসে বেরাতে হচ্ছে?? স্যার আপনি চাইলে আমি আপনাকেও একটা হলুদ পাঞ্জাবী গিফট করতে পারি...। হলুদ পাঞ্জাবী পরে ভেসে বেরাবেন। আপনাকে ট্রেস করতে আমার জন্য সুবিধা হবে।

স্যার ভ্রু কুছকে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। মনে হচ্ছে এমন কথা উনি বাপের জনমে কক্ষনো শুনেননি।

- হুম। ফিরে গিয়ে তোমার খালুকে বলবে যেন তোমার বাম গালেও ঠাটিয়ে একটা চড় বসায়।

জী স্যার বলব।

- এতবার জেলে গিয়েও শিখনি কাউকে দেখতে আসলে সিগারেট নিয়ে আসতে হয়?? সিগারেট ছাড়া আমি লিখতে পারিনা। পরের বার আশার সময় সিগারেট নিয়ে আসবে।

ওহ ভাল কথা। একটা হলুদ পাঞ্জাবীও নিয়ে এসো। বুদ্ধিটা ভাল।
বলতে বলতে স্যার ঘুমিয়ে পড়লেন। আরো কিছু কথা বলার ছিলো। বুদ্ধিটা ভাল হলে খালুর হাতে বাম গালে চড় খেতে হবে কেন সেটাও জিজ্ঞেস করা হয়নি। সিগারেট আর হলুদ পাঞ্জাবী নিয়ে এসে এই প্রশ্নটা অবশ্যই করতে হবে।

(লেখাটি কোনভাবে কারো বাক্তিগত অনিভুতি কে আঘাত করলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে লেখার সাথে যে ছবিটি সংযুক্ত করা হয়েছে সেটি একটি পাবলিক পেজ থেকে নেয়া, পেজটির নাম ভুলে গিয়েছি কিন্তু অসম্ভব সুন্দর এই ছবিটির জন্য সেই পেজ এর এডমিন কে স্যালুট)
--------------------------------------------------------------------
আমার চোখে হিমে এবং হুমায়ুন -আমার প্রথম লেখা।
কিছু প্রাসঙ্গিক কথা।
--------------------------------------------------------------------

(ক্লাস সেভেন এর ঘটনা। নতুন স্কুল এ ভর্তি হওনের পর এক বন্ধু পাইছি। হেই বন্ধু হারা দিন ডায়রী লেখে। কবিতা, গান... এইসব, আর আমারে জোর কইরা শুনায়। আমি ওমুক, তুমি তমুক এই জাতীয় জিনিস। আমি তেমন পাত্তা দিতাম না। মনে হয় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র হবে, স্কুলে আইসা একটা বই দিছিল। রামায়ণ জাতীয় কিছু একটা। ২ সপ্তাহর মধ্যে পইরা শেষ করতে হইব। এর পর ওরা প্রশ্ন করব আর সব উত্তর ঠিক দিলে পুরস্কার। বহু ধৈর্য নিয়া পড়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুই বুঝলাম না।পরে রাগ কইরা ওই বই আর ফেরত দেই নাই। মাইরা দিছি। এর কিছুদিন পর এক সৌখিন পুলিশ আঙ্কেল বইমেলায় ঘুরাইতে নিয়া আমারে একটা শিশুতোশ কিনে দিছিল। তারে স্যালুট। রামায়ন এর মত কঠিন জিনিসের পর শিশুতোশ জাতীয় জীনিস পড়ার অনুভুতি হইল ৫ ঘন্টা নন্সটপ জার্নি করা কালিন সময় হিশু চাইপা ধইরা রাখনের পর যখন সারতে যাবেন, অনুভুতিটা সেইরকম। এরপর থেকে বই পড়ি। মিসির আলী পাইলে তো কোন কথা নাই, গদ-গদ কইরা গিল্লা ফেলাইতাম। পরে হিমুও কিছু পড়ছি। খুব হিমু হইতে মন চাইত। একদিন তো একটা বই পড়ার পর রাতে ঘুমাইতে পারি নাই। মনে হইছে, সকাল হইলেই খালি পায়ে বাইর হইয়া যামু। কোথাও থেইক্কা একটা হলুদ পাঞ্জাবী কিন্না স্যারেরে খুইজ্জা বাহির করমু, এর পর হের পা ছুইয়া সালাম কইরা উইঠঠা কমু – ‘স্যার আমি হিমু।‘
হুমায়ুন আহমেদ মারা যাবার পর অনেকে অনেক শোকবার্তা দিছে। আমি কিছুই দেই নাই।প্রথম প্রথম আমার তেমন খারাপও লাগেনাই। এর পেছনে একটা গল্প আছে। কইলে আতেল হওনের সম্ভাবনা আছে তাই সেই গল্পে গেলাম না। যাই হোক, ফেবুর বিভিন্ন পেজ এ ঘুরতে ঘুরতে একটা ছবিতে চোখ আটকে গেছিল। আমার হিমু হওনের সখের কথা মনে পইরা গেল।......গজানোর পর বহুবার সাহিত্য চর্চা করার জন্য কলম ধরে পরে আর কুলায় উঠতে পারি নাই। খুব ভেজাল। কাটতে কাটতে ছেড়া- বেড়া অবস্থা। কিন্তু এই ছবিটা দেইখা চোখ বন্দ কইরা কি-প্যাড এ হাত ঘুরাইতে ঘুরাইতে যা হইল সেটার দিকে তাকায়ে দেখি আমার ভেতরের হিমুটা বাইর হইয়া আইছে। একটু দারান, এইবার বুকের ভেতরে কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগতেছে। মনে হছে কিছু একটা হারাইছি। )
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ৭:৫৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×