ভারী কাচ আর আলো-আঁধারি ছিল। এর মধ্যেও দেখা যাচ্ছিল ড্রেসিংরুমের ভিউইং এরিয়ার দৃশ্যটা। টেবিলে ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো কোচ জেমি সিডন্সের মুখটা অন্ধকার। উল্টো দিকে আরেকটা টেবিলের ওপর পা তুলে বসে ছিলেন তামিম ইকবাল। কিছু যেন বলছিলেন সোফায় বসা প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমকে। ম্যাচ শেষে মাঠে দাঁড়িয়ে দেখা ছবিটা যেন একটা নির্বাক চলচ্চিত্র। সংলাপগুলো শোনার উপায় ছিল না, বোঝারও নয়। তবে ভাষা অনুমান করা যাচ্ছিল। সেই ভাষার রং নীল। সেই ভাষা যে বেদনার!
এটা দিন শেষের ছবি হলেও কাল পুরো ম্যাচের সময়টাই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম নীল হয়ে থাকল। একটার পর একটা উইকেট পড়ছে আর ভারী হয়েছে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। কেউ আউট হয়ে এসে হয়তো বলছেন, ‘ইস্, বলটা বোধ হয় ওভাবে খেলা উচিত ছিল’ কিংবা ‘একটু নিচু হয়ে গিয়েছিল বলটা...’, বলতে না বলতেই আরেকজন আউট! নিজের আউট বাদ দিয়ে তখন অন্যের আউট নিয়ে ভাবনা, আরেকটা উইকেটের কাটাছেঁড়া। আত্মদগ্ধ হওয়ারও সময়ও পাচ্ছিলেন না কেউ। মনোবিদ সৌমেন্দ্র সাহার কাজটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এ সময়। হতাশায় নুয়ে পড়া ক্রিকেটারদের তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যাওয়াটাই তাঁদের সামর্থ্য নয়। পরের ম্যাচটাই হয়তো হবে মাথা তুলে দাঁড়াবার উপলক্ষ। হোটেলে ফেরার বাসে ওঠার সময় সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল তবু আরেকবার বের করে দিলেন ভেতরে জমে থাকা হতাশাটা, ‘তিনটা বল খেলেছি। ওই তিন বল খেলেই মনে হয়েছে উইকেটে থাকলে অনেক রান করতে পারতাম। ওরা খুব ভালো বলও করেনি। খুব বাজে দিন গেল আমাদের।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


