somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঠোঁটের কোণে বিজয়ীনির হাসি সত্ত্বেও চোখের কোণে নোনা জল.. (সংসার জীবনে এমন মধুর ঝগড়া মন্দ নয়)

১০ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

> অই অই ডাকাত, শয়তান, মুখে কি নিয়া বইসা আছোস? কথা কস না কেন? না কি অন্য কারো কথা ভাবতেছোস?
ওকে যা খবরদার বলছি আমার সাথে জীবনেও আর কথা কইবি না!
>যা ভাগ! আমার ঠ্যাকা পড়ছে তোর সাথে কথা বলতে...? তোরে ট্যারায় কেডা? ফটফটানী?
> ও আচ্ছা? আমি ফটফটানী তাই না? ওকে তুই থাক, আমি যাই...
>কই যাবি? শ্বশুর বাড়ী না বাপির বাড়ী?
> ওরে আমারে তুই কি ভাবোস? তোর অইসব শাঁকচুন্নি দের মত বুঝি লুতুপুতু, কুতুকুতু?
তুই গালি দিলেই আর ঝগড়া করলেই বুঝি শ্বশুর আর বাপের কাছে দৌড়াবো? পাশের রুমে যাচ্ছি...
>কেন কেন পাশের রুমে কেন? ছাদে যা... গিয়া ঝাপ দে, ঝাআপ দিয়া আমারে ফাঁসাইয়া দে...
>আহালে আমার চান্দুটা? এত্ত সহজে নিজের জান খুইয়ে আমি তোকে রেখে যাবো আর
তুই আমার সাজানো সংসারে কটকটি আর শাঁকচুন্নি দিয়া ভইরা ফেলবি হু...?
তোরে ভর্তা বানাইতে আমি একাই যথেষ্ট ! আর তোরে কাঁচা মরিচের জ্বলুনির মত জ্বালাইতে
এই চাদনীটাই যথেস্ট মনে রাখিস কইলাম...তুই বইসা ঘাস লতা পাতা দিয়া মুড়ি খা... আমি যাই ...

## কিছুক্ষন পরেই দরজার কাছে এসে কান ধরে ছেলেটা কে উঠ-বস করতে দেখা যায়!
মাফ করে দে না... ! আড় চোখে ওপাশ থেকে মেয়েটা দেখে কিন্তু কোন রিপ্লাই করে না!
চাদনী বানুউউ,সরি বলছি তো আমার বাচ্চি বউটা?
আবার ও মেয়েটা আড় চোখে দেখে কিন্তু কোন রিপ্লাই নেই!
এইবার ছেলেটা মুষমুষ হয়ে পাশের ঘরে চলে যায়...।
এরপর কিছুক্ষন পরেই শোনা যায় পাশের ঘর থেকে ছেলেটার বিটকেলে হাসির সাথে ফোনালাপ-
ইসস্‌ কত্ত ঢং করে লুলামী করছে রে... মেয়েটা মনে মনে ভাবে...
ওদিকে ছেলেটা ফোনালাপ চালিয়ে যায়...
এরপর দেখা যায় মেয়েটা শাড়ির আঁচল কোমড়ে পেঁচিয়ে এলো চুলখোঁপা করে...
নাক ফোলাতে ফোলাতে ঝটপট পাশের ঘরে ছুটে গিয়ে ছেলেটার কলার ধরে
একটানে ফোনটা কেড়ে নেয়... অই অই কার সাথে লুলামি করিস রে লুলফকির?
আমি এখনো মরি নাই বুঝচোস? ছেলেটা কিছু বলে না মুচকি মুচকি হাসে...
মেয়েটা আরো রেগে যায়... ঝাপিয়ে পড়ে ছেলেটার বুকের কাছে, মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলে -
চান্দুউউউ বল কার সাথে কথা বলছিলি? নাইলে নাক ফাটিয়ে দেবো কিন্তু বলছি!
ছেলেটা বলে, চাদনী বৃষ্টি হচ্ছে মনে হয়...!
হোক ভাজ্ঞিস ঠাডা পড়তেছে না, নইলে তোরে অই ঠাডার মধ্যে
ছাদে নিয়ে গিয়ে ফালাই রাখতাম হারামী!
আহ্‌ সর না একটু বাবা,লাগছে তো! চল বৃষ্টিতে ভিজি... !
কেন কেন আমার সাথে ভিজবি কেন?
যেইসব শাঁকচুন্নিদের সাথেফস্টি- নস্টি করছিলি তাদের সাথে ভিজ যা... !
তুই নাঅন্য কারো সাথে কথা বললে জ্বলে মরিস... আবার নাক ফাটিয়ে দিবি বললি-
হিহিহি এইত চান্দু বদমাশ লাইনে আসছো,
আমার হাম্বাটা দেখি এইবার কার সাথে কথা বলছিলি কুত্তা?
ছেলেটা মুচকি হেসে মেয়েটার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দেয়!
মেয়েটা দেখে, তার নাম্বার ডায়াল করা... মানে তার নাম্বারে মিছিমিছি ডায়াল করেএতক্ষন...।
শয়তান নাটক করছিলি কেন?
নাটক না করলে তোর এই নাক ফাটানো গুন্ডামি দেখতাম কি করে বল?
শোন, তুই না এমন গুন্ডি-ই থাকিস সব সময়, আমার গুন্ডি বউ!
এভাবেই আমাকে জ্বালিয়ে মারিস...
মেয়েটা ছেলেটার বুকের কাছ থেকে সরে আসে...
কোমরে প্যাঁচানো আঁচল এর কোন খুলে নিয়ে চোখের কোণায় ধরে...
ঠোঁটের কোণে বিজয়ীনির হাসি সত্ত্বেও চোখের কোণে নোনা জল...
ছেলেটা বলে ওঠে- অই দেখো,ভ্যাতকান্দুরীটা কেমন নাক ফোলাচ্ছে...
এরপর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে ওঠে- ভালোবাসি রে পাগলী টাভালোবাসি...
বলেই এক ঝটকায় মেয়েটাকে কোলে নিয়ে বৃষ্টিভেজা ছাদের দিকে এগিয়ে যায়...

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:২৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×