somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মহত্যা করার মত অনেক ঘটনা জীবনে ঘটেছে--কিন্তু করিনি... আমি/ আমরা না এত ইমোশনাল ছিলাম না--- !!

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

> দিনাজপুর গার্লসে- ফোর/ ফাইভে থাকাকালীন একদিন ধর্ম পড়ে যাইনি, ধর্ম স্যারের প্রিয় ছাত্রী ছিলাম আমি, হায়েস্ট মার্ক সব সময় পেতাম, সেই স্যার সেদিন অন্য ছাত্রীদের সাথে আমাকেও নাকে খত দিয়েছিলো! স্পষ্ট মনে আছে, দোতলার স্কুল ঘরের এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত চক দিয়ে দাগ টেনে সেই দাগ আমাদের লাইন ধরে নাক দিয়ে মুছতে হয়েছিলো! ভাবুন তবে---
এই গার্লসেই স্কুল টাইমে ব্যাগ স্কুলে রেখে ষ্ট্যাম্প কিনতে গিয়েছিলাম, ফিরে আসার পথে বড়আপা দেখে ফেলেন, শুধু রাস্তায় ভিড় থাকার কারনে চিনে রাখতে পারেননি তাই টিসির হাত থেকে বেঁচে যাই আমি ও আমার এক বান্ধবী! বড়আপা এসেম্বলির সময় সে কথা ঘোষণা করেছিলেন!
> পাবনা গার্লসে- ক্লাস নাইনে থাকাকালীন একদিন স্কুল ব্যাগ সার্চ করা হয় ( এক মেয়ের চিঠির সূত্রে ) সেদিন আমার ব্যাগে তিন গোয়েন্দার বই পাওয়া যায়! অন্য ছাত্রীদের সাথে আমার অভিভাবককে স্কুলে ডাকা হয়! সেদিন ও অল্পের জন্য বেঁচে যাই টিসি পাওয়া থেকে, সেদিন ও বাংলা ম্যাডাম মামণীকে বলেছিলো- ও আমার প্রিয় ছাত্রী, এখন থেকে গল্পের বই যেন স্কুলে না আনে! বাসায় আমাকে ধুয়ে ফেলা হয়েছিলো... কই মরিনি তো!!
পাবনা এডওয়ার্ড এর এক ক্যামেস্ট্রি স্যারের কাছে পড়তে যেতাম! একদিন পরীক্ষায় নাম্বার কম পাই! সেই স্যার এক সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টুকু আংকেলের ছেলেদের ( আমাদের প্রতিবেশী ছিলো তারা) বাসাতে পড়াতে আসতো, সেই স্যার সেদিন তাদের পড়িয়ে আমার বাসায় নক করে, দরজায় দাঁড়িয়ে বাপি/ মামনীকে ডেকে আমার কথা বলে প্রচন্ড বকেন, স্যার চলে যাওয়ার পর বাসায় আর এক দফা আমাকে ধুয়ে ফেলা হয়-- কিন্তু কই পারিনি তো আত্মহত্যা করতে... ! পরের দিন প্রাইভেটে স্যার আমার মুখ কালো দেখে, কাছে ডেকে স্নেহ দিয়ে বলেন- তুই আমার প্রিয় ছাত্রী, ভালো করবে পড়বি বুঝলি---
এই শহরেও টিজের ঠ্যালায় জীবন অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিলো--- তবুও তো আত্মহত্যা করিনি......... !
> পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় এন কলেজে পড়াকালীন - সেই শহরের ছেলেরা আমাকে টিজ করে আমার জীবনটাকে ছাড়খার করে দিয়েছিলো! নাক লম্বা তাই একদল আমার নাম দেয় “নিক্স”! খুব ছোট শহর পটুয়াখালী! এই শহরে এই নিক্স কথাটা ভাইরাসের মত ছড়ায় , ব্যাপার এমন হয় আমি যে রাস্তায় যাই না কেন আমাকে কেউ না কেউ ডাকবে- এই নিক্স! কলেজের দেয়ালে দেয়ালে আমার নামে বাজে কথা! মাঠের গাছে আমার কার্টুন এঁকে লটকে রাখা, আমাকে দেখে নিবে, উঠিয়ে নিবে কত কথা! আমার বাপি/ মামনীকে নিক্স এর বাবা মা, বান্ধবীদের নিক্স এর বান্ধবী বলত তারা! এই বিষয় নিয়ে আমার ক্লাসমেটদের সাথে বিভিন্ন গ্রুপের মারামারিও হয়, পুলিশী ব্যাপারও ঘটে! এতটাই অতিষ্ট করেছিলো যে আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে পড়াশুনা ছেড়ে দিতো কিংবা আত্মহত্যা করতো-- কিন্তু আমি করিনি, অনার্স/ মাস্টার্স এ ফাস্ট ক্লাস হাতে নিয়ে বের হয়েছি! একসময় সেই ছেলেরা নিজেরাই নত হয়, আমাকে সম্মান করতে শিখে......... ( জীবনের সবচেয়ে খারাপ ঘটনার একটা এইটা)
>> তো এই ধৈর্যের শিক্ষা আমার পরিবার শুধু আমাকে দেয়নি, আমি নিজে অর্জন করেছি! পরিবার কতবার কত কথা বলেছে এসব বিষয়ে কিন্তু কিভাবে কিভাবে যেন নিজেকে সামলে নিয়েছি! এর থেকেও খারাপ কিছু আরো ঘটেছে, ঘটছে, জীবন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে- কিন্তু সাহস দেখিয়ে আত্মহত্যা করিনি বরং দুঃসাহস দেখিয়ে আত্মহত্যাকে ঝেটিয়েছি মন থেকে!! ভেবেছি, আমি মরলে- আমার পরিবারে আরও ৩টা লাশ পরবে---
>>> আর এখনকার ছেলে/মেয়েরা একটু কিছু হলেই “আত্মহত্যা” করছে! এখন আসি- ভিকারুন্নেসা প্রসঙ্গে- প্রথম দোষ মেয়েটার, সেই সাথে তার পরিবারের! কেন সে স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাবে? আবার নকলের কথাও এসেছে! স্কুলে কিছু নিয়ম থাকে- যার কারনে টিসি দেয়া হয়! এই নিয়ম যদি উঠিয়ে দেয়া হয়, তবে বাচ্চারা শিখবে কি? বলতে পারেন? ২য় দোষী- স্কুল কতৃপক্ষ, তারা সার্চ করে কেন রুমে ঢুকায় নাই? এবং চাইলে তারা একবার সেই মেয়েকে সুযোগ দিতে পারতো, অন্য শাস্তি দিয়ে! এবং ছাত্র/ শিক্ষক - সত্যি বলতে কি- এখনকার ছেলে/মেয়েরা অন্যরকম! একজন শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন স্কুলে পড়াতে গিয়ে দেখেছি তা, এদের কন্ট্রোল করা অনেক টাফ! আর কিছু শিক্ষক, সত্যি-ই-- খুব খারাপ ব্যবহার করেন, মারেন ছাত্রদের--! সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাটা এখন আর আগের মত নেই!
কিন্তু “আত্মহত্যা” তো কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না... ! এভাবে কেউ চলে যাবে তা আমরা কেউ চাই না!!
একারনেই স্কুল/কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সিলিং ক্লাস ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ক্লাস- “ ছাত্রদের প্রতি তাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ” নেয়া দরকার------!

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৫
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×