somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন খারাপ সাকিবের !!!-আনান্দবাজার

১৫ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পয়লা বৈশাখ মানে তাঁর কাছে বাড়ি-বাড়ি দাওয়াত। বিকেলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বেরিয়ে দেদার আড্ডা।
পয়লা বৈশাখ মানে তাঁর কাছে পান্তা ভাত। আলুর তরকারি। ইলিশ মাছ। বাংলাদেশে যা চিরাচরিত রীতি। নববর্ষে প্লেট পিছু দাম পড়ে দু’হাজার, কিন্তু বন্ধুদের নিয়ে ঢাকায় পছন্দের রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়তে দু’বার ভাবেন না তিনি।
কিন্তু সাকিব আল হাসানের কাছে এ বারের নববর্ষ একটু অন্য রকম। কলকাতায় তাঁর ঠিকানা যে পাঁচতারা হোটেল, সেখানকার মেনুতে ইলিশ-আলুর তরকারি থাকতে পারে। কিন্তু পান্তা ভাত? পাঁচতারা হোটেলে সে সব পাগলের প্রলাপ। দাওয়াতের পাটও নেই এ বার। কলকাতায় এক আত্মীয় আছেন। কিন্তু তিনিও শহরের বাইরে। ইডেনে বর্ষশেষের রাতে দুই বাংলাকে উৎসবের প্লাবনে ভাসিয়েও তাই নাইটদের নতুন নায়কের মন খারাপ। নববর্ষের দিনটা একা একাই কাটল সাকিবের। হোটেলে ঘরবন্দি হয়ে। সকাল থেকেই এসেছে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ এবং সবাইকেই ‘না’ বলে দিয়েছেন সাকিব। টিমের সঙ্গে নয়, লাঞ্চ সেরেছেন রুম সার্ভিস ডেকে। প্র্যাক্টিস ছিল না বলে মাঠে যাওয়ার বালাই ছিল না। বিকেলে ছিল এক বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান। তা-ও বাতিল। উলটে ঘরের এলসিডি টিভিতে চলেছে পুরনো ফুটবল ম্যাচ। ক্রিকেটের মতো ওপার বাংলার বাঙালি যে ফুটবলেরও ভক্ত।

“জানেন, এই দিনটাতে বাংলাদেশ পুরো পাগল হয়ে যায়,” শুক্রবার গভীর রাতে হোটেলে ফিরতে ফিরতে এক কেকেআর কর্তাকে বলেছিলেন সাকিব। “আমাদের দেশে রেওয়াজই হচ্ছে নববর্ষের দিনে আর কিছু না হোক, পান্তা ভাত আর ইলিশ থাকতেই হবে। এ বার আর সে সবের পাট নেই। এমনি দিনে এই মেনুর দাম একশো-দুশো টাকা পড়ে। কিন্তু পয়লা বৈশাখে বেড়ে দাঁড়ায় হাজারদুয়েক।” শুক্রবার ইডেন থেকে বেরোতে না বেরোতেই এসেছে বাড়ির ফোন। মোবাইলে উপচে পড়েছে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা। সব কিছু দেখেশুনে নাকি কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। বলে ফেলেছেন, “ইডেন আমার প্রিয় মাঠ। কলকাতাও দ্বিতীয় ঘর বলা যায়। সেখানে ম্যাচ জিতিয়েছি বলে ভাল লাগছে। কিন্তু এ রকম অবস্থা হবে বুঝিনি।”
বোঝার কথাও নয়। বরাবরই তিনি লাজুক, ধীরস্থির মানুষ। এই যে ম্যাচ জেতানোর পর নাইট ডাগআউটে তাঁকে নিয়ে এত হুল্লোড়, তা নিয়েও উদাসীন তিনি। ‘কী আর এমন করেছি’ গোছের ভাব নিয়ে কানে হেডফোন গুঁজে দিয়েছেন। ভালই জানেন, ইডেনে ম্যাচ জেতানোর পরে নাইটদের অন্দরমহলেই কানাঘুষো কোন যুক্তিতে প্রথম দুটো ম্যাচে আইসিসির বিচারে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডারকে বসিয়ে প্রথম এগারো বাছছিল নাইটরা?

এ সব খুচরো মন খারাপ কাটিয়ে উঠে সাকিব ও তাঁর টিমের সামনে এ বার ম্যাচ জেতার হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্য। রবিবারের প্রতিপক্ষ অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। যারা সদ্য মোহালিতে ম্যাচ জিতে উঠেছে। শন মার্শ-মাসকারেনহাস ফিরছেন ফর্মে। কথা হচ্ছে, মোহালির উইকেট আর ইডেনের উইকেটে আকাশপাতাল তাফাত। ইডেনের পিচ নিয়ে যে খুব প্রসন্ন নন, হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। এখনও সরকারি ভাবে সিএবি-র কাছে নালিশ করেনি কেকেআর, কিন্তু এ ভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে করতেই পারে। বিকেলে এক অনুষ্ঠানে এসে বোলিং পরামর্শদাতা ওয়াসিম আক্রম অবশ্য পিচ বিতর্কে ঢুকলেন না। বরং বললেন, “টিমটা এককাট্টা। দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিচ্ছে গম্ভীর। আমি আগেই বলেছিলাম, দুটো ম্যাচ দিয়ে আমাদের বিচার করবেন না। ক্ষমতা অনুযায়ী খেললে টিমটা অনেক দূর যাবে।”
যাওয়ার মশলা তো আছে। কিন্তু তার জন্য ঘরের মাঠে দু’নম্বর জয়টা সেরে ফেলা দরকার। দুশ্চিন্তাও অবশ্য থাকছে। ফর্মে থাকা বালাজির চোট। তাঁর জায়গায় রবিবার খেলতে পারেন সামি আমেদ বা জয়দেব উনাদকট। লক্ষ্মীরতন শুক্ল এই ম্যাচেও নেই। চোট সারেনি। আর রবিবার যাঁর ইডেনে থাকার কথা, সেই পঞ্জাব মালকিন প্রীতি জিন্টা নিশ্চয়ই খবরগুলো পেলে খুশিই হবেন।
‘দিল সে’র নায়িকা ও তাঁর টিম ইডেনে কিং খানের টিমকে যে ‘দিল সে’ বরণ করছে না, গ্যারান্টি।

আনান্দবাজার প্রত্রিকা
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×