somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামহীনা

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তার সাথে আমার পরিচয়টা একটু অস্বাভাবিক ভাবে হয়। ঘটনাটা তোমাকে বলি।এই ২২ তলা এপার্টমেন্টএর এত বড় ছাদে আমাদের সাজানো ছোট্ট বসার জায়গাটায়ে সে ছিল।তুমি হয়ত অবাক হবে রুমু,কারণ আমি তোমাকে কখনো বলিনি যে মাঝে মাঝে আমার তীব্র জীবন-মৃত্যু খেলা খেলতে ইচ্ছা হয়।তখন আমি এইখানে, ছাদের এই কার্নিশে চলে আসি, একটা সিগারেট ধরাই।উপভোগ করি এই খেলা। একটু আনমনা হলেই যে মুত্যু।

সময়টা আমার ঠিক মনে নেই,কিন্তু রাতটা ছিল বৃষ্টিভেজা। জীবন-মৃত্যু খেলাটা খেলার লোভ সামলাতে পারছিলামনা।তাই চলে এলাম ছাদে। তাকিয়ে ছিলাম আকাশের অন্ধকারের দিকে, উপভোগ করছিলাম বয়ে যাওয়া শীতল বাতাসের বিপরীতে সিগারেটের উষ্মতা পাওয়ার আকুলতাটা। এমন সময়ই সে এসেছিল কিংবা অনেক আগেই হয়ত এসেছিল সে, উপভোগ করছিল আমার খেলাটা। খুব স্বাভাবিক ভাবেই জিজ্ঞাসা করল কি করছি আমি। জানো রুমু, আমি চমকে উঠেছিলাম ভীষণভাবে ওর গলাটা শুনে, কারণ ওটা ছিল একদমই তোমার মত।

ভয়টা যেন একটু খেমে গেল,খুব চাইছিলাম কোনো একজনকে যেন দেখি।ঘুরে তাকালাম আস্তে আস্তে।কিন্তু না,কেউ ছিলনা ওখানে।টলতে টলতে ফিরে এলাম নিজের ঘরে।প্রচন্ড শীত করছিল।আলো নিভিয়ে একটা চাদর নিয়ে রকিং চেয়ারে বসে পড়লাম,একজন প্রাক্টিকাল মানুষের এভাবে ভয় পাওয়া মানায়না।আর তখনি অনুভব করলাম আবার তাকে।মনে হচ্ছিল আমার সামনেই সে আছে,তাকিয়ে আছে আমার দিকে।ভয়টা হঠাৎ করেই চলে গেল।জিজ্ঞাসা করলাম,তুমি আমাকে এভাবে চমকে দিলে কেন?জানো রুমু, আমাকে অবাক করে সে বলেছিল; তুমি এত চমকে গেলে কেন?

রুমু, আমি সত্যিই চমকে উঠেছিলাম তখন আবার।কারন ওর গলাটা, একদম তোমার মত।আমি ওকে উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেলাম কারণ বুঝতে পারছিলাম ও চলে গেছে।ভেবেছিলাম,আবার আসবে ও।কিন্তু না, সে আসেনি আর ওই রাত্রে।সারা রাতই জেগে কাটালাম।পরেরদিন অবশ্য হাসি পেয়েছিল আমার কল্পনার পরিধি দেখে,কিন্তু অবাক হয়েছিলাম কল্পনাটার জন্য আমি অপেক্ষা করছি বলে।হ্যা রুমু, পরের রাত্রে সে আবার এসেছিল।

তখন লাইব্ররীতে বসে বই পড়ছিলাম।হঠাৎ অনুভব করলাম আমি আবার ওকে। ঠিক আমার মাথার পিছনে এসে দাড়িয়ে ছিল।আমি যেন ওর নিঃশ্বাস টের পাচ্ছিলাম।মাথা ঘুরিয়ে দেখার তীব্র ইচ্ছা দমন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কেমন আছ তুমি? জবাবে আমি কি পড়ছি জিজ্ঞাসা করল।আমি বিরক্ত হয় বল্লাম, তুমি কি প্রশ্নের উত্তর দাও প্রশ্ন দিয়ে? কথাটা শুনে অনেক হেসেছিল ও। হাসতে হাসতেই বলেছিল, আমিও তো তাই করছি।

ঠিক তোমার গলায় কথা বলত ও। আমি আর অবাক হতামনা। ভেবেই নিয়েছিলাম এটা আমার এক ধরনের হ্যালুসিনেশান হচ্ছে। তোমার কি মনে আছে রুমু আমাদের বিয়ের কথা হবার সময়টা? হ্যা, ঠিক ওই সময়ই ওর সাথে পরিচয়। ভেবেছিলাম বিয়ের উত্তেজনায় আমি একটা তোমাকে সৃষ্টি করেছি। তাই এটা নিয়ে আর ভাবতাম না। ওর সাথে মন খুলে কথা বলতাম। কারণ ওটাতো তুমিই ছিলে।তুমি কি রাগ করছ রুমু? প্লিজ রাগ করোনা।তুমি রাগ করলে আমার সত্যিই খারাপ লাগে।

ওর সাথে অনেক কিছু নিয়েই কথা বলতাম।আমি ওকে দেখতে পেতামনা,কিন্তু বুঝতাম ও ওর চোখ বড় বড় করে আমার কথাগুলো শুনছে।জানো রুমু, ওর অনেক আগ্রহ ছিল আমার আর তোমার বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে।আর কেনইবা থাকবেনা?ওটা তো তুমিই ছিলে। ও আমাকে বলত রাত জেগে বই না পড়তে, সিগারেট না খেতে,আর সব থেকে ওর যেটায় আপত্তি ছিল, তা হচ্ছে আমার ছাদের কার্নিশে যাওয়া নিয়ে।ওর জন্য আমি একরকম এই খেলাটা ছেড়েই দিয়েছিলাম। খুব খুশি হয়েছিল ও, যেদিন বলেছিলাম, আচ্ছা আমি আর কার্নিশের কাছে যাবনা।

কি প্রচন্ড আগ্রহ ছিল ওর আমার আর তোমার সংসার কেমন হবে এটা নিয়ে; ইশ তুমি যদি দেখতে পেতে।আমাদের ফার্নিচার কোনটা কোথায় রাখেলে ভাল দেখাবে, রুমের কোন জানলায় কোন পর্দা ভাল মানাবে, আমরা বিকালে কোথায় কোখায় ঘুরতে যেতে পারি..সব খুটিনাটি ওর বলা চাই। দেয়ালের রঙ নিয়ে ওর সাথে আমার ঝগড়াটা তুমি যদি দেখতে পেতে…ইশ!

একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমার সাথে বিয়ে হবার পরও ও আমার কাছে আর আসবে কিনা। বলেছিল না।আমার যে কি মন খারাপ হয়েছিল! অনেক রাগ করেছিলাম ওর উপর।জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন আসবেনা? এই প্রথম ও কিছু বলেনি আমাকে। কিন্তু আমি স্পষ্ট বুঝেছিলাম ও কাদছে।

রুমু, তুমি কি আমাদের বিয়ের রাতটা নিয়ে এখোনো রেগে আছ? আমি সত্যিই দুঃখিত ওই রাতে না আসার জন্য।তোমার জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল।বুঝতে পারি তোমরা সবাই আমাকে কত খুজেছিলে।কিন্তু আমি কি করব রুমু বল? আমি যে হঠাৎ করেই বুঝতে পেরেছিলাম আমি তোমাকে আর ভালবাসতে পারছিনা।বিশ্বাস কর রুমু, তোমাকে বিয়ে করে আমি কখোনোই তোমাকে সুখী করতে পারতামনা।আমি যে ওকে ভালবেসে ফেলেছিলাম! জানি তুমি আমাকে স্বার্থপর ভাবছ,কিন্তু আমি কি ঠিক করিনি বল?

নামহীনা ওই রাতের পর থেকে আর আসেনি।আমি রাতের পর রাত ওর জন্য অপেক্ষা করেছি।ও আসেনি।ছাদের কার্নিশে গিয়েও আবার ওই খেলাটা খেলেছি। কিন্তু ও আসেনি। ওকে অনেক ডেকেছি, ও আসেনি।

রুমু, আমার উপরে রাগ করে থেকোনা।এই চিঠি তোমার কাছে পৌছাতে তিনদিন লাগার মত কথা। তোমার নাম্বারটা আমার কাছে আছে।মাঝখানে তোমাকে আমি ফোনও করেছিলাম একবার।তুমি হ্যালো, হ্যালো বলেছিলে।আমি কোন কথা বলিনি।তোমার স্বামী তোমার পাশেই ছিল।কি যেন বলায় তুমি ঠিক ওর মতো প্রান খুলে হেসেছিলে।আমার খুব ভাল লেগেছিল রুমু।

জান রুমু, আজ আকাশে মেঘ করেছে খুব।আজ রাতে আমি আবার যাব ছাদের কার্নিশে।আজ আমি আমার শেষ খেলাটা খেলব।ও যখন আমার কাছে আর আসবেনা বলে ঠিক করেছে, তাহলে আমিই যাব ওর কাছে।প্রথমেই ওকে দেথে কি বলব জান? বলব, তোমার নাম কি নামহীনা?

*** আমি থীম ছাড়াই গল্প লিখে ফেলসি……!!!!!

আমারব্লগে দিয়েছিলাম।
http://amarblog.com/ami_bade_sobai_fazil/49961
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×