ক'দিন থেকে একটা ভাবনা আমায় ক্রমাগত দোল খাইয়ে যাচ্ছে, আচ্ছা বল্তো, তোর ভাল থাকা কি আমি টের পাই, অথবা আমার ভাল থাকা তুই? মানুষের মন থেকে মনে মনে কি বিনা তারের কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা রেখেছেন সৃষ্টিকর্তা? এমনিতে তো মনকে বার্তা পাঠায় আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো, তারপর মন সে বার্তাকে পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কের হেডকোয়ার্টারে এবং সেখান থেকে সিল-ছপ্পর এঁটে তা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিতরিত হয় হাত-পা-মুখের মত যন্ত্রপাতিগুলোয়। কিন্তু আমি বলছিলাম মনবার্তা আর মনের কথা।
তার আগে আরেকটা ব্যাপার বলে নেই, ধর, তুই কোথাও বসে আছিস, আর এক জোড়া আকুল অথবা ব্যাকুল কিংবা গভীর চোখ তোকে দেখছে তো দেখছেই। কিন্তু সে দৃষ্টির তীব্রতায় তুই যেন আর টিকতে পারছিস্ না, তাই যেন হুট করেই ফিরে তাকালি সেই চোখ দু'টোর দিকে, আর দেখছিস সেই জোড়া ভ্রূ তোর দিকেই অধীর দৃষ্টি পাতিছে। কি, হয়নি কখনো এমনটি? চোখের আলো আছে কি নেই তা নিয়ে অতীত বিজ্ঞানীরা অনেক ঝগড়াবিবাদ শেষে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আলো নেই; শুধু বস্তু আলোকিত হলে কিংবা বস্তুর আলোতেই চোখ দেখতে পায়। ওরা একে অপরের চুল-দাড়ী শতাব্দিব্যাপী ছিঁড়ছে ছিঁড়ুক, কিন্তু খেয়াল করেছিস্, হঠাৎ কখনো রাস্তার বাঁকে অথবা স্টেশনে অথবা চায়ের দোকানে অথবা তোদের পার্টিতে, হঠাৎই আধহালি নয়না তোকে দেখল, কি আশ্চর্য অমনি তুইও ফিরে তাকিয়ে পূর্ণ করে দিলি এক হালি, কি আশ্চর্য! কি আশ্চর্য! তাইতো আমি ভাবি এখনো, এই "ঝলকানি"টা তাহলে কি?
কি জানি, তোদের চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন কতদূর পেঁৗছেছে, ছড়া দু'টোর অাঁটি খুঁজে পেলে পোষ্ট করে পাঠিয়ে দিস্ কিন্তু।
কি নিয়ে যেন বকাবুলি করছিলাম? ওহ্ হাঁ, মনে মনে যদি এতদূর -এ জাতীয় কিছু, তাই না? এই শোন্ শোন্, আকাশে এখন অনেক তারা, আর আমি আমার অফিস কক্ষে একাকী, বৈদু্যতিক বাতির নিঝুম কনকনে অাঁধারে দারুন শৈত্যাক্রান্ত, আর কিছু বলতে চাইছে না মন আমার এখন। দেখ, এখনো জানতে চাওয়াই হলো না- তুইও কি ভাল আছিস আমার মত, কষ্টের কাঁথা মুড়ি দিয়ে, নিরবে, বিজনে আর একরাশ বানানো বিরহে?
তোর-
'ফএমু'।
১৪.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
ছবির জন্য !@@!396614 যেখানে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







