somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

= কি অহং-এ শ্রেষ্ঠত্ব লুটাও

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লালপেড়ো সূর্যটা একদিন ডেকে বলে তাচ্ছিল্যে
কবি তুমি কতই না নিসপ্রভ,
আলোহীন আঁধারের পিণ্ড এক আপাদমস্তক মিলে
অসত্য নয়; হাতড়ে দেখি সমস্ত অনুভব।

জলগুলো সেদিন কলকলে ছলছলে চলতে চলতে বলে
কতই না অনুদার বক্ষ তোমার; তুলনায় খড়কুটো
মারতেও পারি, বাঁচাতেও পারি তাঁহারি আদেশ হলে
যথার্থ বলেছে; ফাঁক করে দেখি বুকের বুতাম দু'টো।

বিচ্ছু, সর্প, সিংহ, বাঘ্র, হাতীদের সভা ঘেঁষে চলি
সিদ্ধান্ত শুনি- দু'পেয়ে মানব কত দুর্বল; নির্বিষ,
কড়মড়ে হাড় ভাঙ্গতে কি মজা, একটু ছুঁলেই 'বলি'
ভুল কি বলেছে; উঠতে-বসতে বুঝি তা অহর্নিশ।

রাত্রিনী বলে কত অসহায় তুমি আমারি অন্ধকারে
চাঁদহাসি দেই; যদিবা আমার জোনাকী কন্যা হাসে,
তারার উড়না ঝলকাই যদি; পাগুলো তোমার সরে
চোখ ঘষে ঘষে তাই তো পেলাম; নিশিথে বারটি মাসে।

ফুল বলে আহা এসো নাকো কাছে, তুমি যে কি নির্গন্ধ
আহামরি কিছু রঙও নেই; ছাই! বসতে দেব কি সাথে,
কখনো কখনো তোমা হতে আসে বিকট এক দুর্গন্ধ
অতিকথা নয়; অবনত নাকে শুঁকে দেখি দুই হাতে।

বাতাসেরা ভাঙ্গে বাড়ীঘর, বলে- অবলা মানব তুমি
যেমন ইচ্ছে তেমনি দোলাই হুকুম হলেই তাড়াই,
দারুন আঘাতে চেয়ে দেখা ছাড়া কি পার সাধিতে শুনি
হায় নির্মম! লজ্জা লুকোতে গর্ত খুঁজে বেড়াই।

সহসাই শুনি সর্বশক্তিমানের আহ্বান ভেসে আসে
কুরআনের বুক ফুঁড়ে কোন এক তিলাওয়াতী কণ্ঠ ধরে,
অতি উচ্চ আর অতি মহতী যে আমি যমীনে ও আকাশে
অবিশ্বাস্য ধ্বণি ঝংকৃত শুনি তিরোহিত প্রায় কর্ণ কুহরে।

((আমরা তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি;
স্থলে ও সাগরে তাদেরে চলাচলের বাহন দিয়েছি;
উত্তম রিয্ক দিয়েছি আর যাদেরে সৃষ্টি করেছি
তাদেরও অনেকের উপরে এদেরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।)) [সূরা আল-ইসরাঃ ৭০]

কি আশ্চর্য দানে-সম্মানে উচ্চকিত করেছ আমায় প্রভু
ধুলিকণা থেকে কুড়িয়ে আমায় তুলিলে সপ্তাকাশে,
এ জীবন কেন, হাজার জীবন কুরবান হোক; তবু
অনন্ত সাধনা আমার পৌঁছিতে তব সন্তোষ-সকাসে।
-----------------------------------

[গাঢ়]ছন্দাবর্তনে-[/গাঢ়]

লালপেড়ো সূর্যটা একদিন ডেকে বলে তাচ্ছিল্যে
আলোহীন আঁধারের পিণ্ড এক আপাদমস্তক মিলে,
কবি তুমি কতই না নিস্প্রভ
অসত্য নয়; হাতড়ে দেখি সমস্ত অনুভব।

জলগুলো সেদিন কলকলে ছলছলে চলতে চলতে বলে
মারতেও পারি, বাঁচাতেও পারি তাঁহারি আদেশ হলে,
কতই না অনুদার বক্ষ তোমার; তুলনায় খড়কুটো
যথার্থ বলেছে; ফাঁক করে দেখি বুকের বুতাম দু'টো।

বিচ্ছু, সর্প, সিংহ, বাঘ্র, হাতীদের সভা ঘেঁষে চলি
কড়মড়ে হাড় ভাঙ্গতে কি মজা, একটু ছুঁলেই 'বলি',
সিদ্ধান্ত শুনি- দু'পেয়ে মানব কত দুর্বল; নির্বিষ
ভুল কি বলেছে; উঠতে-বসতে বুঝি তা অহর্নিশ।

রাত্রিনী বলে কত অসহায় তুমি আমারি অন্ধকারে
তারার উড়না ঝলকাই যদি; পাগুলো তোমার সরে,
চাঁদহাসি দেই; যদিবা আমার জোনাকী কন্যা হাসে
চোখ ঘষে ঘষে তাই তো পেলাম; নিশিথে বারটি মাসে।

ফুল বলে আহা এসো নাকো কাছে, তুমি যে কি নির্গন্ধ
কখনো কখনো তোমা হতে আসে বিকট এক দুর্গন্ধ,
আহামরি কিছু রঙও নেই; ছাই! বসতে দেব কি সাথে
অতিকথা নয়; অবনত নাকে শুঁকে দেখি দুই হাতে।

বাতাসেরা ভাঙ্গে বাড়ীঘর, বলে- অবলা মানব তুমি
দারুন আঘাতে চেয়ে দেখা ছাড়া কি পার সাধিতে শুনি,
যেমন ইচ্ছে তেমনি দোলাই হুকুম হলেই তাড়াই
হায় নির্মম! লজ্জা লুকোতে গর্ত খুঁজে বেড়াই।

সহসাই শুনি সর্বশক্তিমানের আহ্বান ভেসে আসে
অতি উচ্চ আর অতি মহতী যে আমি যমীনে ও আকাশে,
কুরআনের বুক ফুঁড়ে কোন এক তিলাওয়াতী কণ্ঠ ধরে
অবিশ্বাস্য ধ্বণি ঝংকৃত শুনি তিরোহিত প্রায় কর্ণ কুহরে।

((আমরা তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি;
স্থলে ও সাগরে তাদেরে চলাচলের বাহন দিয়েছি,
উত্তম রিয্ক দিয়েছি আর যাদেরে সৃষ্টি করেছি
তাদেরও অনেকের উপরে এদেরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।)) [সূরা আল-ইসরাঃ ৭০]

কি আশ্চর্য দানে-সম্মানে উচ্চকিত করেছ আমায় প্রভু
এ জীবন কেন, হাজার জীবন কুরবান হোক; তবু
ধুলিকণা থেকে কুড়িয়ে আমায় তুলিলে সপ্তাকাশে;
অনন্ত সাধনা আমার পৌঁছিতে তব সন্তোষ-সকাসে।


১৯.০২.২০০৭
মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

ছবির জন্য !@@!504448 যেখানে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×