ভালবাসা কি বুঝ মানে, তবু বলা বড় হয়েছি ,হ্যা তারা ও কিছুটা বুঝতে পারছিল বড় হয়েছি, নিজের দায়িত্ব নিতে পারি,তাছাড়া খালাথাকে চাটগায়ে,তাই হয়তো অনুমতি মিলেছিল কক্সবাজার ভ্রমনের। শুধু বন্ধুরা মিলে প্রথম কোথাও যাওয়া,এর আগে ডিপার্টমেন্ট এ র পিকনিক এ গিয়েছি ,কিন্তু ওখানে তো স্যাররা থাকে। এবার শুধুই আমরা।ভয় ছিল,আনন্দও ছিল।
নাসরিন জাহানের নিকুন্তিলা পড়ে আমাদের কিছু বন্ধুর মাথা খারাপ হয়ে গেল, তারা বিরি সিরি যাবে,সোমেশ্বরীর জলে পা ভেজাবে। কিন্তুআমার যাওয়া হলো না। তাই যখন সিলেট যাবার সুযোগ এলো হাত ছাড়া করতে চাইলাম না।আর কেউ না যাক এই আমি যাবোই। এমনটাই প্রতিজ্ঞ।
আমরা যাব সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ে,ওখানে লালনের সম্মানে 3দিন ব্যাপীএকটা অনুষ্ঠান হবে।তার ডেকোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছে আমার ই এক বন্ধু, আমি তার স হকারী ।এই ফাকে সবাই ঘুরে বেড়াব। দিন ঘনিয়ে আসে , সময় ফুরায়,দেখতে দেখতে এপ্রিল এর 30 তারিখ চলে আসে।শেষ দিনে র মিটিং এ এসে দেখি আমরা শুধু তিন জন। মেজাজ খারাপ হল প্রচন্ড। তার পর ও আমরা যাব ই, কেউ না যাক আমি যাচ্ছি।
প্লান মোতাবেক আমরা ট্রেনে যাব, কিন্তু জানি না ট্রেন কটায় ছাড়ে,টিকেট ও কাটা হয়নি, কথা হলো সরাসরি টিকেট কেটে ট্রেনে।ট্রেনের সময় সূচীর জন্য ধরা হলো আমাদের সিলটী বন্ধু কে,তার ভাষ্য মতে রাত 10:30 এ ট্রেন।সারা সন্ধ্যা আড্ডা মেরে আমি আমার বাসায় গেলাম বেগ গুছাতে,9:30 এ আমরা শানতি ন গর আরেক বন্ধুর বাসায় ,সে তার বেগ আর গিটার নিলো,তিন জন বের হয়ে গেলাম,উদ্দেশ্য কমলাপুর রেল স্টেশন,টার্গেট 10টার মধ্যে পৌছানো।আমরা আমাদের টার্গেট ফুলফিল করতে পেরেছি,কিন্তু টিকেট কাউন্টারের গিয়ে দেখা গেল বন্ধ,কারন ট্রেন 10:30 এ না 10 টায়, মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো,এর মাঝে একজন বল্ল ট্রেন এখন ও প্লাটফর্মএ আছে চলে যান।
আমরা কেউ কারো দিকে না তাকিয়ে, দে দৌড়। 5ফুটিয়া আমি দৌড়াচ্ছি, আমার সামনে দুই জন 5,11 দৌড়াচ্ছে, তাদের একজনের হাতে আবার গিটার,স্কুলের 200মিটার দৌড়ের কথা মনে করে দিলাম দৌড়,ট্রেনের হুইসেল শুনা যাচ্ছে,আমরা প্লাটফর্মে ঢুকে গিয়েছি, একজন ট্রেনের সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে, তার পিছনে আরেক জন, আমি এখন ও ট্রেনের পাশে যেতে পারিনি, শেষ বগী থেকে একপাশের সব যাত্রি জানালা দিয়ে মাথা বের করে প্রতিযোগীতা দেখছে,ট্রেনের ভিতরে যে কর্মচারী দয়িত্বে থাকে সে দরজায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে, আমরা দরজার পাশে যেতে পারলে টেনে তুলবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


