যেমন, বিয়ের প্রথম ধারনা পরিবারের বিস্তৃতি, ক্ষমতার পসার আর সম্পদের কুক্ষিকরন হলেও এখন আর সেই অবস্থানে থিতু হয়ে নেই বিয়ে।সভ্যতার বিকাশে কর্মসংস্থান বেড়েছে। কৃষি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে শিল্প নির্ভর হচ্ছে মানুষ।মনুষ কাজ , শিক্ষা,নিরাপত্তার জন্য বের হয়ে আসছে নিজের পরিবারের আর সব সদস্যদের ছেড়ে।তারা তাদের কর্মস্থলে গড়ে তুলছে নিজেদের পরিবার।তা হলে কি এই শিল্পায়ন ই যৌথ পরিবার ভাঙ্গনের জন্য দায়ী?
সব কিছুর উলটা পিঠ থাকে। এই ধারনার ও উলটা পিঠে আছে মানুষের পরিবর্তন। সময়ের সাথে মানুষের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন হয়।মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়।তাদের চাহিদা আর চেতনার পরিবর্তন ই শিল্প নির্ভর করে। একক পরিবারের স্বাদ গ্রহন ও হতে পারে এই ভাঙ্গনের কারন।মানুষ সপ্তাহে 7 দিন ই কাজ করে না বা করতে চায় না।তারা ও চায় নিজেরদের মতো সময়।তারা ও চায় পরিবার আর কাজ কে আলাদা রাখতে।তাই তারা ছুটির দিন আদায় করে।
এই ব্যাক্তি চাহিদা পরিপূর্ণতার কোন ধাপে হয়ত দেখব, যে খুব কম পরিবার ই ব্যক্তি ইচ্ছার উপরে
তাদের সন্তানের ভাললাগা কে স্থান দিচ্ছে!!!!
-------------------------------
মেয়েদের অবস্থার পরিবর্তন এই পরিবার প্রথার উপর বেশ প্রভাব ফেলছে।সেই আদিম কালে ,যখন পেশী শক্তিই ছিল কাজের যোগ্যতার মাপকাঠি , তখন অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী নারীর জন্য একমাত্র কাজ রান্না বান্না, শিশু পরিচর্যা,স্বামীর সেবা করা।এর জন্য ধর্ম গ্রন্থ গুলো ও অনেক প্রভাব ফেলেছে।সব নাবী রাসুল ছিলেন পুরুষ।তাদের কথায় ও নারীর অবস্থান তেমন সুবিধাজনক না।তাই ডিভোর্স বিষয় টায় পুরুষের একচেটিয়া অধিকার থেকে যায়।প্রাথমিক খৃসচিয়ান যুগের দিকেও , পুরুষের যৌনতা প্রধান সম্পর্ক নিয়ে কেউ কথা বলে নি।
অবস্থার পরিবর্তন হয়,শিক্ষা নামক বস্তু আসে,শিল্প প্রসার পায়।তবু নারী তার আগের অবস্থায় ই থেকে যায়।সব জায়গা ই পুরুষের জন্য।কিছু ধনাঢ্য পরিবারের নারী নিজ গৃহে শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়।তাদের মাঝে সম্পর্ক বিষয়ে ও নতুন ধারনা আসে।ভালবাসা ,প্রেম কে আলাদা করতে শি.েখ।যদিও এতে তাদের অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয় না।
রেনেসার পর কিছু নারী তার স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে কাজ করা শুরু করে।কিন্তু সেই "হাওয়ার" ধারনা থেকে বের হওয়া হয় না তাদের।
ধীরে ধীরে নারীর অবস্থার পরিবর্তন হয়, নারী শিক্ষার সুযোগ পায়,শিল্পের উন্নয়নের সাথে সাথে পেশী শক্তি নির্ভরতা কমে আসে।নারী পুরুষের পাশা পাশি কাজ করে।এই অর্থনৈতিক স্বচ্ছন্দ্য নারীর নিজের পছন্দ অপছন্দকে মূল্যায়ন করার সাহস যোগায়।নারী আর পরমুখাপেক্ষি হয়ে থাকে না। সাথে সাথে বাড়তে থাকে ডিভোর্স রেট।এখন নারীরাও ডিভোর্স দেয়। এই কর্মজীবি নারীদের জন্য নতুন পেশা শুরু হয়,"শিশু পরিচর্যা" ।নারী এখন সংসারের কাজের পাশা পশি বাইরেও পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করে।সংসারে এখন চাওয়া পওয়ার মাঝে, পরাস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধা,ভালবাসা, প্রেম, যৌন সম্পর্ক অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে কি নারীর এই স্বনির্ভরতা অনেকটা দায়ী এই পরিবার ভাঙ্গনে, নাকি পুরুষের সেই আদি মানসিকতা?পুরুষ নারী যখন সমান অবস্থানে চলে আসবে তখন কি এই ভাঙ্গন আবার কমবে?কেমন হবে ভবিষ্যত সমাজ ব্যাবস্থা?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


