বাংলাদেশে কূটনীতিক বা রাষ্ট্রদূতরা দায়িত্ব নিয়ে আসেন। এ দেশে তারা প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি শহর-বন্দর-গ্রাম সফর করেন এবং এদেশের মানুষের কর্মস্পৃহা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে সম্ভাবনার দেশ হিসেবে নিজ দেশে উপস্থাপন করেন। যেমন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা আগে আমাদের গার্মেন্ট সেক্টরের মেয়েদের কর্মস্পৃহা সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যাওয়ার বেলায় তিনি বাংলাদেশে প্রতিটি জেলা সফর শেষ করেছেন। গত ৬ই ডিসেম্বর তিনি সাভারে নতুন চামড়া শিল্প পার্ক ও বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ এই শিল্পের সম্ভাবনার দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ বাংলাদেশের মানুষের এত আতিথেয়তা পাওয়ার পরও যাওয়ার বেলায় কিছু দিন আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ ড্যান মজিনাকে কাজের বুয়ার সাথে তুলনা করে বক্তৃতা দিতে কুন্ঠাবোধ করেন নি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিসা দেশাইকে দুই আনার মন্ত্রী বলে উপহাস করলেন। সেখানেই শেষ নয়, গতকালকে আবার সেই একইধাচে সুর মিলিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে সাবলীল ভঙ্গিতে বললেন- যারা রাষ্ট্রদূত আছেন, খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন, তারা কি পরিমাণ আলোচনা করেন বা হয়; এটা আমরা জানি। আপনারা জানেন না! তাদের সাথে এমন কিছু আলোচনা হয় না যে, নির্বাচনের তারিখ বা সময় দেয়ার বিষয়। তারা খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। তারা বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ করতে। তিনি আরো বলেন, এখানে ‘তৃতীয় শ্রেণী’র কর্মচারীরা আসে, যারা নিজ দেশে কোনো মূল্য পায় না! আর আপনারা ৫০টি টিভি চ্যানেলে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন; মনে হয়, তারা আপনাদের ত্রাণকর্তা। অথচ তিনি না বলতে চাইলেও যে সেইসকল রাষ্ট্রদূতরা সবাই জানেন, একটা প্রতিবেশী দেশের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক খুবই ভালো বলে যেমন খুশি তেমন বলো নীতিতে বলেই চলেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, দূরের দেশ আমেরিকার সাথে ইচ্ছা করে ফ্যাঁসাদে জড়ানো বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কি ঠিক হচ্ছে?
বাংলাদেশের মানুষ সহজাতভাবে অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুবৎসল। আমেরিকায় প্রচুর বাংলাদেশীর বসবাস এবং দিন দিন সেখানে ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা বেড়েই চলছে। জাতিসঙ্ঘে আমাদের দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিমিশনে কাজ করে সুনাম বয়ে আনছেন। আমেরিকা, ইউরোপ, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, চীন ও আসিয়ান প্রতিটি দেশেই আমাদের বন্ধু। এশিয়ার উদীয়মান শক্তি চীনও আমেরিকায় বিনিয়োগ করছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কোনো কথা বলা উচিত নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমেরিকার সাথে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য আগামী মাসে আমেরিকায় সফর করার কথা। অথচ নিজ মন্ত্রণালয়ের বাইরে এমন জঘন্য মন্তব্য তাকে দিকে কে করালো, তা গোয়েন্দা বিভাগের দায় দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে তদন্ত করানো উচিত। আমেরিকার চিরপ্রতিদ্বন্দী ছিল রাশিয়া। তারাও কোনো দিন আমেরিকার কোনো কূটনীতিককে এমন জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করেনি; যদিও রাশিয়া আজ আর আগের অবস্থানে নেই। আনা, কড়ি, পাইয়ের আজ বাংলাদেশে কোনো দাম নেই। আর আমেরিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে সাহায্য করেছে, তার হিসাব লাখ লাখ বা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।
আসলে একটা কথা আছে, মানুষ নিজের ওজনে অন্যকে মাপে। যদি তাই হয় তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কখেনো নিজেকে ভেবে দেখেছেন কি? তিনিই বা আমেরিকার কিংবা বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতকে কী মূল্য দিবেন! আজ তাঁরই বেফাঁস মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তাই জাতি অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। একটা কথা সকলের জেনে রাখা ভালো, আমাদের নবীজি মুহম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতদের জন্য একটি কথা বলে গেছেন আর তা হলো; যারা দুটি জিনিসকে হেফাজত করতে পারবে, তাদের জন্য স্বয়ং নবীজি মুহম্মদ (সা.) জান্নাতের সুপারিশ করবেন। ০১. জিহ্বা এবং ০২. লজ্জাস্থান। ভেবে দেখুন মানুষের প্রথম শত্রু তার নিজের জিহ্বা, যে জিহ্বাকে সংযত করতে পারবে কাল বিচারদিবসে তাঁর জন্য নবীজি মুহম্মদ (সা.) জান্নাতের সুপারিশ করবেন। অথচ আমরা কখনো এমন ধারণা নিজের মনে বিন্দুমাত্রও ধারণ করি না। পক্ষান্তরে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করে চলেছি প্রতিনিয়তই। কর্তাব্যক্তিদের জানা দরকার যে, বাহরাইনেও আমেরিকার ঘাঁটি বসে গেছে। কথায় বলে-একে দোষ করে দুইয়ে কষ্ট পায়! সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত যে, অদূরভবিষ্যতে প্রভাবশালীরা সেন্টমার্টিনে এসে বাসা বাঁধে কি না। যেকোনো রাষ্ট্রদূত আমাদের মেহমান। ড্যান মজিনা এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি হয়তো। মনে হয়, তিনি হতাবক হয়ে গেছেন। আল্লাহ দেশের মঙ্গল করুন। কারণ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তো কোনো দোষ করেন নি। আপনারা কেনো মিছেমিছি দেশের জণগণের দুর্ভোগ সৃষ্টির কারণগুলো নজরে নিয়ে আসতেছেন। দয়া করে এই নিরীহ জাতীর ব্যাপারে একটু ভেবেচিন্তে নিজের অভিমত প্রকাশ করবেন। মহান আল্লাহ আপনার আমার সকলের প্রতি তাঁর অশেষ দয়া ও রহমত প্রেরণ করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




