somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবু ও মানুষ সপ্ন দেখে

২৭ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কনসার্টের কাজ আজকের মত মুলতবি করে বাসায় ফিরছিলাম রাত ১১ টার দিকে। বাসার পাশেই একটা ছেলে কান্নাকাটি করছিল তার মা তারে চড়-থাপ্পড় দিচ্ছিল বাংলা সিনেমার মায়েদের স্টাইলে। " এত খাই খাই কেন তোর"। প্রতিবার একবার কথাটা উনার মুখ থেকে অনুদিত হচ্ছিল আর একটা করে চড় বাচ্চা ছেলেটার গালে কষে দিচ্ছিল । কাছে এগিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হইছে? প্রতিউত্তর :উনি আর উনার স্বামী নদী ভাংগা এলাকার মানুষ। সর্বগ্রাসী নদী তাদের কিছুই আস্ত রাখে নাই। স্বামী খাবার আনতে গেছে। ছেলেটা অপেক্ষা করতে করতে ক্ষিদায় চেচামেচী করছিল। তাই এই চড় ! আমি তাকে বাচ্চাদের মার না দেয়ার জন্য একদফা বিনামুল্যে জ্ঞান দান করে বাসায় চলে আসলাম। গোসল করে খেতে গেলাম কিন্তু গরম আর সারা দিনের পরিশ্রমে কিছুই খেতে ইচ্ছে করছিল না। শুধু ঠান্ডা কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু আমাদের ভাই-বোন সবার টন্সেল নামক একটা ছোট বিচির অহেতুক প্রবেনতার দরুন , ফ্রিজে ঠান্ডা পানি রাখার উপর সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই ভরসা, দোকানের জুস অথবা কোল্ড ড্রিংক্স। নিচে নেমে দেখি বাচ্চা কাদছে এখন ও, এবার বাবার পালা, ইচ্ছে মতন মারছে ছেলেকে। মেজাজ গেল বিগড়ায়া। জিগাইলাম, ঐ মিয়া তোমার প্রোব্লেম কি? এত ছোট বাচ্চারে মারতেছ কেন? ব্যাটা মনে হয় আমার গলার উচ্চ তরংগে কিঞ্চিত ভীত হয়ে গেল।

জানা গেল, উনার খাবার কিনতে যাওয়াটা আসলে একটা ভান ছিল পকেট এ টাকা যা ছিল, সব শেষ। ভেবেছিলেন খাবার কিনতে গিয়ে দেরী করলে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়বে। কথা শেষ করার আগেই বাবা সন্তানকে বুকে নিয়ে কাদতে শুরু করলেন। একজন বিপর্যস্ত বাবার অপত্য পিতৃ স্নেহ দারিদ্র ও রুখতে পারল না !

আমি ৩ জনকেই পাশের হোটেল এ নিয়ে গেলাম। কিছুতেই যেতে চাচ্ছিলেন না, আমি হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলাম। হোটেল এ গিয়ে আমি ও উনাদের সাথে খেলাম, গরুর মাংস আর রুটি। সারা দিনের ক্ষিধা যেন হঠাট করে চাঙ্গা হয়ে উঠল। খেতে খেতে বেশ গল্প হচ্ছিল । উনি ছিলেন বেশ অবস্থাসমপন্ন গহস্থ। জায়গা-জমি সব বছর দুয়েক আগেই চলে গিয়েছিল, কিছুদিন আগে প্রমত্তা নদী তাদের শেষ সমবল জমিটা ও কেড়ে নিল। নদী ভাঙ্গনের পর থেকে উনি অন্যের জমিতে ভাড়া খাটতেন, কিন্তু শেষ সমবল ভিটে-মাটি যাওয়ার পর থেকে চোখে মুখে সর্ষেফুল দেখা শুরু করলেন। মাথা গোজার কোন জায়গা না পেয়ে একটু নিরাপদ আশ্রয় আর ভালো একটা কাজের জন্য শহরে আসা। আচার আচরনে ও অনেক ভদ্র মনে হচ্ছিল, খাচ্ছিলেন ঠিকি কিন্তু কি একটা হীনতা যেন তাকে খুব ক্ষুদ্র করে রাখছিলেন। আমি খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই জিজ্ঞেস করলাম , কোন কাজ পেয়েছেন কিনা। উত্তর দিলেন কোন কাজ পান নাই। এক জায়গায় রিকশা চালানোর জন্য গিয়েছিলেন কিন্তু অপরিচিত বিধায় রিকশা পান নাই। প্রথম ৪ দিন ঊঠেছিলেন তার পরিচিত গ্রামের এক লোকের মাধ্যমে তেজগাও রেল লাইনের পাশের বস্তিতে। কিন্তু তার অল্প বয়সী স্ত্রীর উপর কু নজর পড়ে রেল লাইনের পাশে মাদক ব্যাবসায়ী কিছু ছেলের। তারা তাকে দিনের বেলা মাদক বিক্রি ও ট্রেনের বগিতে রাতে দেহ ব্যাবসার প্রস্তাব দেয়, রাজী না হলে তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। ভয়ে ঐখান থেকে পালিয়ে রাতে রাস্তার পাশে থেকেছেন শেষ কটা দিন। ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে তার হাতের টাকা। আজ সকালে এক বুড়ি তাকে প্রস্তাব দেয় , তার সন্তান কে ভিক্ষা বৃত্তিতে নিয়োজিত করার জন্য। প্রতিদিন ৬০ টাকা করে দেবে। কিন্তু উনারা স্বামী-স্ত্রী দৃঢ়তার সাথে সে প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করেন। উত্তরটা ঊনাদের ভাষাতেই দেই,

" ভাই ! খারাপ সময় আর কয়দিন, একটা কাজ় পায়া নেই, পোলাটারে একটা ভাল স্কুলে ভর্তি করামু, আমরা দুইজন মিলে কাম করুম। পোলারে শিক্ষিত বানামু, আপনেগো মতন।"

আমি মাথা হেট করে উত্তর দেই, " ভাই আমি শিক্ষিত না"।

আমি তো জানি আমার দৌড় কতটুকু !
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×