somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু স্মৃতি কিছু প্রীতি

৩১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এইতো সেদিনকার কথা........ আয়েশার সাথে গেলাম এক কাপড়ের দোকানে। ঐ দোকানে এবারই প্রথম। মেয়েদের কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে। ওসব কাপড় সাধারণত আয়েশা নিজেই কিনে। দোকানে ছিলো এক মহিলা বিক্রেতা। মহিলার সাথে কথাবার্তা বলে কিছু টাকা কম দেয়ার চেষ্টা করলাম। বললাম, আমি তো আপনার দোকান থেকেই কাপড় কিনি। কিছু কম রাখেন। আর যাবি কই...... মহিলা দেখি আমার চাইতেও চালাক......... "কি যে বলেন ভাই, আপনি তো মাঝে মাঝেই আমার কাছ থেকে কাপড় নেন, এজন্যই তো কম বলে দিছি......" এমন আরো কথা যাতে তিনি বুঝাতে চাইলেন আমি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার তার দোকান থেকে ওসব কাপড় কিনি। আমিও তার কথায় হু, হ্যাঁ টাইপের সাঁই দিয়ে যাচ্ছিলাম। আর সেটাই যেন আমার জন্য কাল হলো......... পাশে দাঁড়ানো বউয়ের অগ্নিমূর্তি দেখে আমি তো ভয় পাবার বদলে হেসেই ফেললাম। সেই হাসি যেন কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা হলো। বহু কষ্টে তাকে বিশ্বাস করালাম, আমি ঐ দোকানে আগে কখনোই যাইনি.........।

মার্কেটে যাবার আগে ও বলেছিলো অনেক খিদে পেয়েছে। মার্কেট শেষ করে এখন বলছে কোন খিদে নেই........ কি মুশকিল! মনে হচ্ছে আগুনটা নিভলেও ধোয়া উড়ছে। আরেকটু পানি ঢালতে হবে। পানিতে কাজ না হলে বরফও লাগতে পারে। আগেই বরফের ব্যবহারে না গিয়ে ঠান্ডা পানিই ঢাললাম বেশি করে। ব্যাস.......কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন-ধোয়া সব নিভে পানি। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। হেড অফিস ঠান্ডা করে যুদ্ধজয়ী বীরের মতো লাগছে নিজেকে। আর কোন ঝামেলা চাইনা।

রেস্টুরেন্টে খাবার শেষ করে বসে আছি। এই রেস্টুরেন্টটাতে এর আগে আরো দুইবার এসেছি ওকে নিয়ে। কোনবারই বখশিশ দেইনি। আমার কথা হলো, ওরা এখানে চাকরি করে বেতন নেই। টাকার বিনিময়ে খাবার দেই। এমনতো নয় যে টাকা ছাড়া খাবার দিচ্ছে, কিছু বখশিশ না দিলে কেমন হয়। সেদিন টাকা নেয়ার সময় খুবই তাড়াহুড়া করছিলো ওয়েটার। মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিচ্ছিলাম। মনে হলো ঠিকি দিয়েছি। টাকাটা নিয়ে কাউন্টারে জমা দিতে গিয়ে ফিরে এসে বলে আমি নাকি ২০ টাকা কম দিয়েছি। কি মুশকিল........ কথা না বাড়িয়ে আরো বিশ টাকা বের করে দিলাম। দেয়ার সময় বললো, "হুজুররা এরকমই...........।" কথাটা আমি স্পষ্ট শুনলাম। আয়েশা একটু সামনে ছিলো বিদায় পুরোপুরি শুনেনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় বললো, "কি বললো ঐ বেটা"। আমার কথা শুনে ও তো ওয়েটারকে মারতে যাবে মনে হলো। কোনমতে ওকে থামিয়ে বললাম, "বাদ দাও তো।" মনে হলো স্বামীর জন্য কত দরদ........ যে কিনা একটু আগে আমার উপর রেগে ছিলো, তার এমন ভালোবাসা দেখে মনটা সত্যিই ফুরফুরে হয়ে গেলো।




১. এই ছবিটা আয়েশার ছোটবেলার। এই একটা ছবিই পেয়েছি। ওর মা বলে, ছোট বেলায় নাকি খুব বেশি লিপস্টিক দিতো। আয়েশা যখন রাগ করে তখন এই ছবিটা মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দিয়ে বলি, "আমার লিপস্টিক খাওয়া পিচ্চি বউ"। আর তখনই ও হাসে। (বি:দ্র: এই ট্রিক্স শুধুমাত্র দূরে থাকলে কার্যকরী।)



২. মেয়েটি যে কি পাগলামি করে....... সেদিন দেখি Rapping পেপারে মোড়ানো একটা প্যাকেট আমার হাতে দিচ্ছে। এটাই প্রথম নয়। ও এর আগেও দিয়েছে.......। আমি যে খরচের টাকা দেই সেখান থেকেই বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে এসব করে।



৩. আমার কাছে তার চাওয়াটা খুবই অল্প। কত কত জিনিস আছে খাবার, সেগুলো বাদ দিয়ে এই ছবিটা পাঠিয়েছে আমাকে নেয়ার জন্য। খুব নাকি খেতে ইচ্ছে করছে। বার্গার-পিৎজা, আরো কত খাবার আছে সেগুলো খেতে চাইবে না...... বড়জোর আইসক্রিম, চিপস। দুইটা ড্রিংকো কিনেও রেখেছি ওর জন্য। বাড়িতে যাবার সময় নিয়ে যাবো।



৪. ছবিটা এবারের শীতের। শীতে ছুটিতে যখন গ্রামে গেলাম তখনকার। বিকেলবেলা হাটতে বেড়িয়েছিলাম আয়েশাকে নিয়ে। সরিষা খেতে এসে একটু ফিল্মি স্টাইলে প্রেম নিবেদন করতে মন চাইলো। যেই ভাবা সেই কাজ। সরিষা ফুল হাতে নিয়েই কাজটা সারলাম। ছবিতে দেখতেই পাচ্ছেন, আয়েশা অবাক হওয়ার ভঙ্গি করছে। ছবির ক্যাপচার যে করেছে তিনি আমার চাচাতো বোন। তাকে এতো করে বললাম লুঙ্গি না তোলার জন্য........ কিন্তু সেটাই করেছে! ছবি তোলার পর দেখি হাতের সরিষা ফুল আর খেতের সরিষার ফুল মিলে মিশে একাকার..........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:৩৬
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মালয়েশিয়াতে ডাঃ জাকির নায়েকের দিন কি শেষ হয়ে আসছে?

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:৩৪


প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং চায়নিজ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ানরা তাঁর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

নিজ দেশ ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া এসে বেশ ভালই ছিলেন ভারতীয় ধর্ম প্রচারক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিশু আগামী দিনের ধর্ষক, দূর্নীতিবাজ, চোর-ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, দালাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮



একজন শিশু জন্ম দেয়া কি খুব বেশি প্রয়োজন এই সমাজে?
প্রতিটা সংসারেই একটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পর আত্মীয় স্বজন সবাই বাচ্চার জন্য তাড়া দেয় কেন? বাচ্চা না নিলে সমস্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগারদের নামটি উল্টো করে পড়ুন আর হাসুন-রম্য-রঙ্গ-১৪

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৯




নজু

ময়াসি দমেহআ রজীনতা

বিছ মাতেফা জীকা

লইমাছই

লড়গ

বীথিপূনহী খঃদু

শবেগ্নিঅ

সাবালোভা-কনিল্পকা

দমুহমারকুঠা

নামাসীষ্টিদৃ

৭৪কেএ

জীগাদচাঁ

মহিফা করেতা

রকারস লদুইমা মোঃ

কন্তুগআ রতেরাধ্যম

নখা নসাহা বরাহমে

দজ্জাাসাা

ছবি-নিজের করা ডিজাইন। ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেংগু ধরা পড়লে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর দায়িত্ব কার?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



Tragic death of a child without any treatment

তানহা নামের ৭ বছরের একটি মেয়ে ঢাকায় নানীর সাথে থেকে পড়ালেখা করতো, ডেংগুতে গত শনিবার (আগষ্ট, ১৭) তানহা মৃত্যুবরণ করেছে; সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে-২ (আকাশ ভালোবেসে লেখা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০



=চাঁদালোর ঘোর=
তাকিয়ো না আসমানে আজ, পুড়ে যাবে চোখ
মায়াবী আলোয় ইচ্ছে কেবল পথে পথে হাঁটি
ইট সুড়কির পথ, চলতেই যেনো বুক ধুকপুক,
এখানে নেই শিশির ভেজা দূর্বাঘাসের মাটি।
যদি সঙ্গে থাকো তুমি,ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×