somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সংসার আমার সুখ

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছানাটা এখনো কথা বলতে পারেনা ঠিক করে। সবে মাত্র মা ডাক দিতে শিখেছে। ওর মায়ের কাছে গিয়েও মা বলে, আবার আমার কাছে এসেও মা বলে। ছড়াগান শুনে নাচের ভঙ্গিতে হাত পা নাড়ে। ওর চোখ মুখ দেখলে বুঝতে পারে কখন কি লাগবে, কখন কি অসুবিধা হলো। ছোটখাটো ব্যাথায় খুব একটা কান্না করে না। দুই ঠোট বাঁকিয়ে ওহ ওহ করে শুধু। ছানাটা চোখের সামনে বেড়ে উঠছে একটু একটু করে। মুচকি হাসি, খিলখিল করে হাসি..... নানান ভঙ্গিমায় সাড়া দেয় সব কিছুতেই। ছানাটাকে ঘিরে স্বপ্নের হাজারো জাল বুনি। মেতে থাকি আনন্দ আর সুখের আবেশে।

কোথাও যাবার জন্য তৈরি হচ্ছি দেখলে ছানাটা আর পিছু ছাড়ানে। দুই হাত উপরে তুলে কোলে উঠার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোলে না উঠানো পর্যন্ত ছানাটা থামে না। এই সময়টাতে ও আর কারো কাছে যেতে চায় না। ওর মায়ের কাছেও না। আমি যেখানেই যাই ও সাথে যাবেই। ওর চোখ মুখে আবদারের চাহনি। মায়া মায়া দৃষ্টি নিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন বলতে চায়, "বাবা, আমাকে রেখে যেও না কিন্তু। আমিও তোমার সাথে যাবো"। মুখ দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করতে না পারলে কি হবে, ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আমি সব পড়ে ফেলি। ছানাটা সব বুঝিয়ে দেয় ওর দৃষ্টি আর হাসি মাখা চাহনি দিয়ে।

একা একা সন্তান দেখাশোনা করা কম কথা নয়। হাড়ভাঙা খাটুনি থেকেও বেশি কষ্টের। ছানাটার মা সারাদিন ছানাটাকে একাই সামলে রাখে। শত দুষ্টুমিতেও ওর প্রতি বিরক্ত হয় না। কখনো বিরক্ত হলেও আমার উপর এসে পড়ে তার প্রভাব। আমি রাগ করিনা সেই বিরক্তি প্রকাশের কথাগুলোতে। আমি বুঝি, ওর স্থানে আমি থাকলেও হয়তো এর থেকে বেশি প্রতিক্রিয়া জানাতাম। মায়েরা একা একা সন্তানদের রাখতে পারে ঠিকই কিন্তু বাবাদের জন্য এইটা অনেক বেশি কঠিন। এর চলা বলা ভালো, প্রায় অসম্ভব।

কাজে বেরুনোর আগ মূহুর্তে এক প্রকার লুকিয়েই বাসা থেকে বের হই। আমাকে বের হতে দেখলে কিছুতেই সামলানো যায় না ওকে। একবার কোলে উঠতে পারলে তো সুপারগ্লোর মতো লেগে থাকে। আমার গলাটাতে শক্ত করে ধরে। ওর মা খুব কষ্টে আমার থেকে ছানাটাকে ছাড়িয়ে নেয়। শরীর থেকে অঙ্গ আলাদা করলে যেমন লাগে সে সময়টাতে আমার তেমনই কষ্ট হয়। আমার ইচ্ছে হয় ২৪/৭ সময়টাই ছানাটার সাথে থাকি। কিন্তু কাজে তো যেতেই হবে! কাজ থেকে ফিরে এলে কখনো কখনো অভিমানের নয়নে তাকায়। বুঝাতে চায় যাবার সময় আমাকে নাওনি। এখন তুমি যাও, তোমার সাথে আড়ি। কিন্তু পরক্ষণেই আবার আমার কাছে আসে মুচকি একটা হাসি দিয়ে। অভিমানের হাজারো কথা তখনো জমা থাকে ছানাটার চোখে-মুখে। সেসব পড়তে পড়তে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যে নামে। ছেলে আর বাবার খুনসুটি চলে অবিরত।

ছানাটার বয়স ১৫ মাস চলে। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলে সামনের দিকে। আধো আধো বুলে বুঝিয়ে দেয় চাওয়া পাওয়া। সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী ছানাটার জন্য, ছানাটার মায়ের জন্য, যেন সবকিছু দক্ষ হাতে সামলাতে পারে, আমার জন্যও দোয়ার দরখাস্ত আপনাদের কাছে, যেন ভালবাসার ডানা দিয়ে আগলে রাখতে পারি মা পাখি আর ছানাটাকে।

হাবিবুর রহমান
০১/০৯/২০২১ খ্রি:,
ময়মনসিংহ।

ছবিটি আমাদের গ্রামের বাড়ির পাশ থেকে তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মীয় শাসনের ব্যর্থতা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১১

ধর্মীয় শাসনের ব্যর্থতা।
----------------------
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, সেখানে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। কিন্তু চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে:
ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×