হাতে স্টার সিগারেট ২ পয়সার সিগারেট এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ৪ আনায়। সিগারেট পাওয়ায় এখন দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
পাকি গুলার দালাল শান্তি কমিটি আর রাজাকারের বাচ্চাগুলা গ্রামের পর গ্রাম জালিয়ে দিচ্ছে।
সিগারেটের ধোয়া বেরুচ্ছে আর মনে মনে গালাগাল দিয়ে যাচ্ছে কিশোর আনোয়ার।
বন্ধু কালামের জন্য সাঙ্গু নদীর ধারে অপেক্ষায় আছে, মুক্তিযুদ্দের ট্রেডিং এর জন্য ওপার বাংলাই যেতেই হবে থাকে।
যদিও সে এক পাপ কাজ করে ঘর থেকে বেড়িয়েছে , তবে মনে মনে বলতে থাকে দেশটা স্বাধীন করাই আসল কাজ। ঘরের ধানের গোলা থেকে সে প্রায় কয়েক মন চাল বিক্রি করে টাকা নিয়ে তারপর সে পথ ধরেছে।
বৃষ্টি পরছে আবার রোদের ঝিলিকও মারছে, গ্রাম্য ভাষায় খেক শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে। পাকিস্তানের শেষ ব্যাচের মেট্টিক পরীক্ষার্থী আনোয়ার, কিন্তু তারা এবার পরীক্ষা দিবে না দেশটা স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত।
আনোয়ার নদী দেখে আর ভাবে গত ৩ টি বছর সে জয় বাংলার রাজনীতি করতেছে , তাদের উপজেলায় কলেজ নাই কিন্তু এখানের ছাত্র রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের হাতে।
স্কুলের শেষ এসেম্বেলিতে সবাই মিলে " আমার সোনার বাংলা গাইছিল " সেবারই তাদের উপর শান্তি কমিটির লাঠিয়াল বাহিনী ধারা সে মারাত্নক জখম হয়েছিল।
এইসব কথা ভাবতে ভাবতে মনে হলো, পিছনে কেও তার পিছনে রিভালবার ধরছে, এই প্রথম রিভালবারের স্পর্শ! ১৬ বছরের কিশোর আনোয়ার চিৎকার করার সুযোগ পেল না। তারে বেধে নদীর পাড়ের গ্রামের ভিতর নিয়ে এক ধানের গোলায় বন্ধী করা হলো।
হঠাৎ করে আনোয়ার তার মায়ের কথা ভেবে ভেবে কাঁদতে শুরু করলো।
অনেকক্ষণ পর বাইরে বন্ধু কালামের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, আনোয়ারের চোখ ঝকঝকে হয়ে উঠলো।
তার বন্ধু কালাম ঐ রিভালবার ওয়ালা মানুষটারে ওস্তাদ বলে সম্মান করতাছে দেখে, আনোয়ার কিছুটা অবাক হলো ।
কালাম ধানের গোলা খুলে দেখে এটা তো তারই বন্ধু আনোয়ার ! কিন্তু তার ওস্তাদ এভাবে বেধে রাখলো কেন?
পরে ওস্তাদরে কালাম যখন বলল, এই তো ওপার বাংলার যাত্রী।
তখন ওস্তাদ কিছুটা লজ্জিত অনুভব করছিল। কারণ সে ভেবেছিল আনোয়ার চাতরি ইউনিয়নের শান্তি কমিটির অনুচর হিসেবে নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিল।
পরে আনোয়ার জানতে পারে তাদের উপজেলার একমাত্র বাঙালি সেনাবাহিনী পাকিস্তান ক্যান্টারমেন্ট থেকে এখানে আসছে এবং তাদের ওপার বাংলাই নিয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেডিং এর জন্য।
আনোয়ার তখন মনে মনে বুঝতে পারছে যুদ্ধ তাহলে শুরু হচ্ছে আর যুদ্ধের ভয়াবহতা ইতিমধ্যে মানুষের জীবনের উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলাচ্ছে।
পরে ওস্তাদ সম্পর্কে জানতে গিয়ে সে আরও জানতে পারে, ২ দিন আগে যখন পাকিরা আক্রমণ করেছিল গ্রামে তখন তার বেশিরভাগ আত্নীয়কে মেরে ফেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে শোকে ওস্তাদ কিছুটা মেজাজি হয়ে উঠেছে।
[ উপরোক্ত ঘটনা চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে গল্প শুনা,( সময়ের স্বল্পতা থাকার কারণে তিনি পুরো কাহিনী বলতে পারে নি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




