somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হাবিব রহমানন
ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক চারিত্রিক সনদপত্র প্রাপ্ত

“ঢাকা অ্যাটাক” একটি মানসম্মত বাণিজ্যিক বাংলা চলচ্চিত্র!

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সিনেমাটি নিয়ে অনলাইন-অফলাইন দুই জায়গায়তেই প্রচুর আলোচনা হয়েছে। চারিদিকে এত মাতামাতি দেখে ভেবেছিলাম যত গর্জে তত বর্ষে না কিন্তু ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়ে সিনেমাটি বেশ ভাল লেগে গেলো। বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বারবার এমন ভুল প্রমাণিত হতেও আপত্তি নেই আমার। ভয়ঙ্কর সুন্দরের হতাশার পর দর্শকদের জন্য ঢাকা অ্যাটাক বড় ধরনের স্বস্তি বলা চলে। আমার অর্থ ও সময়ের সুবিচার হয়েছে।

সিনেমাটির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মধ্যে একটা টানটান উত্তেজনা তৈরি করে রাখা। সিনেমার প্রথম দৃশ্য দিয়েই কৌতূহল সৃষ্টি করে শেষ পর্যন্ত সেটা টেনে নিয়ে যাওয়াটা পরিচালকের মুন্সিয়ানা বলা যায়। সিনেমার প্রাথমিক গল্প সম্পর্কে ইতিমধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন। সন্ত্রাসীদের বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে একদল ফোর্সের উদ্যমী ও সাহসী তদন্ত এবং অভিযান নিয়েই মূলত সিনেমার গল্প।



লোকেশন, বোমা নিষ্ক্রিয়ন, পুলিশ প্রশাসনের একাডেমীক বিষয়গুলো বেশ মানানসয় ও কনভিন্সিং ছিল। আর অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা বলে ইমোশন কম ছিল এমন নয়। সিনেমায় রোমান্স ও আবেগের উপস্থিতিও ছিল।
সিনেমার টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখতে পারছিনা কেননা আমি এই বিষয়ে পারদর্শী নয়। তবে টেকনিক্যাল সেক্টর গুলোতে যে বেশ দক্ষ ও প্রফেশনাল মানুষজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেটা সিনেমার দেখার সময়েই টের পাওয়া যাবে। সাসপেন্সের দৃশ্য গুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পার্ফেক্ট ছিল। পাশাপাশি গান হিসেবে অরিজিৎ এর গাওয়া “টুপ টাপ” শ্রুতিমধুর ও আদিতের গাওয়া “পথ যে ডাকে” গানটি সিনেমাতে সঠিকভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাংলা সিনেমায় পুলিশের এত চমকপ্রদ প্রদর্শন সম্ভবত এই প্রথম দেখানো হয়েছে। পুলিশের নানাবিদ চৌকস ও ডিজিটাল কাজকর্মও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমাতে পুলিশ প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততাও ছিল।



অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় সিনেমার ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা তাসকিন রহমানকে নিয়ে। একটি অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাকে এক্সসাইটেড করার পেছনে নেতিবাচক চরিত্র তথা খলনায়কের অনেক অবদান থাকে। সে হিসেবে তাসকিনের চাহনী, ডায়লগ এবং অভিব্যক্তি দুর্দান্ত। সাইকো ভিলেন চরিত্রে এর চেয়ে ব্যাটার অপশন আর কেউ আছে বলে আপাতত মনে হচ্ছেনা। জাস্ট ব্রিলিয়েন্ট!



একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরিফিন শুভ নিঃসন্দেহে সেরা ছিল। সম্পূর্ণ সিনেমাতে তার আচার আচরণ বেশ প্রফেশনাল পুলিশ অফিসারের মতোই মনে হয়েছে। চতুর ও দক্ষ পুলিশ অফিসার চরিত্রে শুভকে বেশ মানিয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে বর্তমানে তার এমন অবস্থান সত্যি সে ডিজার্ব করে।
বিশেষ ম্যানশনযোগ্য এ বি এম সুমন। সোয়াট অফিসারের রোলে অসাধারণ অভিনয় করেছেন তিনি, বিশেষ করে সিনেমার শেষের দিকে তার এক্সপ্রেশন মুগ্ধকর ছিল। এ বি এম সুমনকে কাজে লাগাতে পারলে একজন বড় স্টার হওয়ার যোগ্যতা রাখে সে। সিনেমার সুমনের স্ত্রীর চরিত্রে “নওশাবা” পর্দায় অল্পক্ষণ থাকলেও ভাল অভিনয় করেছেন। আর শতাব্দী ওয়াদুদ ও শিপন বেশ ভাল ছিল। মাহিয়া মাহিকে নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই।

সিনেমায় সিনিয়র অভিনেতাদের মধ্যে সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর এবং আফজাল হোসেনের ক্যামিও তথা অতিথি চরিত্র ছিল। অল্প সময়ে পর্দায় উপস্থিত থাকলেও পুলিশের বড় অফিসার হিসেবে তাদের বেশ মানিয়েছে বলা যায়। ক্যামিও হলেও ওজনদার চরিত্র ছিল।



অবশেষে সিনেমার পরিচালক দীপঙ্কর দীপন ও রচয়িতা সানী সানোয়ারকে অভিনন্দন জানানো প্রয়োজন। হলে সিনেমা দেখার একটি বড় সুবিধা হচ্ছে তাত্ক্ষণিক দর্শক রিএকশন পাওয়া যায়। সিনেমা চলাকালীন সময়ে ও শেষ হবার পরে দর্শক রিএকশন দেখে মনে হচ্ছে সিনেমাটি বড়সড় হিট হতে যাচ্ছে। দীপঙ্কর দীপন ভারতের গুণী পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সুতরাং প্রতিভাবান মানুষ বলা চলে, সিনেমাতেও সেই পরিচয় দিয়েছেন।

সিনেমার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বিশেষ করে লিখারও কিছু নেই। আর কমার্শিয়াল ফিল্মের মানদণ্ডেই বিচার করেছি বলা চলে। সুতরাং গল্পের গভীরতা বা অন্যান্য জনরা মানদণ্ডে মাপাও অনুচিত। তবে বম্ব ব্লাস্টিং এর দৃশ্য গুলো আরো রিয়েলিস্টিক করা যেত। দেশীয় চলচ্চিত্র হিসেবে বাজেটের কথা ভেবে ছাড় দেয়া যায়।

মোটকথা এই ছিল ঢাকা অ্যাটাক নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অভিমত। “ঢাকা অ্যাটাক”-একটি মানসম্মত বাণিজ্যিক বাংলা চলচ্চিত্র, আপনাদের ভালো লাগবে আশা করি। সম্ভব হলে সিনেমাহলে গিয়ে দেখে ফেলুন। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×