somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হামীম প্রসেস
" যদি আপনার কথার মধ্যে নিরপেক্ষ থাকার ভঙ্গি, ভাল সাজবার ভান, বৈষম্য, মিথ্যা-চাতুরি, থাকে ।আর, স্বাধীনভাবে কথা না বলেন তাহলে আপনি , মানুষ সাজবার ভান করেন ।"অন্যের মেধা ও দুর্বলতা জানার জন্য মানুষ সম্পর্ক করার ভান করে ।

কেউ যদি পাকিস্থানের সম্মান ভালবাসা রক্ষার্থে তিন লক্ষ প্রমান করতে পারে ।তাহলে আমরা দেশকে ভালবেসে ত্রিশ লক্ষ চল্লিশ লক্ষ পঞ্চাশ লক্ষ প্রমান করে দিতে পারব ।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মুহুর্তে কোন বানী বা আয়াত নাজিল হলে বাঙ্গালীরা থামে কিনা কে জানে ।গর্ধবদের ভাল করেই বলা হয়েছে কোন দেশের যুদ্ধের সময়ে হতাহতের সংখ্যা পুরোপুরি নির্নয় করা সম্ভব না ।নিজে নিজেই কতটা পচতে পারে আজ তারা এ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।৪৪ বছর পরেও এদের কান্ড জ্ঞান হলো না ।তাদের পচা দেখে পশ্চিমের লোকেরা আজ আঙ্গুল উঠায়ে হাসে ।
.
মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা বের করার জন্য কেউ কেউ দেখি কঠিন কঠিন চেষ্টা করেছেন ।আজ ৪৪ বছর পার হয়েছে, তারা এটুকু চিন্তা করেও ঐ চিন্তা করতে গিয়েছে । কারোও কারোও টেনশান দেখে মনে হয় এ বিষয়ে এর আগে কেউ এনিয়ে লেখালেখি করেনি, চিন্তা করেনি, দেশে এব্যাপারে মাথা খাটানোর কোন লোক ছিলনা,বুদ্ধিজিবি ছিলনা ।
.
দুই আড়াইশো এরও বেশি ওয়েবসাইট আছে যেগুলোনে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি ও নিহতের সংখা গড় করে, জরিপ করে । বাঙ্গলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথাও ঐসব ওয়েবসাইটে আছে । ওয়েবসাইটগুলোতে মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা কোনটিতে দশ লক্ষ, কোনটিতে সাতাশ লক্ষ, কোনটিতে বিশ লক্ষ , কোনটিতে সাড়ে বাইশ লক্ষ, কোনটিতে ১৫ লক্ষ, কোনটাতে ত্রিশ লক্ষ উল্লেখ আছে ।তারমানে দুই আড়াশ ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেওয়া আছে ,কেউ কারো কোনটার সাথে মিল নাই আবার কোনটার সাথে মিল আছে ।
.
এতদিন যাবৎ বাংলাদেশে যুদ্ধে নিহতের সংখ্যার তারাও সঠিক চিত্র তুল ধরতে পারে নি ।কারন যুদ্ধের সময় এদেশ এতো উন্নত ছিলনা, প্রযুক্তি ছিলনা,উদ্দেগ নেওয়ার লোক ছিল না ।অর্থনৈতিক অবস্থা এতই খারাপ ছিল যার কারনে এদেশের লোক মনে করেনি এসবের কোন দরকার আছে ।মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সঠিক তালিকা নির্নয় ব্যয় বহুল কাজ ।একাজে অনেক লোকের শ্রম ও পারিশ্রমিকের ব্যাপার আছে ।সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশ এখনকার মত এত ঘনবসতি, বাড়ি, বিল্ডিং ছিল না, গোটা দেশটা সবুজ গাছ-গোছালিতে বনের মত হয়েছিল ।
.
অনেক দেশে যুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা গড় জরিপ করা সহজ হতেও পারে আবার অনেক দেশে অতিকঠিনও হতে পারে ।অনেক দেশ সমতল,তাদের হত্যাকান্ড হয়েছে খোলাখুলি ।অনেক দেশে হত্যাকান্ডে মাটিচাপা, লাশ গায়েব করার মত ঘটনা কম ছিল ।ঐ সমস্ত দেশগুলো উচু নিচু ঢাল,গাছগোছিল, ছিল কম ।লাশ পানিতে ভাষানোকে প্রয়োজন মনে করতেন না ঐদেশের শত্রু বাহীনিরা ।তাছাড়াও পৃথিবীতে এমন অনেক দেশে যুদ্ধ হয়েছিল যেগুলোনে জনসংখা কমছিল,যার ফলে তাদের নিহতের সংখ্যা নির্নয় মোটামোটি সম্ভব হয়েছিল ।তাছাড়াও তারা জাতি হিসেবে উন্নত ছিল ।
.
বাঙ্গলাদেশে স্বাধিনতা যুদ্ধ অনেক নির্মম নিপিড়িত, অত্যাচারের মাধ্যমে ঘটেছিল ।এদেশে অধিকাংশ গণহত্যা ঘটানোর পর সেগুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হতো ।কোন পরিবারে হামলা চালানো হলে ঐসব পরিবারের সকলকেই মেরে ফেলা হয়েছে ।যুদ্ধে হত্যাকান্ডের সময় কোন পরিবারের গবাদি পশু পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয় না এটা ক্লাশ ফোরের বাচ্চারাও ভাল করে যানে ।একটা দুইটা করে অনেক গুলো পরিবার শেষ করে দেওয়া হয়েছে ।এমনও ছোট ছোট গ্রাম ছিল যেগুল সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে ।গোটা পরিবার নিহত হলে যুদ্ধ পরবর্তিতে যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা জরিপের সময় ঐসব পরিবারের কেউ ছিলেন না যে নিবন্ধন করাবে ।যুদ্ধের সময় প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নৌকা ।পাকি বাহীনিরা মানুষ পরিপুর্ণ নৌকা ডুবিয়ে মেরেছেন ।কোন কোন জায়গায় মানুষের মাথা কেটে আলাদা জায়গায় আর শরীরের হাত-পা কেটে চোখগুলো উপড়িয়ে খাটো করে বস্তায় পুরে রেখেছিলেন ।সেসব লাশ কতগুলো ছিল নির্নয় করা সম্ভব হয় নি । দেড় কোটি শরনার্থির পরিবার প্রতি একটি মৃত্যু ধরে সাত লক্ষ নিহতের সংখ্যা পষ্ট অনুমান করা যায় ।
.
ঐ মুহুর্তে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কাছে অনেকগুলো গড় জরিপ উত্থাপন করা হয়, নিহতের সংখ্যা বিশ লাক, দশ লাক, পনের লাক, বাইশ লাক ,সাতাশ লাক, ত্রিশ লাক তখন কি কোন জাতি সৃষ্টিকারী নেতার পক্ষে কম বলা সম্ভব, নিহতের সংখ্যা দশ লাক । শেখ মুজিব যদি কমও বলতেন তাহলে আপনারাই সম্যসা বাধাতেন কেন তিনি কম বললেন ।আবার যদি মাঝামাঝি বলতেন তাহলে সমস্যা কম বেশি দুটোই বাধাতেন ।

যুদ্ধের সময়কার অনেক ভিডিও ছবি আজ দেখি ।মনে প্রানে বিশ্বাস করি আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধিন করেছি ।এখনকার মত যদি এত ক্যামেরা ইন্টারনেট থাকত তাহলে আমরা প্রমান করেই ছাড়তাম মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষ, চল্লিশ লক্ষ তারও বেশি ।কিন্তূ সমস্যা হলো অন্যখানে ।বাঙ্গালীর পাকি প্রেম ।বাঙ্গলাদেশে অনেক পাকি প্রেমিক-প্রেমিকা আছে যারা অন্ধভাবে পাকিস্থানকে ভালবাসে ।এরা ৭১এর ভিডিও ফুটেজ ও চিত্র দেখার পরে বলে এগুলো ভাইয়ে ভাইয়ে সামান্য মারামারি, রাগারাগি ।ভাইয়ে বোনে দুষ্টমি করেছিল ।পাকিস্থানীদের প্রতি বাঙ্গালীদের ভাল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির জন্য তারা আজ মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষকে তিন লক্ষ প্রমান করার চেষ্টা চালাচ্ছে ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×