somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গর্দভের গল্প ১ এবং ২

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গর্দভের গল্প ১
------------
চৈনিক ভ্রমণকারী দেশ –বিদেশে ভ্রমণ করেই তার দিন যাচ্ছে। একদিন ভ্রমণ করতে করতে পৌছে যায় আরব দেশে। সেখানে তপ্ত আরবের মরুভূমিতে পথ চলা দায়। অনেক কষ্ট, বালিরাশি বেজায় গরম। মাথার উপর উনুনের মত জ্বলছে সূর্যরশ্মি। পথচলা দায়। বালিরাশি উপর পা যায় না। অনেক চিন্তাকরে সে একটি গাধা ভাড়া করে। গাধার মালিক এই বলে ভাড়া দিল সে নিজেও যাবে গাধার সাথে। চুক্তি মোতাবেক ভাড়া পরিশোধ করা হল। গাধার উপর সওয়ার হয়ে চৈনিক একটূ আরাম পেল। পথ চলছে। সামনে এগুচ্ছে। দিনের প্রহর বাড়তে থাকে। ভরদুপুরে গাধার মালিক ও ভ্রমণকারি আলোচনা করে ঠিক করল তারা একটু ঝিরিয়ে নেমে। গাধার উপর থেকে চৈনিক নেমে এল। কোথায় ঝিরাবে। আশপাশে কোন গাছপালা নেই। ঝোপঝাড় নেই। দেখল গাধার একটু ছায়া তৈরি হয়েছে। এই ছায়ায় দাঁড়িয়ে আরাম করতে পারবে। অল্প জায়গা। কে দাঁড়াবে গাধার ছায়ায়। মালিক দাঁড়াল। কিন্তু ভ্রমণকারি চৈনিকের কথা হল, সে গাধা ভাড়া নিয়েছে সে দাঁড়াবে। মালিকের কথা পরিষ্কার, আমি গাধা ভাড়া দিয়েছি, গাধার ছায়া ভাড়া দেই নাই। এই নিয়ে বিরোধ। গন্ডগোল। হৈচৈ চলছে। তুমুল তর্ক বিতর্ক। হাতাহাতি,মারামারি হওয়ার উপক্রম প্রায়।
ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে একজন গাধাকে কিল ঘুষি দিতে আরম্ভ করে। মারের কারনে গাধা দেয় ভোঁ দৌড়। সেই সাথে তার ছায়াও নিয়ে যায়। কিন্তু দুইজনের ঝগড়া রেখে যায়।
আমাদের জীবনে আমরা অনেকেই ছায়ার সাথে যুদ্ধ করি। আসল জিনিস হারিয়ে যায় যুদ্ধের দামামায়। আমাদের দেশে রাজনীতিতে চলছে ছায়ার সাথে যুদ্ধ । আসল কাজের খবর নেই। দুই দলেরই ভাবখানা এমন দেশটা তাদের নিজ নিজ দলের। জনগণ সব তাদের পক্ষে আছে।কেউ ক্ষমতার মালিক আর কেউ তার ছায়া নিয়ে টানাটানি করছে। আসলে সবাই নিজের স্বার্থের কথা ভাবছে। বেচারা জনগণ!!!

গর্দভের গল্প ২
----------------
বন্য প্রাণীরা অনেক সময় ভাল কাজ করে। তাদের ভাল কাজের নমুনা মানুষ কে অনুপ্রানিত করে। তাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করে মানুষ তাদের মঙ্গলের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেক প্রাণী আছে যারা সমাজবদ্ধ জীবন করে। এতে মানুষের অনেক কিছু জানার আছে। যেমন কাক দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে ভালবাসে। একটা আহত হলে অনেক কাক সেখানে জড়ো হয়। কা কা করে নিজেদের ঐক্য জানান দেয়। একটা মানুষ রাস্তায় অর্ধমৃত হয়ে পড়ে থাকলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে না। পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আবার অনেক প্রাণীর কাজ মানুষ অনুসরণ করে জীবনের আদর্শ হিসাবে। আজকে এখানে এমনি একটি গল্পের প্লট তোলে ধরা হবে। একদিন বনের রাজা সমবেত হয়ে জানান দিল, আমাদের খাদ্য সংকট হচ্ছে তবে এই সংকট মোকাবেলা করার জন্য আমরা ঐক্য গড়ে তোলতে পারি। সিংহের সাথে ভয়ে কেউ যুক্তি তোলে ধরতে চাচ্ছে না। শেষে নিজের জীবনটা হারাতে হবে এই ভয়ে। আবার কেউ বিরোধীতাও করতে চাচ্ছে না। সবাই নীরব। অবশেষে চালাক শিয়াল এগিয়ে এল। নিজে চুক্তি ঐক্যের জন্য রাজি আছে। শিয়ালের দেখাদেখি বেচারা গাধা নিজেকে স্হির রাখতে পারেনি। নিজের সাথে নিজেকে প্রবোদ দিল আমি কেন পারব না? আমিও রাজি। চেঁচিয়ে জানান দিল আমিও রাজি।
কথামত তিন পশুর এক চুক্তি হল। সিংহ, শিয়াল আর গাধা। চুক্তি মোতাবেক;
এক) খাবারের জন্য তারা একে অপরকে সাহায্য করবে। দুই) শিকার ধরার জন্য একে অপরকে সাহায্য করবে। তিন) সারাদিন যে যা পাবে তা একসাথে করে ভাগ করে নিবে।
অত্যন্ত সরল চুক্তি। সবাই এই চুক্তি মেনে নেবার জন্য অঙ্গিকারবদ্ধ। কোন ঝামেলা হলে আলোচন করে মীমাংসা করবে। যাক চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করে যে যারা আবাসস্হলে চলে এল। দুইদিন পর...
সিংহ একটা শিকার পায়। সে প্রায় পুরোটা নিজের ভাগে রেখে দেয়। জংগলের বাইরে এসে শিয়াল কে পায়, একটু পর গাধা আসে। সিংহ বলে ধর আমি যা পেয়েছি তোমাদের মধ্য দিলাম। দায়িত্ব নিয়ে তোমাদের যা অর্জন, শিকার, সঞ্চয় আছে একসাথে কর। যেই কথা সেই কাজ। সবাই যার যার সঞ্চয় এনে একসাথে জড়ো করে। সিংহ গাধাকে ডেকে বলে ভাগ করে দাও। গাধার সরল মন। নিজে চুক্তি করেছে, অঙ্গিকার করেছে, সবাই কে সমান ভাগ দিবে। অত্যন্ত গণতান্ত্রিক। সে সব খাবার একসাথে ভালভাবে মিশিয়ে নেয়। সমান তিনটি ভাগ করে। নিজে প্রস্তাব দেয় আপনারা প্রছন্দ করুন, কে কোনটা নিবেন। সিংহ এই সমান ভাগ দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। রাগে চিৎকার চেঁচামেচি করে।পারলে গাধা গোগ্রাসে গিলে খেয়ে ফেলবে এমনি অবস্হা। বেগতিক পরিস্হিতি সামাল দিতে শিয়াল অনেক চেষ্টা করে। অনেকক্ষণ পর সিংহ শান্ত হয় কিন্তু চোখের তারায় তখনও আগুন জ্বলছে। গাধার কি অপরাধ! সে কিছু বুঝে উঠার আগেই এই পরিস্হিতি। সে নিজেকে বাঁচাতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করার মত কিছু বলতে পারছে না। যাক শেষে শিয়াল দায়িত্ব নেয়। খাবার নিজেদের জন্য ভাগাভাগি করতে।
শিয়াল প্রথমেই সব খাবার একসাথে করে। তারপর নিজদের জন্য সামান্য একটু খাবার রেখে দিয়ে বাকি সব খাবার সিংহের জন্য দিয়ে অত্যন্ত পুলকিত কন্ঠে সিংহকে ডাক দেয়। গলার আওয়াজ অত্যন্ত মায়াবি। আদরের ডাক শোনে সিংহ তাকায়। তার চোখে মুখে হাসির রেশ লেগে আছে। কিরে এত সুন্দর করে কিভাবে সাজালে। আগে এত এলমেলো ছিল। এখনতো দেখি অনেক সুন্দর করে সাজানো। দেখতেই সিংহের খাবার মনে হচ্ছে। এইভাগে ভাগ করার কৌশল কোথায় শিখেছিস? তুইত অনেক প্রজ্ঞাবান। জ্ঞানী প্রাণী বনে তোর মত চালাক চতুর বুদ্ধিবান প্রাণী থাকতে গাধারা কিভাবে এখানে আসে। এদের জন্য আলাদা জায়গা করে দেয়। বনে গাধাদের জন্য কোন জায়গা নেই। ইত্যাদি প্রশংসা শোনে শিয়াল মনে মনে ভাবে দরকার হলে এক সপ্তাহ না খেয়ে থাকবে, তবু নিজের জান বাঁচাতে সব খাবার সিংহ কে দিয়ে দিবে।
হঠাৎ আবার প্রশ্ন কিরে তুই কি করে এই সুন্দর ভাগ করলি,জিজ্ঞাসা করলাম উত্তর দিলে না?
মামা গাধার পরিস্হিতি দেখে নিজেই অনুমান করে নিয়েছি আমাকে কি করতে হবে? আমি পরিস্হিতি দেখে, পরিবেশ থেকে জ্ঞান অর্জন করি। উত্তরে সিংহ শুধু হুম! করে মাথা নাড়িয়ে স্বীকার করে নিল, পরিবেশ থেকেই শিখতে হয়।
এখন ভাবুন আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ি আর জনগনের ঐক্যের কথা। আমাদের দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি,ব্যবসা, বানিজ্য সবকিছুর মাঝে এই রকম ঐক্য চালু আছে। দেশে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম কতটুকু কার্যকরি হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। আমাদের দেশে চালু আছে বনের সিংহের সাথে অন্য প্রাণীদের বেঁচে থাকার চুক্তি। এখানে সিংহ সবকিছুর উপরে। আইন, সংসদ, সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছুই পদানত করা যায়। সাধারণ মানুষ যারা সমান অংশীদারিত্ব, আইন কানুন, রাষ্ট্রের চুক্তি মেনে চলে তাদের জীবনটাই গাধার মত হয়ে যায়। বেঁচে থাকা দায়!!! এইটাই সত্যি।আমাদের দেশে গণতন্ত্র মানে নেতার ইচ্ছা। আমাদের দেশে গণতন্ত্র মানে দেশের সব ক্ষমতা আমার। আমিই সব!! আমার দেশ, আমার মানুষ, আমার ব্যাংক, আমার ব্যবসা, আমার নদী,খাল বিল, আমার সোনার বাংলা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে চিনিয়ে আনা স্বাধীনতা সবই এখন আমিত্বের কবলে। গাধারা শুধু গণতন্ত্র ! আর গণতন্ত্র বলে চেঁচায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×