না। তার মরে যাওয়া কিংবা আত্মহত্যার সংবাদ কোনো জাতীয় দৈনিকে আসেনি; আঞ্চলিক পত্রিকাগূলোতে আসলেও আসতে পারে। যে দেশে, যে সমাজে, যে রাষ্ট্রে প্রতিদিন অসংখ্যা মানুষ মারা যায় অনাহারে, রাষ্ট্রীয় অথবা ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনে,অবহেলায়,আমাদের উদাসীন্যে, সেখানে কোন এক জেলা শহরের নিভৃতপল্লীর কেঊ শখ করে মারা গেলে তার খবর কেউবা রাখে?
সে আমাদের গ্রামের ছেলে। আমার চেয়ে বয়সে ৬-৭ বছরের বড়ো।আমার দাদার সময়ে -তাদের ও আমাদের পরিবার কাছাকাছি আত্মীয় আর এই সময়ের “দূর সম্পর্কের” আত্মীয়।কারনটা অবশ্য অর্থনৈতিক। তাদের পরিবারে অনেক সদস্য, তাদের সবাইকে দাখিলী মাদ্রাসায় পড়েছে;পড়তে হয়েছে। কারনটা ধর্মীয় নয়, অর্থনৈতিক অবশ্যই।মাদ্রাসা শিক্ষার প্রভাবে, এলাকার মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল্দের(যারা জামায়াতের আঞ্চলিক বিভিন্ন পর্যায়ের হর্তাকর্তা) আধিপত্যে, কিংবা টিকে থাকার মত একটি চাকরির আশায় সে “জামায়াত” করত।কিন্তু আমি তাকে “ঘৃনা” না হলেও অপছন্দ করতাম করতাম।যদিও গ্রামে যাওয়া হয়নি বহুদিন, গেলেও তার সাথে কথা হয়েছে কালে-ভদ্রে।তারপরও তাকে দূরে থেকে হলেও আমি অপছন্দ করতাম। যদিওবা জানতাম, তার বয়সীরা “বি,এন,পি-আওয়ামিলীগ” করে তারই মতো একটি ভালো চাকরির আশায় কিংবা হাতে “পাওয়ার” পাবার লোভে।
না, সে কোনো চাকরি পাইনি । তার জামাতী আদর্শের বা আনুগত্যের চেয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা (যদিও সে মাদ্রাসাশিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী “টাইটেল” পাস করেছিলো), জামাতী এস্টাব্লিশমেন্ট-এর কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছিলো।দাখেলী মাদ্রাসার আবরী-ফারশি পড়া আনস্মার্ট ছেলেদের চেয়ে “মানারাত ইন্টারন্যাশনাল” কিংবা ইস্লামিক ইউনিভার্সিটি অফ চিটাগঙ্গে পড়া ইংরেজিতে পারদর্শী চটপটে ছেলে-মেয়েরা তাদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষনীয়। এই ক্ষেত্রে জামায়াত অত্যান্ত সেক্যুলার,বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম-মাপকাঠিতে।তাই শত-শত জামায়াত সংশ্লিষ্টরা “ইসলামী ব্যাংক”-এ চাকুরী পেলেও তার ভাগ্যে কিছুই জ়োটেনি।এখানে-ওখানে স্বল্পবেতনের অস্থায়ী চাকরি তার ভাগ্যে কয়েকটা জুটেছিল বটে।কোন হাইস্কুল কিং বা মাদ্রাসায় কোন শিক্ষিকা মাতৃকালীন ছুটিতে গেলে সে তার পরিবর্তে “প্রক্সি” দিতো।
সে দ্রুত বয়স্ক হয়ে যাচ্ছিলো।সে দ্রুত বিবাহ করতে চাচ্ছিল্লো। কিন্তু উপার্জনহীন, মাদ্রাসা শিক্ষিত, প্রায় বেকার এক ছেলের সাথে কোন পিতা তার মেয়েকে বিয়ে দেবে বলুন? উপরন্তু সে ছিলো ঘোর কৃষ্ণ-বর্ণ এবং কেশহীন মস্তকধারী।
হতাশা, ব্যার্থতা, বেকারত্ব- এই শব্দগুলোর সাথে কেন জানি আমি শুধু শহুরে মধ্যবিত্তের যোগসুত্র খুঁজে পাই। “আত্মহত্যা সে তো একটা ফ্যাশন”, “ইম্ম্যাচুউর্ড মেন্টালিটির অপ্রত্যাবনযোগ্য আবেগী বহিঃপ্রকাশ”।মাঝে-মাঝে কৃষক-শ্রমিক-গার্মেন্টস্ শ্রমিকদের আত্মহত্যার খবর পত্রিকায় দেখি বটে তারপরেও আমাদের অন্ততঃ আমার ধারনার তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনা।
এই “আত্মহত্যা” টি আমার ভেতরে কোন পরিবর্তন আনতে পারবে? আমি কি আদৌ বুঝতে পারবো “হতাশা কিংবা বেকারত্ব্ব” কত ব্যাপকমাত্রায় এই দেশের প্রতিটি জনপদে, শহুরে কি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে? ব্যার্থতার যাতনা কত তীব্র হলে এক ধর্মনিষ্ট যুবক আত্মহত্যা করে যেখানে তার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বলছে “আত্মহত্যা মহাপাপ”।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


