somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মডার্ন জমিদার ও আমাদের রাজনৈতিক মেন্ডেট

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যদি বলি আমরা এখনো জমিদার আমলে আছি তাহলে হয়তো সবাই আমাকে পাগল ভাববে।১৯৫২ সালের কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর আওতায় এনে সকল জমিদারী সম্পদকে জাতিয়করণ করা হয়েছিল।বেশিরভাগ জেলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারী অফিস হিসেবে এসবের ব্যবহার হচ্ছে।আমার আজকের এই লেখা ওইসব সম্পদ ও তাদের মালিকদের নিয়ে নয়।আজ আমি অঘোষিত এক আধুনিক জমিদার নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব।

মানুষ যখন কোন সম্পদ অর্জন করে তখন সে তা নিরাপদে রাখতে চায় আর চায় তা থেকে সর্বোচ্চ লাভবান হতে।আমাদের বাংলাদেশে আমজনতার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় (সর্বশেষ আশ্রয় ও বলা যায়) হচ্ছে সরকার যাকে সহস্তে ভোট দিয়ে তারাই নির্বাচিত করে।কিন্তু আমাদের দেশে যেন এটা একটা রীতি হয়ে গেছে যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গুলো তাদের ক্ষমতা বদল করবে কিন্তু সাধারণ মানুষের সরকার বা সাধারণ মানুষের বিরোধী দল হয়ে উঠবে না।সরকারের কাছে যখন সাধারণ নাগরিক কিছু সঞ্চিত রাখেন তখন উভয়পক্ষের মধ্যে একটা চুক্তি হয় যেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সঞ্চয়ের বিনিময়ে কিছু সুবিধা দেয়ার কথা উল্লেখ থাকে।আগের দিনে জমিদাররাও একি পদ্ধতি আরেকটু নির্মমভাবে প্রয়োগ করতেন,তখন শর্তগুলো অনেক কঠিন থাকতো আর সবক্ষেত্রেই শাষক শ্রেণীর স্বার্থ প্রাধান্য পেত।সে আমলে যে অন্যায় অত্যাচার চলত তার বেশিরভাগের সাথে প্রজাদের উপর ধার্জ করা কর জরিত ছিল।ইংরেজ শাষকদের চাহিদা যখন বেরে যেত তখন অন্যায়ভাবে জমিদার শ্রেণী প্রজাদের উপর বাড়তি কর চাপিয়ে দিত।যে জমিদার যত বেশি নিষ্ঠুরতার সাথে এ কাজ সম্পাদন করতে পারত সে তত বেশি যোগ্য শাষক বলে বিবেচিত হত।

এবার এ যুগে ফিরে আসি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপর আলোকপাত করে।আমাদের দেশে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসে তখন সব রাজনৈতিক দলগুলো যার যার মত করে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন।দল ভেদে বেশিরভাগই একি কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে যে গুলো সাধারণত হয় কিছু জাতীয় সমস্যা যে গুলো ১৯৭১ থেকে এখনও চলে আসছে কোন সমাধান হয়নি এবং আদৌ হবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে সবসময় কিছু আশার বাণী (নাকি আরব্য রজনীর কোন রাজার দেখা স্বপ্ন) শোনান হয় যেগুলো আমাদের বর্তমান সম্পদ ও অর্থ দিয়ে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব।আর যখন তারা ক্ষমতা দখল করে ফেলে তখন এই 'প্রায় অসম্ভব' শব্দটাকে 'প্রায় একেবারে অসম্ভব' এ পরিণত করে।আর ঠিক তখন তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে থাবা বসান গরীব আর মধ্যবিত্তের কষ্টে উপার্জিত সম্পদের দিকে।অতীত বর্তমান সব সরকারই এ পন্থা অবলম্বন করেছেন এবং বর্তমানের চেয়ে অতীতে এটা আরো ভয়াবহ ছিল। বিভিন্ন মেয়াদে সঞ্চিত রাখা সম্পদ হতে যে ক্ষুদ্র অংশ আসতো তা দিয়েই হয়তো কোন পরিবারকে এই মুদ্রাস্ফিতির যুগে অনেক কষ্ট করে দিনযাপন করতে হত।সেখান থেকে একটা বিরাট অংশ সঞ্চয়ের শুরুতে করা শর্তের বাইরে কেটে নিলে এসব পরিবারের কি অবস্থা হতে পারে তা আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারব যদি জমিদার আমলের প্রাজাদের দুঃখ দুর্দশার কথা জানা থাকে।আজকে ২০১০ সালে এসে আমরা কী শত শত বছর আগের সেই প্রাজাদের চেয়ে খুব ভাল আছি?প্রশ্নটা আসলে কাকে করলাম আমি নিজেও জানি না।আমাদের অবস্থাটাই এখন হয়ে গেছে এমন আমরা কিছুই জানিনা,জানতে চেষ্টাও করিনা।

পরিশেষে বলতে চাই দেশে কারো সম্পর্কে কিছু বলার আগেই যেভাবে মামলা হয়ে যাচ্ছে তাতে করে কিছু বলতে আসলে ভয় ই লাগে।তবুও অনেক সাহস সঞ্চয় করে এতটুকু না বলে পারলাম না।কারো খারাপ লাগলে আশা করছি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×