somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''শত্রুরও যাতে চিকনগুনিয়া না হয়''

১০ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ছবিটি সম্প্রতি রাজধানির লাল্বাগ এলাকা থেকে তোলা।
পৌনে দু মাস আগে গায়ে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে কলাবাগান এলাকর বাসিন্দা হারুন অর রাসিদ এর। প্রথমে ভেবেছিলেন সাধারন জ্বর। কিন্তু দুদিন পরেয় শরিরে প্রচণ্ড ব্যাথা। আর জ্বরও কমেনা। ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা। চিকিৎসকের কাছে যেতেই যোড়ের ধরন দেখে চিকিৎসক বললেন তার ছিকনগুনিয়া হয়েছে।
এই জ্বরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হারুন অর রাসিদ বলেন, কিযে প্রচণ্ড ব্যাথা তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। হাত-পায়ের গিরায় গিরায় ব্যাথা। পরে ব্যাথা ছড়িয়ে পরে রগেও। ঘুম থেকে উথলে ব্যাথায় পায়ের তলা মাটিতে ফেলা যায় না। স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা টাইম লাগে। পৌনে দুমাস আগে হলেও এখনও ব্যাথা আছে। ব্যাথা এক এক দিন এক এক যায়গায়। এখনও সেরে উঠিনি। কাথালবাগান আরেক বাসিন্দা কাজ করেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁর হাসপাতালে গত কয়েকদিন ধরে চিকনগুনিয়ার রোগী আসতে থাকে। এখন তিনি নিজেও এই জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বলেন ঈদ এর দশ দিন আগে আমার জ্বর আসে। উপসর্গ দেখেই বুঝেছি আমার চিকনগুনিয়া হয়েছে। তারপরও নিশ্চিত হতে চিকিৎসক এর কাছে যাই। চিকিৎসক জানালেন চিকনগুনিয়া হয়েছে। চিকিৎসক বিভিন্ন পদের ট্যাবলেট আর তরল খাবার খাওার পরামর্শ দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। সাত থেকে আট দিন পর ছুটি কাটানোর পর গতকাল অফিসে যাওয়া শুরু করেছি। কিন্তু বসে থাকতে ভীষণ কষ্ট হয়।’
কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা সামসুর রহমান এক সপ্তাহ আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। এই রোগের ভয়াবহতা বোঝাতে তিনি বলেন, এক কথায় অসহ্য যন্ত্রণা। একসঙ্গে জ্বর, পাতলা পায়খানা, বমি, গা ব্যথা, খাবারে অরুচি। এক সপ্তাহে সারা শরীর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এত দিন ভোগার পর এখন কিছুটা সুস্থ বোধ করছি। কিন্তু ব্যথা আছে সারা শরীরে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে এই রোগে অনেক দিন ধরে ভুগতে হচ্ছে। আমার কোনো শত্রুরও যেন এ রোগ না হয়। ভয়ংকর ব্যথা। সহ্য করা যায় না।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) সরকার চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত মানুষ সেখানে এসে রক্ত পরীক্ষা করছে। গুলশান ১ থেকে এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মো. পলাশ। তিনি বলেন, গত শনিবার থেকে তীব্র ব্যথা আর জ্বর। টেলিভিশনে দেখলাম এখানে বিনা মূল্যে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তাই এখানে এসেছি। কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানালেন, এখানে নিয়মিত চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি জানালেন, এ পর্যন্ত মুঠোফোনের হট লাইনের মাধ্যমে ৪৮১ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
গ্রিন রোডের ওষুধ ফার্মেসি মেডিসিন ওয়ার্ল্ডের বিক্রেতা মো. সারওয়ার বলেন, গত দেড় মাসে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন চিকুনগুনিয়ার রোগী ওষুধ কিনতে এসেছে। তবে ইদানীং কিছুটা কমেছে।
চিকুনগুনিয়ার রোগের লক্ষণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এ রোগের মূল উপসর্গ হলো জ্বর এবং অস্থিসন্ধির ব্যথা। শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে প্রায়ই ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়, তবে কাঁপুনি বা ঘাম দেয় না। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, গায়ে লাল লাল দানার মতো র‍্যাশ, অবসাদ, অনিদ্রা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, এমনকি ফুলেও যেতে পারে। তীব্র অবসাদ, পেশিতে ব্যথা, অস্থিসন্ধির ব্যথা ইত্যাদি জ্বর চলে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, এমনকি মাসের পর মাসও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা প্রদাহ থাকতে পারে; যা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম করে তোলে। রোগী ব্যথায় এতই কাতর হন যে হাঁটতে কষ্ট হয়, সামনে বেঁকে হাঁটেন। রোগের চিকিৎসার কথা বলতে গিয়ে এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এর চিকিৎসা মূলত রোগের উপসর্গগুলো নিরাময় করা। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি বা অন্যান্য তরল খেতে দিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। এর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। তীব্র ব্যথার জন্য অন্য ভালো ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। রোগীকে আবার যেন মশা না কামড়ায়, এ জন্য তাঁকে মশারির ভেতরে রাখাই ভালো। কারণ, আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড় দিয়ে কোনো সুস্থ লোককে সেই মশা কামড়ালে ওই ব্যক্তিও এ রোগে আক্রান্ত হবেন।
প্রতিরোধের কথা বলতে গিয়ে এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, চিকুনগুনিয়া জ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই, কোনো ভ্যাকসিন বা টিকাও নেই। তাই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং মশা নির্মূল করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাসাবাড়ির আশপাশে যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, তা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ডাবের খোসা, কোমল পানীয়ের ক্যান, ফুলের টব—এসব স্থানে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দরজা-জানালায় নেট লাগানো, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার। জেনে রাখা ভালো, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা এবং ঘরের বাইরেই বেশি কামড়ায়।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১০:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×