somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ছেলের গল্প...

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটা ছোটবেলায় খুব ইমোশনাল ছিল।সবাই বলতো তার নাকের ঢগায় রাগ।অল্পতেই ইমোশনাল হয়ে যেত। এখনো যে নেই তা কিন্তু না।তবে জীবনের বাঁকে বাঁকে ধাক্কা খেতে খেতে তা অনেকটা অক্কা পেয়েছে।আসলে জীবনে অনেক ধরণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তো তাকে যেতে হয়েছে।

ছেলেটিকে নিয়ে পরিবারের অনেক আশাই ছিল।কিন্তু ১২ বছরের শিক্ষাজীবনেই দুই দুই বার ফেল করে সবাইকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে।ইন্টারে চরম বাজে রেজাল্ট করে হতাশা জনক পুরো একটা বছর কাটিয়ে নিজের মধ্যেই গুটিয়ে গেছে।অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। এই জীবনেই প্রিয় ৩টা মানুষের মৃত্যু দেখেছে।
ইন্টারে থাকতে MLM কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে সবার অমতে বাবার ৫ হাজার টাকা একপ্রকার নষ্টই করেছে যা তাকে এখনো অপরাধী করে রেখেছে ফ্যামিলি থেকে এটা নিয়ে কিছু না বললেও।
একসময় ছেলেটি সবাইকে মেন্টাল সাপোর্ট দিত যাতে সে খারাপ সময়টা পেরোতে পারে। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই তাকেই একসময় অন্যের সাপোর্ট নিয়ে চলতে হয়েছে।খারাপ সময়ে একজন মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন থাকে তা একমাত্র সেই মানুষটাই জানে যে ঐ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছে।

এই বয়সেও নিজের পকেট খরচটাও নিজে চালাতে পারে না এটা তাকে খুব কষ্ট দেয়।এটা সব সময় তাকে খোঁচতে থাকে।সবসময় চেষ্টা করে বাবার উপর থেকে চাপটা কমাতে কিন্তু যখন সেটা পারেনা তখন তার কষ্টই লাগে। জানেন,ছেলেটা আগে খুব মজা করতো।একাই পুরো আড্ডা মাতিয়ে রাখতে পারতো। আর এসব করতে গিয়েই অনেকের কাছ থেকে অনেক কথাই শুনেছে।তাই এখন এসব বন্ধ করে দিচ্ছে। আগে ছিল বক্তা আর এখন হয়ে শ্রোতা। ভালই আছে এখন...

কষ্টগুলো সব সময় নিজের মধ্যেই রাখে।কাউকে কখনো বুঝতে দেয়নি নিজের ভিতরের জমানো কষ্টগুলোকে। সবসময় ফানি মুডে থেকে সবাইকে বিশ্বাস করিয়েছে সে খুব সুখী ছেলে। কতদিন যে ঘুমানোর সময় বালিশ ভিজিয়েছে তা কিন্তু কাউকে টের পেতে দেয়নি এমনকি পাশে শুয়ে থাকা বড়ভাইকেও না।

ছেলেটা অনেকের জন্য অনেক কিছুই করে দিয়েছে কিন্তু ফলাফল শূণ্য।সে এখন বুঝতে শিখেছে একতরফা কোন কিছুই ভাল নয়।
ছেলেটা সব সময় ভাবে সে এখনো নিজেকেই চিনতে পারে নি।তাই এমন কিছুর খোঁজ করছে যা তাকে " নিজেকে " চিনাবে।তার ভিতরের শক্তিটাকে চিনাবে,তা কাজে লাগাতে সাহায্য করাবে।এমন একটি জগত্‍ যেখানে তার নিজেকে রাজা মনে হবে...

ছেলেটা একটু স্বাধীনচেতা।কেউ তার উপর খবরদারি করবে, তার উপর কিছু চাপিয়ে দিবে এটা তার খুবই অপছন্দ।কিন্তু এটাই তারসাথে বেশি হয়....(চলবে)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×