somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারেক কাহিনী - ১: ক্ষমতার শেখরে আসা, হাওয়া ভবন স্থাপন

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

*- ২০০১ এর নির্বাচন ৩৪ বয়স্ক তারেককে লাইম-লাইটে নিয়ে আসে - ‘তারেক তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’

*- তিনি প্রত্যেকটা জেলা সফর করেন সেই সময়, তৃণমূল ও তরুন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।

*- তারেক রহমান তরুন নেতৃত্বের প্রতিজ্ঞা নিয়ে গুলশানে দুইতলা বিশিষ্ট হাওয়া ভবনে একটি অফিস স্থাপন করেন যা কিনা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসবাদের প্রতিশব্দ হয়ে দাড়ায়।


তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার ছায়ায় বড় হয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যেত না। আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায়, বিএনপি কিছুটা অবিভাবকহীন, দিকশুন্য। রাজনৈতিকভাবে বেশ দুর্বল। সে সময় হঠাৎ করেই তারেক রহমান দলকে সেই অবস্থা খেকে উদ্ধার করতে ও দলের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আর্বিভূত হন। নির্বাচনের জন্য দলীয় ইসতেহারসহ অন্যান্য দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। তিনি তার টীম তৈরি করলেন এবং কাজ করে যেতে লাগলেন। নির্বাচনের কৌশল হিসাবে তারেক তখন বিএনপি ও জামায়াতের সাথে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐকজোটের মধ্যে একটি জোট গঠন করা বিষয়টি দেখভাল করতেন। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জেলা সফর করেন, তৃণমূল ও তরুন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০০১ এর নির্বাচনে তার ক্যারিশমা কাজে লাগলো এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক ‘নতুন জিয়া’ হয়ে উঠেন।

বাকিটা ইতিহাস। মধ্য তিরিশে এত সাফল্য তাকে অহংকারী করে তুলে। তার জন্য সবকিছুই সম্ভব ও সহজ ছিল। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কোন বাধায় ছিল না। কিন্তু তিনি অহংকারী হয়ে দমনমূলক, দুর্নীতিবাজ ও আক্রমণাত্মক পথে পরিচালিত হলেন যা শেষ পর্যন্ত কয়েক বছরের মধ্যেই দলের শেষ ডেকে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করে।

নির্বাচন ৩৪ বয়স্ক তারেককে লাইম-লাইটে চলে আসেন। তারেক রহমান তরুন নেতৃত্বের প্রতিজ্ঞা নিয়ে গুলশানে দুইতলা বিশিষ্ট হাওয়া ভবনে একটি অফিস স্থাপন করেন। সেসময় তাদের স্লোগান ছিল ‘তারেক তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ এবং ‘মোদের নেতা তারেক জিয়া’। উল্লেখ্য, দলীয় নেতা কর্মীরা তার নামের শেষে তার বাবার নাম ‘জিয়া” যোগ করে দেয়। বিএনপি পার্টি অফিসের দেয়ালে লেখা থাকত “জিয়াউর রহমান ছিল আমাদের নেতা, খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমান হবে আমাদের নেতা”। কোন সন্দেহই ছিলনা যে এট একটা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারবাহিকতা মাত্র।

তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই হাওয়া ভবন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসবাদের প্রতিশব্দ হয়ে দাড়ায়।

তারেক হাওয়া ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসতেন। সেখানে তিনি শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানাতেন এবং বিএনপির রাজনীতির প্রয়োজনীতা সম্পর্কে তাদেরকে কনভিন্স করার চেষ্টা করতেন। দলের সিনিয়র নেতারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার নেতৃত্ব মেনে নেন এবং জানতেন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন এই তরুন নেতার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল তা দলে যতই তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান থাকুক না কেন সেগুলোর কোন মুল্য নেই। আক্ষরিক অর্থে তারা "বাঁধা হাতে" এবং "যথাযথ সম্মান" দিয়ে তার সাথে কথা বলতে শুরু করে, এমনকি তার কৌশলগুলোর দুর্বলতাগুলিও তুলে ধরার সাহস পেতা না। বিএনপির নেতৃত্ব এই ত্রিশের কোঠার যুবকের হাতে আবদ্ধ হয়ে যায়।

২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৯৩ আসনে জয়ী হয় এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে সরকার গঠন করে। তারেক এই অর্জনের কৃতিত্ব নিয়ে আত্মসুন্তুষ্টিত ভুগতে থাকে তবে সেই গৌরব ম্লান হতে সময় লাগেনি।


চলবে হয়তো
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩২
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×