*- ২০০১ এর নির্বাচন ৩৪ বয়স্ক তারেককে লাইম-লাইটে নিয়ে আসে - ‘তারেক তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’
*- তিনি প্রত্যেকটা জেলা সফর করেন সেই সময়, তৃণমূল ও তরুন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।
*- তারেক রহমান তরুন নেতৃত্বের প্রতিজ্ঞা নিয়ে গুলশানে দুইতলা বিশিষ্ট হাওয়া ভবনে একটি অফিস স্থাপন করেন যা কিনা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসবাদের প্রতিশব্দ হয়ে দাড়ায়।
তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার ছায়ায় বড় হয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যেত না। আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায়, বিএনপি কিছুটা অবিভাবকহীন, দিকশুন্য। রাজনৈতিকভাবে বেশ দুর্বল। সে সময় হঠাৎ করেই তারেক রহমান দলকে সেই অবস্থা খেকে উদ্ধার করতে ও দলের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আর্বিভূত হন। নির্বাচনের জন্য দলীয় ইসতেহারসহ অন্যান্য দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। তিনি তার টীম তৈরি করলেন এবং কাজ করে যেতে লাগলেন। নির্বাচনের কৌশল হিসাবে তারেক তখন বিএনপি ও জামায়াতের সাথে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐকজোটের মধ্যে একটি জোট গঠন করা বিষয়টি দেখভাল করতেন। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জেলা সফর করেন, তৃণমূল ও তরুন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০০১ এর নির্বাচনে তার ক্যারিশমা কাজে লাগলো এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক ‘নতুন জিয়া’ হয়ে উঠেন।
বাকিটা ইতিহাস। মধ্য তিরিশে এত সাফল্য তাকে অহংকারী করে তুলে। তার জন্য সবকিছুই সম্ভব ও সহজ ছিল। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কোন বাধায় ছিল না। কিন্তু তিনি অহংকারী হয়ে দমনমূলক, দুর্নীতিবাজ ও আক্রমণাত্মক পথে পরিচালিত হলেন যা শেষ পর্যন্ত কয়েক বছরের মধ্যেই দলের শেষ ডেকে নিয়ে আসে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করে।
নির্বাচন ৩৪ বয়স্ক তারেককে লাইম-লাইটে চলে আসেন। তারেক রহমান তরুন নেতৃত্বের প্রতিজ্ঞা নিয়ে গুলশানে দুইতলা বিশিষ্ট হাওয়া ভবনে একটি অফিস স্থাপন করেন। সেসময় তাদের স্লোগান ছিল ‘তারেক তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ এবং ‘মোদের নেতা তারেক জিয়া’। উল্লেখ্য, দলীয় নেতা কর্মীরা তার নামের শেষে তার বাবার নাম ‘জিয়া” যোগ করে দেয়। বিএনপি পার্টি অফিসের দেয়ালে লেখা থাকত “জিয়াউর রহমান ছিল আমাদের নেতা, খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমান হবে আমাদের নেতা”। কোন সন্দেহই ছিলনা যে এট একটা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারবাহিকতা মাত্র।
তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই হাওয়া ভবন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসবাদের প্রতিশব্দ হয়ে দাড়ায়।
তারেক হাওয়া ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসতেন। সেখানে তিনি শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানাতেন এবং বিএনপির রাজনীতির প্রয়োজনীতা সম্পর্কে তাদেরকে কনভিন্স করার চেষ্টা করতেন। দলের সিনিয়র নেতারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার নেতৃত্ব মেনে নেন এবং জানতেন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন এই তরুন নেতার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল তা দলে যতই তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদান থাকুক না কেন সেগুলোর কোন মুল্য নেই। আক্ষরিক অর্থে তারা "বাঁধা হাতে" এবং "যথাযথ সম্মান" দিয়ে তার সাথে কথা বলতে শুরু করে, এমনকি তার কৌশলগুলোর দুর্বলতাগুলিও তুলে ধরার সাহস পেতা না। বিএনপির নেতৃত্ব এই ত্রিশের কোঠার যুবকের হাতে আবদ্ধ হয়ে যায়।
২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৯৩ আসনে জয়ী হয় এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে সরকার গঠন করে। তারেক এই অর্জনের কৃতিত্ব নিয়ে আত্মসুন্তুষ্টিত ভুগতে থাকে তবে সেই গৌরব ম্লান হতে সময় লাগেনি।
চলবে হয়তো
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


