somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুগে যুগে চিকিতসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা(পর্ব-১)(ট্রিভিয়া পোস্ট)

০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুগে যুগে মানুষ নানাভাবে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে আরোগ্য লাভ করার জন্য উপায় উদ্ভাবন করে চলছে । প্রাচীনকালে মানুষ বিশ্বাস করত যে অসুখ-বিসুখকে স্রষ্টার অভিশাপ মনে করত । সময়ের চাকা গড়ানোর সাথে সাথে নতুন নতুন রোগ যেমন আবিস্কার হয়েছে, তেমনি বিজ্ঞানীরা নানা জটিল রোগের প্রতিরোধ করার উপায় আবিস্কার করেছেন । চিকিতসাবিজ্ঞান কেমন করে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছুল???

১০০০০খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চিকিতসাশাস্ত্রের অগ্রযাত্রার ক্ষুদ্র বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম ।

১০০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দঃ
ইউরোপ ও আমেরিকায় ট্রিপানিং নামক এক প্রকার অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করা হত । মানুষের মাথার খুলিতে ফুটো করে দেয়া হত । কারণ, প্রাচীন ্মানুষেরা অশুভ আত্মাকে অসুখ-বিসুখের জন্য দায়ী বলে মনে করত । তাদের বিশ্বাস ছিল এভাবে ফুটো করলে খারাপ আত্মা ঐ পথ দিয়ে বেরিয়ে যাবে । ফ্রান্সে প্রাচীন ১২০টি মাথার খুলি পাওয়া গিয়েছিল, এর মাঝে ৪০ খুলিতে এভাবে ফুটো করা ছিল । এই পদ্ধতিটিকে প্রাচীনতম সার্জারি হিসেবে অনেকে বিবেচনা করেন ।


শিল্পীর চোখে ট্রিপানিং

২৭০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দঃ
এই সময়ের ইতিহাসের প্রথম নামকরা ডাক্তারের আবির্ভাব ঘটে । প্রাচীন মিশরের ইমহোটেপ নামক এক ব্যাক্তি রোগ সারাই কুরে খ্যাতি অর্জন করেন । জানা যায়, তাকে পররবর্তীতে ‘ঈজিপসিয়ান গড অব মেডিসিন’ বলেও মান্য করা হয়েছিল ।




ইমহোটেপের প্রতিকৃতি


১০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দঃ
এসময় ইন্ডিয়াতে শল্যচিকিতসার অনুশীলন করা হত । সার্জনরা এম্পুটেশন(কোন রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংগ-প্রত্যঙ্গের অপসারণ), স্কিন গ্রাফট(চামড়ার টিস্যু প্রতিস্থাপন ও চোখের ছানি কাটা ইত্যাদি অপারেশন করতে পারতেন ।

৪০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দঃ
গ্রীক চিকিতসক হিপোক্রেটস “হিপোক্রেটিক অথ” এর ধারণা প্রদান করেন ।

২ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দঃ
চায়নাতে এক ধরণের চিকিতসা চালু হয় । এতে চামড়া ছিদ্র করে রোগ সারানোর চেষ্টা করা হত । এটি “আকুপাংচার” নামে পরিচিত ।


মিং ডাইনাস্টির সময়ের আকুপাংচার চার্ট

১৩০ সালঃ
একজন মানুষের মন মেজাজ দেহের অভ্যন্তরের চার প্রকার তরলের ওপর নির্ভর করে- ১৩০ সালে গ্রীক ফিজিশিয়ান গ্যালেন এমন একটি ধারণা প্রদান করেন । এই ধারণাটিকে "দি ফোর হিউমার" ও বলা যেতে পারে । তবে বর্তমান চিকিতসাবিজ্ঞান এ ধারণা সমর্থন করে না ।


"দি ফোর হিউমার" বিষয়ক একটি ছবি

১০২৫ সালঃ
কিংবদন্তী চিকিতসক ইবনে সিনা(৯৮০-১০৩৭) "কানুন ফিত-তিব" নামক গ্রন্থ রচনা করেন । এই বইটি "এনসাইক্লোপিডিয়া অব মেডিসিন" নামেও খ্যাত ।



"কানুন ফিত-তিব" এর একটি পাতা

১৩০০ সালঃ
মানুষের দেহ থেকে রক্ত চুষে নেয়ার জন্য জোঁক শরীরে ছেড়ে দেয়া হত । কিছু কিছু রোগের কারণ অতিরিক্ত রক্ত- এমন ধারণা থেকেই জোঁক-চিকিতসা করা হত ।

১৫৪৩ সালঃ
আন্দ্রে ভেসালিউস(১৫১৪-১৫৬৪) মানুষের দেহের প্রথম নিখুঁত এনাটমির চিত্র আঁকতে সমর্থ হন । তাঁর একাজের উপকরণ ছিল চুরি করা মৃতদেহ!






ভেসালিউসের আঁকা এনাটমি


১৫৯০ সালঃ ডাচম্যান জেকারিয়া জ্যান্সেন কম্পাউন্ড মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কার কুরেন ।

১৬০০খ্রিষ্টাব্দঃ দক্ষ্ণ আমেরিকায় ম্যালেরিয়া সারানোর অন্য কুইনাইন ব্যবহার করা হত ।

১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দঃ ইটালিয়ান চিকিতসাবিদ স্যাঙ্কটোরিয়াস(১৫৬১-১৬৩৬) থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন ।

১৬২৮ খ্রিষ্টাব্দঃ প্রথম চার্লস এবং প্রথম জেমসের চিকিতসক উইলিয়াম হার্ভে(১৫৭৮-১৬৫৭) মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনের ধারণা প্রদান করেন ।

১৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দঃ
অলন্দাজ বিজ্ঞানী আন্থনি ভন লিউয়েনহুক(১৬৩২-১৭২৩) ব্যাকটেরিয়া আবিশকার করেন ।

১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দঃ
ব্রিটিশ ডাক্তার এডোয়ার্ড জেনার স্মলপক্সের প্রতিষেধক টিকা আবিস্কার করেন ।

১৮০০ খ্রিষ্টাব্দঃ ইটালিয়ান ফিজিসিস্ট ভোল্টা(১৭৪৫-১৮২৭) পেশীর ওপর ইলেক্ত্রিসিটির প্রভাবের ব্যাপারে আলোকপাত করেন ।

১৮০৫ খ্রিষ্টাদঃ
আফিম থেকে মরফিন নামক পেইনকিলার পৃথক করা হয় ।

১৮১৬ সালঃ ফরাসী ডাক্তার রেঁনে লেনেঁক(১৭৮১-১৮২৬) কাগজ দিয়ে স্টেথোস্কোপ তৈরির প্রচেষ্টা চালান ।

১৮৪৪ সালঃ হোরয়াস ওয়েলস(১৮১৫-১৮৪৮) লাফিং গ্যাস(নাইট্রিক অক্সাইড)কে সাধারণ চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করেন ।

১৮৪৬ ও ১৮৪৭ সালঃ ইথার ও ক্লোরোফরম যথাক্রমে আমেরিকান ডেন্টিস্ট উইলিয়াম মর্টন ও স্যার জেমস সিম্পসন চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করেন ।

১৮৪৯ সালঃ প্রথম মহিলা হিসেবে আমেরিকার এলিজাবেথ ব্ল্যাকোয়েল মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হন ।


এলিজাবেথ ব্ল্যাকোয়েল

(চলবে, অনেক ছবির কারণে দুই পর্বে দিতে হচ্ছে)

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ও সংগ্রহ
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×