পুরোনো যে কোন স্থাপত্য সবসময়ই আমারে কেন যেন টানে খুব। পুরোনো ঐ দেয়ালগুলোতে হাত বুলাতে খুব ভালো লাগে আমার। ছুঁয়ে দিতে দিতে বারবারই আমার মনেহয়, আহারে এই জায়গাটাতেই কত না হৈ চৈ ছিলো একসময়, দেখিনি, তবু অনুভব করার চেষ্টা করতআম সেই সময়টা। ছোট বেলা থেকেই খানজাহান আলির দরগা আর ষাটগম্বুজ মসজিদের সাথে পরিচয় পারিবারিক কারনেই। আম্মুর পীর ভক্তির কারনেই তার সাথে ঐ দরগা আর মসজিদে গিয়েছি বহুবার। স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের সাথে পিকনিক, বা কখনো খুব মনখারাপ হলে একা সাইকেল চালিয়ে চলে যেতাম দরগার দীঘির পাড়ে, অথবা ষাটগম্বুজ মসজিদের ঐদিকটায়। মনভালো হতো অন্তত।
তারপর শেকরের সাথে যোগাযোগ কমার সাথে সাথে ষাটগম্বুজ যাওয়া হয়নি বহুদিন। হটাৎ একদিন কিছু বন্ধুদের দেখাতে নিয়ে গেলাম আমাদের এই বিখ্যাত মসজিদটা। কিন্তু গিয়ে নিজেই চিনতে পারছিলাম না মসজিদের ভিতরটা। ষাটগম্বুজ মসজিদ নিয়ে যাদের একটু জানা শুনা আছে, তারা হয়ত জানেন মসজিদের ৭৭ টা গম্বুজ যে ৬০ টা পিলার বা থামের উপর দাঁড়িয়ে আছে তা সম্পূর্ন পাথরের তৈরী, কালো কালো পাথর, পাথরগুলো একটার উপর আরেকটা রেখে বানানো। আমি দেখলাম মসজিদের ভিতরটা পুরাটা সিমেন্ট-বালির আবরনে (প্লাস্টার করে) ঢেকে দেয়া হয়েছে। সেই পুরোনো কালো পাথরের চিহ্ন খুঁজে পেলাম মাত্র একটা পিলারে। বাকি সব সুন্দর গোলাপি রংয়ে ঢাকা। হ্য়ত সুন্দর লেগেছে অনেকের চোখে, কিন্তু আমি কষ্ট পেয়েছিলাম খুব। মন খারাপ করে বেরিয়ে এসেছিলাম মসজিদের ভিতর থেকে।
পানাম নগরের সংস্কারের ক্ষেত্রেও এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনারগাঁয়ের পরিবেশবাদী লেখক ও সাহিত্যিক শমসুদ্দোহা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সংস্কারে পানাম নগরের নকশা ও আদিরূপ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
আমার বুক কেঁপে উঠলো। সংস্কারের নিচে চাপা পড়ে যাবে কি আদি আরেকটা আদি প্রিয় ঐতিহ্য!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






