-আজ অফিসে যেতে হবে না?
ইরাকে হাত ধরে টান দিয়ে বুকে নিয়ে নিতেই ইরা কথাটা বলল।
আমি মাথাটা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে ইরার নাকে নাক লাগালাম।
ইরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। খুব কাছে থেকে তাকালে এক অন্য অনুভুতি হয়,যেটা চোখ বলে দেয়।
আমি বললাম
-আজ অফিসে না গেলে হয় না?
-একদম ফাঁকিবাজি না।
-নতুন বিয়ে করেছি। এখন অফিস ফাকি দিলে তেমন কিছু হবে না।
-কেন! অফিস কি তোমার শ্বশুর এর?
-তা হলে ভালই হত। তাহলে তোমার সাথে সময় কাটানোর জন্য সময় পেতাম।
কথাটা বলতেই ইরার মুখে যেন একটা গোমড়া ভাব চলে এল। বিয়ের আগে আমি'ই তাকে এই গোমড়া মুখ দেখাতে বলেছিলাম। নিয়মিত অফিসে দেরি হয় বলে তাকে বিয়ে করেছি।
তাকে শর্ত দিয়েছি "অফিস যেতে না চাইলে তুমি জোড় করে আমাকে অফিসে পাঠাবে। লাগলে রাগ করবে "। কথাটা বলার আগে ভাবি নি, কথাটা বলা ভুল ছিল।
ইরা আমাকে জোড় করে ওয়াশরুমে নিয়ে এল। এখন বুঝছি প্রেমিকার চেয়ে বউ এর প্রতি মায়া একটু বেশি।
ওয়াশরুম থেকে খাবার টেবিলে এসে খেতে শুরু করলাম। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে ইরা আমাকে ডেকে বলল
-শুভ। আমি তোমার ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি। তুমি রেডি হও।
ব্যাগ গুছিয়ে দিতে দিতে আমি ততক্ষণে কাপড় পরে নিলাম। অফিসের ব্যাগ দিয়ে ইরা আমাকে অফিসে যেতে বলল।
ইরা দরজা থেকে বিদায় দিয়ে ভিতরে যাচ্ছিল। আমি হাত টেনে ধরে দেয়ালে ঠেকিয়ে দিলাম তাকে। তার লিপিস্টিক মাখা ঠোট থেকে কিছুটা লিপিস্টিক আমার ঠোটেও চলে এল।
ইরাকে ছেড়ে দিতেই ইরা বলল
-তুমি এত অসভ্য কেন!!
-বউ এর সাথে একটু আধটু করতে হয়।
-এখন অফিসে যাও।
ইরা আমার ঠোট থেকে লিপিস্টিক মুছে দিল।
অফিসে যেতে চাইলেও যেন যেতে চাইছি না। বিয়ে মানে শুধু বিয়ে না। বিয়ে মানে দুজন কাছাকাছি আসা। দুজন কাছাকাছি এসে মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া। যেটা বুঝতে গিয়ে আরো মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



