somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুন
The best and most beautiful things in the world cannot be seen or even touched - they must be felt with the heart---Helen Keller

আমরা ও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভালোবাসা আর নিষ্ঠুরতা

২২ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সে অনেক অনেক দিন আগের কথা, আমি তখন ছোট আমার পিঠেপিঠি ভাইবোনরাও ছোট ছোট। আমি আগেও বলেছি আমার আব্বা উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হলেও তার মনটি ছিল অনেক নরম আর সবুজ। যেমন ন্যায়বান, তেমনি ধার্মিক, তেমনি স্মার্ট আবার তেমনি সাহিত্য প্রিয়। আব্বা খুব সৌখিন ছিলেন, আমাদের বাসায় যেমন প্রচুর গল্পের বই ছিল সাথে ছিল নানা রকম ফুল-ফলের গাছ। এ ছাড়াও ছিল বিদেশি কুকুর, বিড়াল, টিয়া, ময়না, হাস, আর মুরগীর দল। বড় বড় মুটু মুটু মোরগ-মুরগীগুলো ছিল বিখ্যাত লেগহর্ন জাতের। এই মুরগী পরিবারে আব্বা কোথা থেকে যেন উপরের ছবির মত দুটো বড় বড় মোরগ এনেছিল। তাদের অসাধারণ সৌন্দর্য নিয়ে তারা গর্বিত ভংগিতে আমাদের বাসার পেছনের ঘেরা দেয়া উঠানে ঘুরে বেড়াতো আর খানিক বাদে বাদেই কোকোর কো বলে ডাক দিয়ে উঠতো।
আমাদের প্রিয় মোরগ দুটোকে দেখলেই সদ্য বানান করে পড়া মোরগ আর খেকশেয়ালী উপকথার ছড়াটা মনে পড়তো। ভাইয়া একটু বড় ছিল বলে আমাদের দলে থাকতো কম। আমরা তিন ভাই বোন হাতে চাল নিয়ে বারান্দার রেলিং এ ভর দিয়ে সেই উপকথার ছড়া বলতাম,
"মোরগ ভায়া,মোরগ ভায়া
মাথায় ঝুটি, হলুদ ছায়া,
তেল চুকচুক তোমার গা
রেশমি তোমার দাড়িটা,
জানলা দিয়ে মুখ বাড়াও
মটরশুঁটি নিয়ে নাও "
মোরগ গুলো কাছে না আসলে ছড়াটার বাকি অংশ বলতাম
"ছড়িয়ে দিলাম গমের দানা,
মুরগীরা সব খুটে খেল,
পায়না কেন মোরগগুলো"!
এরপর কোকর কো কোকর কো করতে করতে মোরগদুটো এসে আমাদের ছিটানো চাল খেত। একবার ঈদের সময় আব্বা আম্মা সিদ্ধান্ত নিল বাইরে থেকে কেনা কিছু মুরগীর সাথে একটা মোরগ জবাই করা হবে। আমরা কিছু জানিনা হঠাৎ মোরগের চিল চিৎকারে আমরা ছুটে আসলাম। কি ব্যাপার জবাইর জন্য আলী ভাই আর আমাদের গৃহকর্মীর হাতে মোরগ। আলী ভাইর হাতে ছুরি। আমরা সাথে সাথে এমন কান্না জুড়ে দিলাম যাকে বলে মড়াকান্না। পাড়া প্রতিবেশীদের ছুটে আসার অবস্থা। আমার ছোট ভাইতো মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাদছে। এমনকি আমার বড় ভাইও খেলা ফেলে হাজির। আমাদের এই অবস্থা দেখে দুই বার ধরে দুই বার ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন আব্বা।

আমার এত কাহিনীর মুল বিষয় হলো সেদিন একটা ভিডিও দেখছিলাম, তাতে নায়ক হলো উপরে ছবির মত এক মোরগ এক সবুজ ঘাসের উঠানে চরে বেড়াচ্ছে সাথে অদেখা দুজন মানুষের কন্ঠ। শুনে মনে হলো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক আর একজন নিতান্তই বাচ্চা মেয়ে শিশুর কচি কন্ঠ। মোরগটা দেখেই শিশুটি বলে উঠলো, ওকে আমি খাবো,বাবা ওকে আমি খাবো আমি বিস্মিত এবং ব্যাথিত হয়েছিলাম ঐটুকু ভিডিও দেখে। পুরোটা দেখার ইচ্ছে হয় নি। আমাদের কিশোর সন্তানরা কুকুর জবাই করে মাংস বিক্রি করছে। অকারণে ঢিল মেরে পাখির বাসা ভেংগে বাচ্চাগুলোকে পা দিয়ে চেপে মারছে!
আমরা পশ্চিমাদের বকাবকি করি, তাদের অনুভূতিহীন হার্টলেস বলি, কিন্ত কিছু কিছু ভিডিওতে দেখি ক্রিসমাস বা কোন উপলক্ষে বাবা মায়েরা বাচ্চাদের বিড়াল বা কুকুর ছানা উপহার দিলে তারা খুশিতে কাদতে থাকে।

এসব দেখে আজ কদিন ধরে আমার শুধুই মনে হচ্ছে আমরা আমাদের সন্তানদের কি শিখাচ্ছি! আমরা কি একদল কঠিন হৃদয় আর দয়ামায়াহীন নিষ্ঠুর সন্তানদের রেখে যাচ্ছি এই ধরনীতে!!

ছবি নেট।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ সকাল ১১:১৬
৩৫টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×