আমার আগের পোস্টের লিংক--http://www.somewhereinblog.net/blog/KALBELA007/29236413
আমার আগের পোস্ট নিয়ে এ যাবৎ যারা মন্তব্য রেখেছেন তা থেকে ক'টি বিষয় তুলে নেয়া হল এই লেখায়---।
১) ফারাক্কার জলের প্রশ্ন--
২) সীমান্তের কাঁটাতার--বি এস এফ--- ইত্যাদি
৩) বাংলাদেশ নিয়ে মাথা না ঘামানোর পরামর্শ----
১) ফারাক্কার পরিকল্পনা ও কাজ দুটোই পাকিস্তান আমলের । পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংগে আলাপ আলোচনায় এবং জল/পানি চুক্তির মাধ্যমে দু'দেশই সম্মত হয়েছে কে কতটা জল পাবে। এনিয়ে সরকারী স্তরে যোগাযোগ বা মনিটরিং সবসময় চলে । আমরা ধরে নিই যে একটা দেশের সরকারী স্তরে সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আছেন । ধরা যাক এক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও নদী বিশেষজ্ঞরাও আছেন । তা হলে ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় তাদের পর্যবেক্ষণ কী বলে ? ব্যক্তিগত ভাবে আমি, যদিও বিশেষজ্ঞ নই, তবু এই ধরণের নদী বেঁধে দেয়ার পক্ষপাতি নই। সেটা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যে পর্যায়েরই নদী হোকনা কেন। আর ফারাক্কায় যেটা করা হয়েছিল বা যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল তা সফল হয়নি ব'লেই আমার মনে হয়। কারণ কলকাতা বন্দর যা আসলে একটি নদী বন্দর, তাকে জল ঢেলে বাঁচানোর পরিকল্পনাটাই পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে ব'লে আমার ধারণা । আর একটি বন্দর বাঁচাতে গিয়ে যদি প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, বা প্রতিবেশী ভূখন্ডে মরুভূমির অবস্থা তৈরি হয় তবে তা অবশ্য অবশ্যই পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে । প্রকৃতি অনুযায়ী কলকাতা নদী বন্দরত চিরস্থায়ী হতে পারেনা । পরবর্তীতে নির্মিত হলদিয়া বন্দরেরও এখন প্রায় একই হাল । অবশ্য বিষয়টা যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি হয়ে যায় তখন এর ভুত ভবিষ্যৎ সত্যাসত্য খুবই জটিল হয়ে পড়ে । সমাধান ক্রমে সরে সরে যায় । তার জায়গা নেয় সর্বগ্রাসী ক্ষমতার লোভ । ফলে আমরা ব্লগে যারা এসব নিয়ে যুদ্ধ করবো ব'লে ভাবি তাদের অনেকটা হাওয়ায় তরবারি চালানোর মত হয়ে যায়।
২) সীমান্তে কাঁটাতার নিয়ে একজন মন্তব্যে লিখেছেন এটা খুব "অপমানজনক'। এই উক্তির সংগে আমি সহমর্মী । কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি আমার এই সহমর্মীতা মূল্যহীন। এরজন্য অনেক কটুকথা পড়তে হবে। অবশ্য গালাগালি কটুকথা---ইত্যাদি নিয়ে আমি খুব ভাবিত নই। কারণ আমি সেই কাপুরুষদেরই কেউ---যা আমার আগের রচনাটিতে আছে। প্রশ্ন হলো আমরা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণেরও কেউ নই । আমরা শুধু তার আলোচনা সমালোচনা করি। এখানে আমি এই কাঁটাতারের বেড়ার কারণ নিয়ে বলতে চাইনা। বলতে চাই বেড়াত দূরের কথা বাংলাদেশের সংগে ভারতের সীমান্ত অবাধ রাখা উচিৎ--যেমন নেপাল ভুটানের সংগে আছে। এবং পাসপোর্টভিসাহীন যাতায়াতের সুবিধাসহ । হ্যাঁ বি এস এফ নামক প্রহরীরা সীমান্ত পাহারা দেয় । তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তের দুপার থেকেই অভিযোগ শোনা যায়। এর বাস্তবতা আছে নিশ্চই। কিন্তু খুব সম্প্রতি আমার নিজের প্রত্যক্ষ করা একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা এখানে রাখার ইচ্ছা জাগছে---। এই সেপ্টেম্বরেই একটা সাপ্তাহান্তিক ভ্রমনে গিয়েছিলাম পঃবঙ্গের টাকি শহরে। শহরটি একেবারে ইছামতির গা'ঘেঁষে । আর ইছামতির ওপারটাই বাংলাদেশের সাতক্ষীরা---তথা খুলনা জেলা। নদীটিতে দুদেশেরই নৌকা যার যার দেশের পতাকা লাগিয়ে ঘোরাফেরা করে । তবে নদীর মাঝ বরাবর একটা কাল্পনিক সীমারেখা মেনে। প্রথম দিনই আমরা যখন নদীর পার বরাবর বেড়াচ্ছিলাম দেখছিলাম আমাদের পাশাপাশি বি এস এফ নামক প্রহরীরা সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দিচ্ছে। তো হঠাৎই দেখলাম একটা ঘাটে বেশ ভীড় ---সেখানে কজন বি এস এফ নামক প্রহরীও উপস্থিত। কিন্তু তাদের বেশ হাসি হাসি মুখ। আমাদের পর্যটক ভেবে আমাদের দিকে তাকিয়েই হিন্দিতে বলছে--মছলি--মছলি দেখিয়ে-হিলসা মছলি---। দেখলাম নৌকার মাঝি এক ব্যাগ ইলিশ মাছ নিয়ে ভীড় সরিয়ে একজন বি এস এফ এর পেছন পেছন হাঁটা শুরু করেছে। শুনলাম সে বি এস এফ এর মেসের দিকে যাচ্ছে। পুরো ঘটনা জানলাম পরদিন যখন আমরা ইছামতীতে ঘুরব বলে একটা নৌকা ভাড়া করলাম। দেখালাম নৌকার মাঝি গতদিনের দেখা সেই ইলিশ মাছ বাহক। তাকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল যে সে প্রায়শঃই ওপারে বি ডি আর ক্যাম্পে যায়। এবার সে এপার থেকে বি এস এফ এর দেয়া এক ব্যাগ ভর্তি সিডি নিয়ে গিয়েছিল আর তার বিনিময়ে ওপারের সাহেবরা সেই ব্যাগ ভর্তি করে ইলিশ পাঠিয়েছে এপারে। শুনে আমরা কিছুটা অবাকই হলাম। ভাবলাম সব দুঃসংবাদের মধ্যে এটুকু সৌহার্দের সংবাদ থাক ।
৩) কেউ একজন বাংলাদেশ নিয়ে মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দিয়েছেন । যাঃ এ আবার হয় নাকি ? বাংলাদেশ এই গ্রহেরই একটি ভূখন্ড, এই মহাদেশেরই একটি দেশ, এমনকি আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং পঃবঙ্গের এক বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্মভূমিও বটে। সেই সুত্রে আপনারা আমাদের দ্যাশের মানুষ, ভাইবেরাদর । আপনারা কেউ কেউ হয়তো নানা আছিলায় এসব অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু আমরা কেউ কেউ পারিনা ।
--------------------------------------
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


