প্রতিটি মানুষের উত্তরণ শিশু অবস্থা থেকে। মানব শিশু নিষ্পাপ। শিশু অবস্থায় মানুষের চিন্তা বা চেতনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোন প্রেম বা ভালবাসার অনুভূতি থাকে না। তথাপিও একটা শিশু, তা মানব শিশু বা অন্য কোন প্রাণীর শিশুই হোক না কেন সে তার মায়ের সকল স্পর্শ ও অনুভূতির বারতা বা ছোঁয়া টের পায়। কারণ কিছু কিছু অনুভূতি সৃষ্টিকর্তা মানুষ বা জীব সৃষ্টির সাথে সাথেই দিয়ে দিয়েছেন।
বয়োঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে মানুষের সকল ইন্দ্রিয় সজাগ ও সচেতন হতে শুরু করে। মানুষের মস্তিষ্ক মানব দেহের যাবতীয় কার্যকলাপ তথা ইন্দ্রিয় ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সকল কাজ এবং মনের আবেগ, অনুভূতি ও কল্পনা সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে থাকে। মানুষের মস্তিষ্ক দুটো অংশে বিভক্ত- ডান ও বাম অংশ। বাম অংশ সর্বদা সচল। এই অংশ মানুষের ইন্দ্রিয় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্ত কার্যকলাপ যেমন কথা, কাজ, মেধা, শক্তি, যৌন আচরণ বা কাম ক্ষু ধা ও বৈষয়িক সকল চিন্তা ভাবনার বিস্তার ও নিয়ন্ত্রন সাধন করে। ডান অংশ প্রেম, ভালবাসা, আবেগ, অনুভূতি, মনন, ঘুম, স্বপ্ন ও কল্পনার যাবতীয় বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করে। একজন বুদ্ধিমান মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র 15 থেকে 20 শতাংশ খরচ করতে পারে। সুতরাং বোকাদের বেলায় মস্তিষ্ক ব্যবহারের পরিমাণ 10 শতাংশেরও কম।
একটা মানুষের মেধার নাকি প্রায় সবটাই বিকশিত হয় তার শৈশবেই- তিন বছরের মধ্যেই। বাকি সারাটা জীবন মানুষ তার ঐ মেধার লালন ও পরিচযর্া করে। তাই একটা বোকা মানুষ হাজার চেষ্টা করেও কখনও নিজেকে অতিরিক্ত চালাক বানাতে পারে না। আবার যে চালাক সে চট করে বোকার ভান করতে পারলেও কখনই বোকাতে রূপান্তরিত হতে পারে না। ক্লাশের সবচাইতে পড়ালেখায় খারাপ ছাত্রটি হঠাৎ করেই প্রথম হবার কথা চিন্তা করতে পারেনা।
সুতরাং বলা যায় স্বভাবতই কেউ চাইলেই তার মনে প্রেম বা ভালবাসা এসে লুটিয়ে পড়ে না। আবার অনেকের জীবনে না চাইতেই প্রেম-ভালবাসা বাসা বাঁধে। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। আর এই কারণগুলোই সব কিছুতে রহস্যের পদর্া টেনে দেয়। কারও মনে প্রেম বা ভালবাসার সৃষ্টি হতে পারে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সহজাত আকর্ষণের কারণে। কারও প্রতি ভালবাসা জন্মাতে পারে তার অনেক ছোট ছোট ভাললাগার অনুভূতি থেকে। ঐ সব ছোট ছোট ভাললাগা তার প্রতি প্রচন্ড ভালবাসার জন্ম দিতে পারে। প্রেমের সকল অনুভূতি গ্রন্থিত হতে পারে কারও কোন বিশেষ গুণে মুগ্ধ হয়ে বা ব্যক্তিত্বের অমোঘ আকর্ষণে। কারও প্রতি বিশেষ দুর্বলতা বা মনোদৈহিক টান কারও মনে ভালবাসা জাগাতে পারে। কারও রূপ বা ভেতরের সৌন্দর্য থেকেও কারও প্রতি ভালবাসা জন্মাতে পারে। আর এই আকর্ষণ আরও তীব্র ও ঘনীভূত হয় যখন নারী ও পুরুষ বয়সের একটা বিশেষ ধাপ অতিক্রান্ত হয়। যৌবন নিঃসন্দেহে সেই বিশেষ ধাপ। তবে একথা অনস্বীকার্য প্রেম কোন বয়স মানে না। কোন জাত কুল ধর্ম মানে না। প্রেম অন্ধ, পথ চলে সাদা ছড়িতে ভর করে নয় মনের কথার উপর ভর করে।
নারী ও পুরুষের আকর্ষনের আলোছায়া খেলা প্রতিনিয়ত বর্তমান। তবে তা নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত হয় ধর্মীয় আদর্শ ও রীতিনীতি দ্বারা। পরিশীলিত হয় সামাজিক ও পারিবারিক অনুশাসন ও প্রথা দ্বারা। অলংকৃত হয় শিক্ষা, সংস্কৃতি, রুচি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দ্বারা। আবার অন্যভাবে দেখা যায় প্রেম ইতিহাসে ঠাঁই পায় করুণ পরিণতি দ্বারা। লোক মুখে চর্চা হয় বিরহ দ্বারা।
সুতরং পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বা টান, পারস্পারিক অবস্থান, সম্পর্ক, নিভৃতচারিতা, গোপনীয়তা ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক বিষয়াদি প্রেম বা ভালবাসার মধ্যে কামভাব জাগ্রত বা মনের নিয়ন্ত্রনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তখন ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবেই মানুষ দেহগত চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করে। এখানে মনের কিছুই করার থাকেনা। আর যেখানে মনের বিরুদ্ধে কামভাব উপসমিত হয় সেখানে ভালবাসা বা প্রেম থাকেনা। বিবাহ তেমন একটা সামাজিক ও ধমর্ীয় অনুশাসন যা নারী পুরুষের সহাবস্থানকে একটা গ্রহনযোগ্য রূপ দিয়েছে। প্রেম ভালবাসা এখানেই কামের সাথে সন্ধি স্থাপন করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



