কিশোর নীলান্ত
মেঘনাদের জন্য শোক
(আহমদ ময়েজ সাগ্নিক পুরুষ)
মাঝ রাতে মাতোয়ালা চাঁদে বৃষ্টির খেলা দেখে ত্রিনয়ন প্লাবিত হয় পবিত্র জলোচ্ছাসে। পবিত্র হয় হৃৎপিন্ডের হৃদয়। ধারালো বাতাস বসন্তের আগমনি গান শোনাবার আগে স্নান সেরে নিয়ে বেহালার খোঁজে শৈলাবাসে আস্তানা গাড়ে। আমাদের পাড়ার চৌধুরী কুটিরে আসে একদল সী-গল, তাদের পালকে সমুদ্রের নোনা ঘ্রাণ। অনেকে ইতিমধ্যে জেনে যায় সী-গল সমাচার। আশে পাশের ভীড়ে হতবিহ্ববল সী-গল ঝরাপাতার ছটফটানিতে তাদের কালের পাপ স্মরণে চকচকে চক্ষুগুলি নিয়ে বরফ ঠান্ডার ঘরে সেধিয়ে যায়।
আমার স্মরণে আসে বহুকাল আগের সোনারঙ রোদের গায়ে কালো হরিণের ছায়া, আমি ফিরে যাই পাথর সময়ে, খসখসে দিনের গানে, পিষে নেবার জাঁতাকল, ক্রুরতার হাসি মাখা ঘুরন্ত সংসার, লক্ষ্মী সরস্বতী যমজ দু’বোনের লড়াই। তারি মাঝে কখনো কখনো ফাল্গুনের ফল্গুধারা। বোনদের লড়াইয়ের মাঝে বিধাতার নীরব চেয়ে থাকা যেন ‘এ দায় ভার বহিবার নয়’। অতপর রঙ বা অক্ষর দুই’য়ের মিলিয়ে যাওয়া অলিকের মায়ায়। ‘যতক্ষন শ্বাস ততক্ষন আশ’ প্রগৌতিহাসিক এমন কটাক্ষ আমাকে ভাটির পথে চালিয়ে নিয়ে পৌছে দেয় অভয় আশ্রমে। সিধ্বিদাতা গনেশের আর্শিবাদে তেল পাত্রে চুবানো হয় দেহ। আমার নতুন দীক্ষা, বীক্ষামন্ত্রে সিদ্ধিলাভ ঘটে আমার। তেল শাস্ত্রের কায়দা কানুন রপ্ত করে আমি হয়ে উঠি তেল শাস্ত্র বিশারদ। লক্ষ্মীর সাথে নিকাহ্ বন্ধনে আবদ্ধ হলে ধুলায় গড়াগড়ি খায় সরস্বতীর পবিত্র কিংবা অপবিত্র নোংরা শরীর।
একদিন ট্রয় নগরী ধ্বংশের কারণ জেনে লংঙ্কার রাবনের মত মন হাহাকার করে উঠে, বিভীষন যদি আঁতুর ঘরে অক্কা পেতো ইতিহাসে মেঘনাদ লব ও কুশের ভাইয়ের মর্যাদায় প্রতিষ্টিত হতো, আর সীতাদের লক্ষন রেখায় আটকানোর নিয়মের কথা ভাবতে হতো না কারো।
সংসারের নুন জীবনে এলাচ দানা লবঙ্গ গোল মরিচের এমন সুখ সহ্য হয়নি বেশীদিন। সুখী মানুষের দুঃখ খোঁজা পায়ে পামসু হাতে মোজা। বাজার রান্নাঘর কালিঝুলি ঘরকন্না অনিয়মিত নিয়তির দু’চালা ঘরের ব্যালকনি এসব থেকে অনেক উপরে ঠিক আকাশের কাছে আমি পৌছে যাই গোবর গনেশের আর্শিবাদে। শীর্ষের স্বাদ আটকাতে পারেনা আমার হৃদয় বা হৃদয়ের চৌখাট। গনেশেরা আসলেই গোবর সমতুল্য, মস্তিস্ক্যের কোষে মগজের চিহ্ন নেই কোন। তারা রাখেনা রামায়নের রাবন ও তার অপূর্ব লংঙ্কার ছবি- পবিত্র হৃদয়ের সত্যনিষ্ট মানবতাবাদি মেঘনাদের চিৎকার মানুষের পরতে পরতে। আমিও সারা জীবন শুধুই মেঘনাদ হতে চেয়েছি।
ভীড়ের লোলুপ দৃষ্টির মাঝে নোনা ঘ্রাণ সী-গল বড্ডো অসহায়। তেল মরিচ লবন এবং সুস্বাদু সী-গলের রান ডাইনিং টেবিলের মনোরম নান্দনিক দৃশ্য ভুলানোর জন্য হাত জোড় করে আমি শুধু তাদেরে মানুষের পবিত্র হৃদয়ের কথা বলতে চেয়েছি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


